রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কণিকা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত “উচ্চের প্রয়োজন” কবিতাটি প্রকৃতির বৈচিত্র্য ও জীবনের ভারসাম্য নিয়ে গভীর দার্শনিক ভাবনা প্রকাশ করেছে। সমতল ভূমির অভিযোগের মাধ্যমে কবি দেখিয়েছেন—সৃষ্টির জগতে প্রতিটি উচ্চতা ও নিম্নতা একে অপরের পরিপূরক। পর্বতের উত্তরে তিনি জানান, যদি সবই সমতল হতো, তবে ঝরনার সুমধুর স্রোত কোথা থেকে নেমে আসত! বৈচিত্র্যের মধ্যেই সৌন্দর্য ও কল্যাণ নিহিত—এই সত্যকেই সরল অথচ তাৎপর্যপূর্ণ তুলনার মাধ্যমে কবি উজ্জ্বল করে তুলেছেন।
উচ্চের প্রয়োজন কবিতা [Uchchher Proyojon Kobita] – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কহিল মনের খেদে মাঠ সমতল,
হাট ভ’রে দিই আমি কত শষ্য ফল।
পর্বত দাঁড়ায়ে রন কী জানি কী কাজ,
পাষাণের সিংহাসনে তিনি মহারাজ।
বিধাতার অবিচার, কেন উঁচুনিচু
সে কথা বুঝিতে আমি নাহি পারি কিছু।
গিরি কহে, সব হলে সমভূমি-পারা
নামিত কি ঝরনার সুমঙ্গলধারা?
![উচ্চের প্রয়োজন কবিতা [Uchchher Proyojon Kobita] - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 1 Amar Rabindranath Logo](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2021/09/Amar-Rabindranath-Logo-e1649308436976-300x240.jpeg)