অন্ধজনে দেহো আলো , পূজা ১১৪ | Ondhojone deho alo

অন্ধজনে দেহো আলো | Ondhojone deho alo  গানটি  পূজা  পর্বের একটি গান | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৫টি গান রচনা করেছিলেন।ধ্রুপদি ভারতীয় সংগীত, বাংলা লোকসংগীত ও ইউরোপীয় সংগীতের ধারা তিনটিকে আত্মস্থ করে তিনি একটি স্বকীয় সুরশৈলীর জন্ম দেন।রবীন্দ্রনাথ তার বহু কবিতাকে গানে রূপান্তরিত করেছিলেন।

অন্ধজনে দেহো আলো , পূজা ১১৪ | Ondhojone deho alo

রাগ: ভৈরবী | তাল: কাহারবা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1292
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1885

 

অন্ধজনে দেহো আলো :

অন্ধজনে দেহো আলো, মৃতজনে দেহো প্রাণ–

তুমি করুণামৃতসিন্ধু করো করুণাকণা দান ॥

শুষ্ক হৃদয় মম কঠিন পাষাণসম,

প্রেমসলিলধারে সিঞ্চহ শুষ্ক নয়ান ॥

যে তোমারে ডাকে না হে তারে তুমি ডাকো-ডাকো।

তোমা হতে দূরে যে যায় তারে তুমি রাখো রাখো।

তৃষিত যেজন ফিরে তব সুধাসাগরতীরে

জুড়াও তাহারে স্নেহনীরে, সুধা করাও হে পান ॥

তোমারে পেয়েছিনু যে, কখন্‌ হারানু অবহেলে,

কখন্‌ ঘুমাইনু হে, আঁধার হেরি আঁখি মেলে।

বিরহ জানাইব কায়, সান্ত্বনা কে দিবে হায়,

বরষ বরষ চলে যায়, হেরি নি প্রেমবয়ান–

দরশন দাও হে, দাও হে দাও, কাঁদে হৃদয় ম্রিয়মাণ ॥

AmarRabindranath.com Logo 252x68 px White অন্ধজনে দেহো আলো , পূজা ১১৪ | Ondhojone deho alo

রবীন্দ্রনাথের কাব্যসাহিত্যের বৈশিষ্ট্য ভাবগভীরতা, গীতিধর্মিতা চিত্ররূপময়তা, অধ্যাত্মচেতনা, ঐতিহ্যপ্রীতি, প্রকৃতিপ্রেম, মানবপ্রেম, স্বদেশপ্রেম, বিশ্বপ্রেম, রোম্যান্টিক সৌন্দর্যচেতনা, ভাব, ভাষা, ছন্দ ও আঙ্গিকের বৈচিত্র্য, বাস্তবচেতনা ও প্রগতিচেতনা।রবীন্দ্রনাথের গদ্যভাষাও কাব্যিক।

 

ভারতের ধ্রুপদি ও লৌকিক সংস্কৃতি এবং পাশ্চাত্য বিজ্ঞানচেতনা ও শিল্পদর্শন তার রচনায় গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল।কথাসাহিত্য ও প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে নিজ মতামত প্রকাশ করেছিলেন।সমাজকল্যাণের উপায় হিসেবে তিনি গ্রামোন্নয়ন ও গ্রামের দরিদ্র মানুষ কে শিক্ষিত করে তোলার পক্ষে মতপ্রকাশ করেন।এর পাশাপাশি সামাজিক ভেদাভেদ, অস্পৃশ্যতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধেও তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

মন্তব্য করুন