আমি জেনে শুনে , পূজা ৬৩ | Ami jene shune

আমি জেনে শুনে | Ami jene shune রবীন্দ্রনাথের কাব্যসাহিত্যের বৈশিষ্ট্য ভাবগভীরতা, গীতিধর্মিতা চিত্ররূপময়তা, অধ্যাত্মচেতনা, ঐতিহ্যপ্রীতি, প্রকৃতিপ্রেম, মানবপ্রেম, স্বদেশপ্রেম, বিশ্বপ্রেম, রোম্যান্টিক সৌন্দর্যচেতনা, ভাব, ভাষা, ছন্দ ও আঙ্গিকের বৈচিত্র্য, বাস্তবচেতনা ও প্রগতিচেতনা।

আমি জেনে শুনে , পূজা ৬৩ | Ami jene shune

রাগ: কীর্তন | তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1291
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1884
স্বরলিপিকার: কাঙ্গালীচরণ সেন

আমি জেনে শুনে :

আমি জেনে শুনে তবু ভুলে আছি, দিবস কাটে বৃথায় হে।

আমি যেতে চাই তব পথপানে, ওহে কত বাধা পায় পায় হে।

( তোমার অমৃতপথে, যে পথে তোমার আলো জ্বলে সেই অভয়পথে। )

চারি দিকে হেরো ঘিরেছে কারা, শত বাঁধনে জড়ায় হে।

আমি ছাড়াতে চাহি, ছাড়ে না কেন গো– ডুবায়ে রাখে মায়ায় হে।

( তারা বাঁধিয়া রাখে, তোমার বাহুর বাঁধন হতে তারা বাঁধিয়া রাখে। )

দাও ভেঙে দাও এ ভবের সুখ, কাজ নেই এ খেলায় হে।

আমি ভুলে থাকি যত অবোধের মতো বেলা বহে তত যায় হে।

( ভুলে যে থাকি, দিন যে মিলায়, খেলা যে ফুরায়, ভুলে যে থাকি। )

হানো তব বাজ হৃদয়গহনে, দুখানল জ্বালো তায় হে।

তুমি নয়নের জলে ভাসায়ে আমারে সে জল দাও মুছায়ে হে।

( নয়নজলে– তোমার-হাতের-বেদনা-দেওয়া নয়নজলে–

প্রাণের-সকল-কলঙ্ক-ধোওয়া নয়নজলে। )

শূন্য ক’রে দাও হৃদয় আমার, আসন পাতো সেথায় হে।

ওহে তুমি এসো এসো, নাথ হয়ে বোসো, ভুলো না আমায় হে।

( আমার শূন্য প্রাণে– চির-আনন্দে ভরে থাকো আমার শূন্য প্রাণে। )

 

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৫টি গান রচনা করেছিলেন।ধ্রুপদি ভারতীয় সংগীত, বাংলা লোকসংগীত ও ইউরোপীয় সংগীতের ধারা তিনটিকে আত্মস্থ করে তিনি একটি স্বকীয় সুরশৈলীর জন্ম দেন।রবীন্দ্রনাথ তার বহু কবিতাকে গানে রূপান্তরিত করেছিলেন। রবীন্দ্র-বিশেষজ্ঞ সুকুমার সেন রবীন্দ্রসংগীত রচনার ইতিহাসে চারটি পর্ব নির্দেশ করেছেন।প্রথম পর্বে তিনি জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্ট গীতের অনুসরণে গান রচনা শুরু করেছিলেন।

 

 

দ্বিতীয় পর্যায়ে (১৮৮৪-১৯০০) পল্লীগীতি ও কীর্তনের অনুসরণে রবীন্দ্রনাথ নিজস্ব সুরে গান রচনা শুরু করেন।এই পর্বের রবীন্দ্রসংগীতে ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট সংগীতস্রষ্টা মধুকান, রামনিধি গুপ্ত, শ্রীধর কথক প্রমুখের প্রভাবও সুস্পষ্ট। এই সময় থেকেই তিনি স্বরচিত কবিতায় সুর দিয়ে গান রচনাও শুরু করেছিলেন। ১৯০০ সালে শান্তিনিকেতনে বসবাস শুরু করার পর থেকে রবীন্দ্রসংগীত রচনার তৃতীয় পর্বের সূচনা ঘটে।এই সময় রবীন্দ্রনাথ বাউল গানের সুর ও ভাব তার নিজের গানের অঙ্গীভূত করেন।প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর রবীন্দ্রনাথের গান রচনার চতুর্থ পর্বের সূচনা হয়।

মন্তব্য করুন