আকাশ প্রদীপ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্ত্যপর্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগ্রন্থ, যা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে। এটি তাঁর দীর্ঘ সাহিত্যজীবনের শেষভাগে রচিত — এক গভীর, অন্তর্মুখী, দার্শনিক সময়ের সৃষ্টি। এই গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেছিলেন কবি সুধীন্দ্রলাল দত্তকে, যিনি আধুনিক বাংলা কাব্যধারার অন্যতম পথিকৃৎ।
Table of Contents
আকাশ প্রদীপ: রচনার প্রেক্ষিত ও বৈশিষ্ট্য
রবীন্দ্রনাথের অন্তিমপর্বে রচিত কবিতাগুলিতে মানবজীবনের ক্ষয়, অস্থিরতা, সময়ের প্রবাহ, সৃষ্টির রহস্য এবং অনিত্যতার প্রতি গভীর সচেতনতা লক্ষ করা যায়।
‘আকাশ প্রদীপ’ সেই স্রোতেরই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত—যেখানে জীবনকে তিনি কখনো দেখেছেন উজ্জ্বল প্রদীপের মতো, আবার কখনো অনুভব করেছেন সময়ের দম্ভ, দুঃখ ও ক্লান্তির ছায়া।
এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলিতে:
অতীত-প্রবণতা ও আত্মসমালোচনা,
মানবসমাজের জটিল প্রশ্ন,
সৃষ্টির আনন্দ ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি মৃদু দুঃখভরা আবেদন,
এবং কালোত্তীর্ণ শিল্পভাবনা—সবকিছু মিলেছে অনন্য সুরে।
আধুনিক কবিরা যখন রবীন্দ্রনাথকে ‘কালোত্তীর্ণ’ বা ‘পুরোনো’ কবি বলে ভাবতেন, তখন তিনি এই গ্রন্থে সূক্ষ্ম কৌতুকে সেই দৃষ্টিভঙ্গিকেই প্রশ্ন করেছেন। তাঁর কবিত্বময় অভিজ্ঞতা, অন্তরালোকে সঞ্চিত তীক্ষ্ণ উপলব্ধি ‘আকাশ প্রদীপ’-কে করেছে গভীর, অন্তর্মুখী এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ।
আকাশ প্রদীপ কাব্যগ্রন্থ — কবিতা সূচি
উৎসর্গ
আকাশপ্রদীপ
ভূমিকা
প্রথম পর্ব
যাত্রাপথ
স্কুল-পালানে
ধ্বনি
বধূ
জল
শ্যামা
দ্বিতীয় পর্ব
পঞ্চমী
জানা–অজানা
প্রশ্ন
বঞ্চিত
আমগাছ
পাখির ভোজ
বেজি
তৃতীয় পর্ব
যাত্রা
সময়হারা
নামকরণ
ঢাকিরা ঢাক বাজায় খালে বিলে
তর্ক
ময়ূরের দৃষ্টি
কাঁচা আম
গ্রন্থটির সাহিত্যিক গুরুত্ব
আকাশ প্রদীপ কেবল একটি কাব্যগ্রন্থ নয়—এটি রবীন্দ্রনাথের অন্তর্জিজ্ঞাসার আলোকস্তম্ভ। জীবনানুভবের অমোঘতা, সময়ের অপার অতল, মানব-সমাজের দ্বন্দ্ব ও ব্যক্তমানসের সেই অনন্ত ‘আমাকে চিনে নেওয়া’র প্রক্রিয়া—এই গ্রন্থে তিনি শব্দে শব্দে সাজিয়েছেন তা-ই।
এখানে কবি কখনো শিশুসুলভ সহজতায় প্রকৃতির সঙ্গে কথা বলেন, আবার কখনো গভীর দার্শনিক ভাবনায় জীবনকে বিচ্ছিন্ন দৃষ্টিতে দেখেন।
এই দ্বৈত প্রবাহই ‘আকাশ প্রদীপ’কে রবীন্দ্র-সাহিত্যে একটি ব্যতিক্রমী অবস্থান দিয়েছে।