কণিকা কাব্যগ্রন্থের অচেতন মাহাত্ম্য কবিতা [ Ocheton Mahatmyo Kobita ] – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘অচেতন মাহাত্ম্য’ কবিতাটি কাব্যগ্রন্থ কণিকা-র অন্তর্গত একটি গভীর ভাবনামূলক রচনা। এই কবিতায় কবি মেঘকে উপলক্ষ করে অচেতন প্রকৃতির অন্তর্নিহিত মহিমা ও রহস্য তুলে ধরেছেন। বিপুল জল আর ভয়ংকর বিদ্যুৎ ধারণ করেও মেঘ যেভাবে শান্ত, স্নিগ্ধ ও নীল রূপে আকাশে ভেসে চলে, তা কবির বিস্ময়ের কারণ। কবি প্রশ্ন করেন—কীভাবে এত শক্তি ও সম্ভাব্য ধ্বংস ধারণ করেও প্রকৃতি এমন সংযম ও সৌন্দর্য বজায় রাখে। মেঘের গম্ভীর গর্জনের মধ্য দিয়ে প্রকৃতি যেন জানিয়ে দেয়, এতে কোনো আশ্চর্য নেই—এটাই তার স্বাভাবিক নিয়ম। কবিতাটি সংযম, নীরব শক্তি এবং অচেতন সত্তার গভীর মহিমার এক সুন্দর কাব্যিক প্রকাশ।

অচেতন মাহাত্ম্য কবিতা [ Ocheton Mahatmyo Kobita ] – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

হে জলদ, এত জল ধ’রে আছ বুকে

তবু লঘুবেগে ধাও বাতাসের মুখে।

পোষণ করিছ শত ভীষণ বিজুলি

তবু স্নিগ্ধ নীল রূপে নেত্র যায় ভুলি।

এ অসাধ্য সাধিতেছ অতি অনায়াসে

কী করিয়া, সে রহস্য কহি দাও দাসে।

গুরুগুরু গরজনে মেঘ কহে বাণী,

আশ্চর্য কী আছে ইথে আমি নাহি জানি।

 

 

মন্তব্য করুন