রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর কাব্যভুবনে ক্ষুদ্র কবিতাগুলোর একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। তাঁর কাব্যগ্রন্থ কণিকা সেই ধারার এক অনন্য উদাহরণ। কণিকা মূলত ছোট ছোট কবিতার সংকলন হলেও এর প্রতিটি কবিতা গভীর জীবনদর্শন, মানবমনস্তত্ত্ব এবং আত্মিক উপলব্ধিতে সমৃদ্ধ। এই গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ প্রেম, বৈরাগ্য, মুক্তি, স্বার্থত্যাগ ও আত্মবোধের মতো চিরন্তন বিষয়গুলোকে সংলাপধর্মী ও রূপক ভাষায় উপস্থাপন করেছেন। “অনুরাগ ও-বৈরাগ্য” কবিতাটি সেই ভাবনাধারারই একটি উজ্জ্বল নিদর্শন, যেখানে প্রেম ও বৈরাগ্যের মধ্যে দর্শনগত বিতর্ক রূপ পেয়েছে কাব্যের ভাষায়।
কাব্যগ্রন্থ : কণিকা
কবিতার শিরনামঃ অনুরাগ ও-বৈরাগ্য
অনুরাগ ও বৈরাগ্য কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রেম কহে, হে বৈরাগ্য, তব ধর্ম মিছে।
প্রেম, তুমি মহামোহ–বৈরাগ্য কহিছে–
আমি কহি, ছাড়্ স্বার্থ, মুক্তিপথ দেখ্।
প্রেম কহে, তা হলে তো তুমি আমি এক।