কে আমারে যেন , প্রেম ১৮৮ | Ke amare jeno রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৫টি গান রচনা করেছিলেন।ধ্রুপদি ভারতীয় সংগীত, বাংলা লোকসংগীত ও ইউরোপীয় সংগীতের ধারা তিনটিকে আত্মস্থ করে তিনি একটি স্বকীয় সুরশৈলীর জন্ম দেন।রবীন্দ্রনাথ তার বহু কবিতাকে গানে রূপান্তরিত করেছিলেন।
কে আমারে যেন , প্রেম ১৮৮ | Ke amare jeno
রাগ: মিশ্র পরজ
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): বৈশাখ, ১২৯৪
কে আমারে যেন:
কে আমারে যেন এনেছে ডাকিয়া, এসেছি ভুলে।
তবু একবার চাও মুখপানে নয়ন তুলে।
দেখি ও নয়নে নিমেষের তরে সে দিনের ছায়া পড়ে কি না পড়ে,
সজল আবেগে আঁখিপাতা-দুটি পড়ে কি ঢুলে।
ক্ষণেকের তরে ভুল ভাঙায়ো না, এসেছি ভুলে।
ব্যথা দিয়ে কবে কথা কয়েছিলে পড়ে না মনে,
দূরে থেকে কবে ফিরে গিয়েছিলে নাই স্মরণে।
শুধু মনে পড়ে হাসিমুখখানি, লাজে বাধো-বাধো সোহাগের বাণী,
মনে পড়ে সেই হৃদয় উছাস নয়নকূলে।
তুমি যে ভুলেছ ভুলে গেছি, তাই এসেছি ভুলে॥
কাননের ফুল এরা তো ভোলে নি, আমরা ভুলি।
এই তো ফুটেছে পাতায় পাতায় কামিনীগুলি।
চাঁপা কোথা হতে এনেছে ধরিয়া অরুণকিরণ কোমল করিয়া,
বকুল ঝরিয়া মরিবারে চায় কাহার চুলে।
কেহ ভোলে কেউ ভোলে না যে, তাই এসেছি ভুলে॥
এমন করিয়া কেমনে কাটিবে মাধবীরাতি।
দখিনবাতাসে কেহ নাহি পাশে সাথের সাথি।
চারি দিক হতে বাঁশি শোনা যায়, সুখে আছে যারা তারা গান গায়–
আকুল বাতাসে, মদির সুবাসে, বিকচ ফুলে,
এখনো কি কেঁদে চাহিবে না কেউ আসিলে ভুলে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান ব্রাহ্ম পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।বাল্যকালে প্রথাগত বিদ্যালয়-শিক্ষা তিনি গ্রহণ করেননি; গৃহশিক্ষক রেখে বাড়িতেই তার শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন।
