রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর কাব্যচর্চায় ক্ষুদ্র কবিতার একটি স্বতন্ত্র ও গভীর ধারা লক্ষ্য করা যায়। সেই ধারার অন্যতম উজ্জ্বল সংকলন হলো কণিকা। এই কাব্যগ্রন্থে স্থান পাওয়া কবিতাগুলো আকারে ছোট হলেও ভাব, দর্শন ও উপলব্ধিতে অত্যন্ত গভীর। কণিকা মূলত রবীন্দ্রনাথের অন্তর্মুখী চিন্তা, জীবনদর্শন ও মানবিক বোধের সংক্ষিপ্ত কিন্তু শক্তিশালী প্রকাশ। এই গ্রন্থেরই একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো “বিরা’ম”—যেখানে কবি জীবনের কাজ ও বিশ্রামের সম্পর্ককে এক অনন্য দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন।
বিরা’ম কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিরা’ম কাজেরই অঙ্গ এক সাথে গাঁথা,
নয়নের অংশ যেন নয়নের পাতা।
কবিতার ভাবার্থ ও বিশ্লেষণ
এই দুই পঙ্ক্তির সংক্ষিপ্ত কবিতায় রবীন্দ্রনাথ আমাদের শেখান এক গভীর সত্য—বিরাম কাজের বিপরীত নয়, বরং কাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। কবি এখানে চোখ ও চোখের পাতার উপমা ব্যবহার করেছেন। যেমন চোখের পাতা ছাড়া চোখের আরাম নেই, তেমনি বিরাম ছাড়া কাজও অসম্পূর্ণ ও ক্লান্তিকর।
রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে বিরাম মানে কাজ থেকে পালিয়ে যাওয়া নয়; বরং কাজের ধারাবাহিকতাকে টিকিয়ে রাখার এক স্বাভাবিক প্রয়োজন। এই কবিতা আধুনিক জীবনের অতিরিক্ত ব্যস্ততা, যান্ত্রিক শ্রম ও মানসিক ক্লান্তির প্রেক্ষাপটে আজও সমান প্রাসঙ্গিক।
![কণিকা কাব্যগ্রন্থের বিরাম কবিতা [Biram Kobita] 1 Amar Rabindranath Logo](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2021/09/Amar-Rabindranath-Logo-e1649308436976-1024x819.jpeg)
“বিরা’ম” কবিতাটি আকারে ক্ষুদ্র হলেও তা আমাদের জীবনবোধে বড় এক প্রশ্ন তোলে—আমরা কি বিরামকে দুর্বলতা ভাবছি? রবীন্দ্রনাথ মনে করিয়ে দেন, প্রকৃত কর্মশক্তি জন্ম নেয় সঠিক বিরাম থেকেই। কণিকা কাব্যগ্রন্থের এই কবিতা তাই শুধুই সাহিত্য নয়, বরং জীবনযাপনের এক সূক্ষ্ম দর্শন।