নবজাতক কাব্যগ্রন্থ কাব্যগ্রন্থ (১৯৪০) – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নবজাতক বাংলা সাহিত্যের এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে, কবির জীবনের শেষ পর্যায়ে, এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যসৃষ্টির “অন্ত্যপর্ব”-এর অন্তর্গত একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংকলন। এই গ্রন্থে মোট ৩৫টি কবিতা সংকলিত হয়েছে। নবজাতক মূলত এক অগ্নিগর্ভ সময়ের কাব্যিক দলিল—যেখানে কবি নীতিহীন মানবসভ্যতার আবর্জনাময় রূপ, রাষ্ট্রীয় মূঢ়তা, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন এবং অধর্মের প্রবাহের বিরুদ্ধে তীব্র কণ্ঠে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এই কাব্যগ্রন্থে রয়েছে মানবতার নতুন জন্মের আকাঙ্ক্ষা—ধ্বংসের মধ্যেই আশার অঙ্কুর।

কাব্যগ্রন্থের ঐতিহাসিক ও বৌদ্ধিক প্রেক্ষাপট

নবজাতক রচিত হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন বিশ্ব জুড়ে যুদ্ধ, উপনিবেশবাদ ও রাষ্ট্রীয় হিংসা মানবসভ্যতাকে গভীর সংকটে নিক্ষেপ করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আবহ, ভারতবর্ষে ঔপনিবেশিক শাসনের নিষ্ঠুরতা এবং সমকালীন রাজনীতির নৈতিক দৈন্য—এই সবকিছুই কবির চেতনাকে তীব্রভাবে আলোড়িত করেছে। ফলে এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ আর কেবল সৌন্দর্য বা রোম্যান্টিক আবেগে সীমাবদ্ধ নন; তিনি হয়ে উঠেছেন নৈতিক প্রশ্নকারী ও মানবতার পক্ষের সাক্ষী

ভাবধারা ও বৈশিষ্ট্য

এই গ্রন্থের কবিতাগুলোতে লক্ষ করা যায়—

  • সভ্যতার ভণ্ডামি ও রাষ্ট্রশক্তির নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
  • মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের তীব্র সমালোচনা
  • ধর্ম, রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থার নৈতিক জবাবদিহির দাবি
  • ধ্বংসের মধ্যেও নতুন মানবতার সম্ভাবনার অনুসন্ধান

রবীন্দ্রনাথ এখানে কঠোর, সংযত ও প্রশ্নমুখর ভাষা ব্যবহার করেছেন। অলংকারের ঝলক কম, কিন্তু চিন্তার গভীরতা প্রবল। এই কাব্যগ্রন্থে কবি যেন ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সভ্যতাকেই প্রশ্ন করছেন।

নবজাতক কাব্যগ্রন্থ : কবিতা সূচি

নবজাতক
উদ্বোধন
শেষ দৃষ্টি
প্রায়শ্চিত্ত
বুদ্ধভক্তি
কেন
হিন্দুস্থান
রাজপুতানা
ভাগ্যরাজ্য
ভূমিকম্প
পক্ষীমানব
আহ্বান
রাতের গাড়ি
মৌলানা জিয়াউদ্দীন

অস্পষ্ট
এপারে-ওপারে
মংপু পাহাড়ে
ইস্টেশন
জবাবদিহি
সাড়ে ন’টা
প্রবাসী
জন্মদিন
প্রশ্ন
রোম্যান্টিক

ক্যান্ডীয় নাচ
অবর্জিত
শেষ হিসাব
সন্ধ্যা
জয়ধ্বনি
প্রজাপতি
প্রবীণ
রাত্রি
শেষ বেলা
রূপ-বিরূপ
শেষ কথা

Amar Rabindranath Logo

মন্তব্য করুন