রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কণিকা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত “চালক” কবিতাটি মানবজীবনের নিয়তি, আত্মপ্রেরণা এবং অন্তর্গত শক্তির দার্শনিক সত্যকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর রূপকে প্রকাশ করেছে। জীবনে যখন আমরা অদৃষ্টকে দায়ী করি—অদৃশ্য কোনো শক্তি যেন আমাদের ঠেলে নিয়ে চলেছে—তখন কবি শিখিয়ে দেন, সেই চালক আসলে আমাদের নিজের অন্তরাত্মা। আমাদের অতীত, আমাদেরই সঞ্চিত কাজ, সিদ্ধান্ত ও প্রবৃত্তি–এগুলিই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে বাধ্য করে। নিয়তির উপর দোষ চাপানো যত সহজ, নিজের দায় স্বীকার করা তত গভীর আত্মবোধের বিষয়—এই উপলব্ধিই কবিতাটিকে অসামান্য দার্শনিক বীক্ষায় উজ্জ্বল করেছে।
চালক কবিতা [Chalok Kobita] – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
অদৃষ্টরে শুধালেম, চিরদিন পিছে
অমোঘ নিষ্ঠুর বলে কে মোরে ঠেলিছে?
সে কহিল, ফিরে দেখো। দেখিলাম থামি
সম্মুখে ঠেলিছে মোরে পশ্চাতের আমি।