গীতালি কাব্যগ্রন্থ (১৯১৫) কবিতা সূচি | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর–এর কাব্যজীবনের এক অনন্য ও অন্তর্মুখী সংযোজন হলো গীতালি কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালে—যদিও কিছু সংস্করণে প্রকাশকাল হিসেবে ১৯১৫ সালের উল্লেখ পাওয়া যায়। গীতালি রবীন্দ্রনাথের কাব্যসৃষ্টির তথাকথিত “গীতাঞ্জলি পর্ব”–এর অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যেখানে কবির কাব্যভাষা ক্রমে আরও সংযত, সংগীতধর্মী ও আধ্যাত্মিক হয়ে উঠেছে। এই পর্বে বাহ্য জগতের বর্ণনার চেয়ে অন্তর্জগতের অনুভব, আত্মসমর্পণ ও চেতনার গভীরতা অধিক গুরুত্ব পেয়েছে।

গীতালি কাব্যগ্রন্থে ব্যক্তিগত অনুভূতি, ভক্তি, প্রেম ও বিশ্বচেতনার এক সূক্ষ্ম সমন্বয় লক্ষ করা যায়। এখানে কবির কণ্ঠস্বর কখনো বিনয়ী প্রার্থনার, কখনো নিবেদিত প্রেমিকের, আবার কখনো আত্মসচেতন পথিকের। এই কবিতাগুলি একত্রে একটি অন্তরঙ্গ প্রার্থনাগ্রন্থের রূপ ধারণ করেছে—যেখানে ঈশ্বর কেবল উপাস্য নন, তিনি নিত্যসঙ্গী, বন্ধু ও প্রিয়জন।

উল্লেখযোগ্য যে রবীন্দ্রনাথ তাঁর আরেক কাব্যগ্রন্থ গীতিমাল্য থেকে ১৬টি কবিতা নির্বাচন করে Song Offeringsগীতাঞ্জলি-র ইংরেজি অনুবাদগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে গীতালিগীতিমাল্য—উভয় গ্রন্থেই ঐশ্বরিক প্রেম, আত্মনিবেদন ও স্রষ্টার সঙ্গে মিলনের আকুতি একই আধ্যাত্মিক স্রোতে প্রবাহিত। ভাষা ও প্রকাশভঙ্গিতে পার্থক্য থাকলেও মূল সুরটি এক—আত্মার মুক্তি ও পরমের সন্ধান।

গীতালি কাব্যগ্রন্থে অরূপ দেবতাকে কবি কল্পনা করেছেন প্রিয় সখা ও প্রেমিকরূপে। এই অরূপের সঙ্গে মিলনের আকুতি কখনো মৃদু অনুনয়ে, কখনো দুঃখের স্বীকারোক্তিতে, আবার কখনো আনন্দের উচ্ছ্বাসে প্রকাশ পেয়েছে। দেবতা এখানে দূরবর্তী কোনো ধারণা নন—তিনি হৃদয়ের গভীরে অধিষ্ঠিত এক অন্তরঙ্গ সত্তা। এইভাবেই গীতালি রবীন্দ্রকাব্যে আধ্যাত্মিক প্রেমের এক পরিণত, সংযত ও গভীর অভিব্যক্তি হিসেবে স্বতন্ত্র মর্যাদা লাভ করেছে।

গীতালি কাব্যগ্রন্থের ভাবধারা

গীতালি মূলত একটি গীতিময় আধ্যাত্মিক কাব্যগ্রন্থ। এখানে “ক্ষুদ্র আমি” ধীরে ধীরে নিজেকে বিসর্জন দিয়ে “বৃহৎ সত্তা”-র সঙ্গে মিলিত হতে চায়। কবির কণ্ঠে শোনা যায়—

  • আত্মসমর্পণের আকুলতা

  • দুঃখ ও বেদনার মধ্য দিয়ে শুদ্ধির পথচলা

  • প্রেমকে ঈশ্বরলাভের প্রধান সোপান হিসেবে দেখা

  • পথিকের মতো অজানার দিকে যাত্রা

এই কাব্যগ্রন্থে ঈশ্বর কখনো প্রভু, কখনো বন্ধু, কখনো পথিকসাথি, আবার কখনো অন্তরের গভীরে অবস্থানরত নীরব উপস্থিতি।

গীতালি কাব্যগ্রন্থের কবিতা সূচি

১. এই আমি একমনে সঁপিলাম তাঁরে
২. দুঃখের বরষায় চক্ষের জল যেই নামল
৩. তুমি আড়াল পেলে কেমনে
৪. বাধা দিলে বাধবে লড়াই
৫. আমি হৃদয়েতে পথ কেটেছি
৬. আলো যে যায় রে দেখা
৭. ও নিষ্ঠুর, আরো কি বাণ
৮. সুখে আমায় রাখবে কেন
৯. ওগো আমার প্রাণের ঠাকুর
১০. আঘাত ক’রে নিলে জিনে
১১. ঘুম কেন নেই তোরি চোখে
১২. আমি যে আর সইতে পারি নে
১৩. পথ চেয়ে যে কেটে গেল
১৪. আবার শ্রাবণ হয়ে এলে ফিরে
১৫. আমার সকল রসের ধারা
১৬. এই শরৎ-আলোর কমল-বনে
১৭. তোমার মোহন রূপে কে রয় ভুলে
১৮. যখন তুমি বাঁধছিলে তার
১৯. আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে
২০. হৃদয় আমার প্রকাশ হল
২১. এক হাতে ওর কৃপাণ আছে
২২. পথ দিয়ে কে যায় গো চ’লে
২৩. এই যে কালো মাটির বাসা
২৪. যে থাকে থাক্-না দ্বারে
২৫. তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে
২৬. শুধু তোমার বাণী নয় গো
২৭. শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি
২৮. ও আমার মন, যখন জাগলি না রে
২৯. মোর মরণে তোমার হবে জয়
৩০. এবার আমায় ডাকলে দূরে
৩১. নাই কি রে তীর, নাই কি রে তোর তরী
৩২. নাই বা ডাক, রইব তোমার দ্বারে
৩৩. না বাঁচাবে আমায় যদি
৩৪. যেতে যেতে একলা পথে
৩৫. মালা হতে খসে-পড়া ফুলের একটি দল
৩৬. কোন্ বারতা পাঠালে মোর পরানে
৩৭. যেতে যেতে চায় না যেতে
৩৮. সেই তো আমি চাই
৩৯. শেষ নাহি যে, শেষ কথা কে বলবে
৪০. না রে তোদের ফিরতে দেব না রে
৪১. মনকে হোথায় বসিয়ে রাখিস নে
৪২. এতটুকু আঁধার যদি
৪৩. কাঁচা ধানের খেতে যেমন
৪৪. দুঃখ যদি না পাবে তো
৪৫. না রে, না রে, হবে না তোর স্বর্গসাধন
৪৬. তোমার এই মাধুরী ছাপিয়ে আকাশ ঝরবে
৪৭. না গো, এই যে ধুলা আমার না এ
৪৮. এই কথাটা ধ’রে রাখিস
৪৯. লক্ষ্মী যখন আসবে তখন
৫০. ওই অমল হাতে রজনী প্রাতে
৫১. মোর হৃদয়ের গোপন বিজন ঘরে
৫২. খুশি হ তুই আপন-মনে
৫৩. সহজ হবি, সহজ হবি
৫৪. ওরে ভীরু, তোমার হাতে নাই ভুবনের ভার
৫৫. চোখে দেখিস, প্রাণে কানা
৫৬. অগ্নিবীণা বাজাও তুমি কেমন ক’রে
৫৭. আলো যে আজ গান করে মোর প্রাণে গো
৫৮. তোমার দুয়ার খোলার ধ্বনি
৫৯. প্রেমের প্রাণে সইবে কেমন ক’রে
৬০. ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো, প্রভু
৬১. আমার আর হবে না দেরি
৬২. ঐ যে সন্ধ্যা খুলিয়া ফেলিল তার
৬৩. দুঃখ এ নয়, সুখ নহে গো
৬৪. এদের পানে তাকাই আমি
৬৫. হিসাব আমার মিলবে না তা জানি
৬৬. মেঘ বলেছে যাব যাব
৬৭. কাণ্ডারী গো, যদি এবার
৬৮. ফুল তো আমার ফুরিয়ে গেছে
৬৯. তোমার ভুবন মর্মে আমার লাগে
৭০. তোমার কাছে এ বর মাগি
৭১. আপন হতে বাহির হয়ে বাইরে দাঁড়া
৭২. এই আবরণ ক্ষয় হবে গো ক্ষয় হবে
৭৩. ওগো আমার হৃদয়-বাসী
৭৪. পুষ্প দিয়ে মার’ যারে
৭৫. আমার সুরের সাধন রইল পড়ে
৭৬. কূল থেকে মোর গানের তরী
৭৭. ঘরের থেকে এনেছিলেম
৭৮. সন্ধ্যা হল, একলা আছি ব’লে
৭৯. বিশ্বজোড়া ফাঁদ পেতেছ
৮০. তোমায় সৃষ্টি করব আমি
৮১. সারা জীবন দিল আলো
৮২. সরিয়ে দিয়ে আমার ঘুমের পর্দাখানি
৮৩. ব্যথার বেশে এল আমার দ্বারে
৮৪. আমি পথিক, পথ আমারি সাথি
৮৫. বৃন্ত হতে ছিন্ন করি শুভ্র কমলগুলি
৮৬. বাজিয়েছিলে বীণা তোমার
৮৭. আবার যদি ইচ্ছা কর
৮৮. অচেনাকে ভয় কী আমার ওরে
৮৯. যে দিল ঝাঁপ ভবসাগর-মাঝখানে
৯০. সন্ধ্যাতারা যে ফুল দিল
৯১. এ দিন আজি কোন্ ঘরে গো
৯২. তোমার কাছে চাই নে আমি
৯৩. এখানে তো বাঁধা পথের অন্ত না পাই
৯৪. যা দেবে তা দেবে তুমি আপন হাতে
৯৫. পথে পথেই বাসা বাঁধি
৯৬. পান্থ তুমি, পান্থজনের সখা হে
৯৭. জীবন আমার যে অমৃত
৯৮. সুখের মাঝে তোমায় দেখেছি
৯৯. পথের সাথি, নমি বারম্বার
১০০. অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো
১০১. গতি আমার এসে
১০২. ভেঙেছে দুয়ার, এসেছ জ্যোতির্ময়
১০৩. তোমায় ছেড়ে দূরে চলার
১০৪. যখন তোমায় আঘাত করি
১০৫. কেমন ক’রে তড়িৎ-আলোয়
১০৬. এই নিমেষে গণনাহীন
১০৭. যাস নে কোথাও ধেয়ে
১০৮. মুদিত আলোর কমল-কলিকাটিরে
১০৯. এই তীর্থদেবতার ধরণীর মন্দিরপ্রাঙ্গণে

মন্তব্য করুন