ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী কাব্যগ্রন্থ (১৮৮৪) ] Bhanushingher Podaboli

ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত এক অনন্য কাব্যসংকলন, যা তিনি কিশোর বয়সে ‘ভানুসিংহ ঠাকুর’ ছদ্মনামে রচনা করেন। এই পদাবলীগুলি মূলত বৈষ্ণব পদাবলীর অনুকরণে লেখা—বিশেষ করে মধ্যযুগের বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, গোবিন্দদাস প্রমুখ কবিদের ভাষা, ভাব ও রীতিকে অনুসরণ করে।

কেন ‘ভানুসিংহ’?

রবীন্দ্রনাথ ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের পরিচয় গোপন রেখে একজন মধ্যযুগীয় বৈষ্ণব কবির আবির্ভাবের ভান করেছিলেন। প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন, এগুলি সত্যিই কোনো প্রাচীন অজানা কবির রচনা। পরে জানা যায়, এগুলি রবীন্দ্রনাথেরই সৃষ্টি।

রচনাকাল ও প্রকাশ

  • রচনাকাল: আনুমানিক ১৮৭৭–১৮৮০ (রবীন্দ্রনাথের বয়স তখন ১৬–১৯ বছর)
  • প্রথম প্রকাশ: ভারতী পত্রিকায়
  • পরে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী’ নামে

বিষয় ও ভাব

এই পদাবলীর কেন্দ্রবিন্দু হলো—

  • রাধা–কৃষ্ণের প্রেম
  • বিরহ, অভিমান, মান, মিলন
  • ব্রজভূমির প্রকৃতি ও লীলার আবহ

ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে কৃত্রিম ব্রজবুলি, যা মধ্যযুগীয় বৈষ্ণব পদাবলীর ভাষার খুব কাছাকাছি।

সাহিত্যিক গুরুত্ব

  • এটি রবীন্দ্রনাথের প্রথম বড়ো কাব্যিক পরীক্ষা
  • মধ্যযুগীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক কাব্যচেতনার এক সেতুবন্ধ
  • পরবর্তী রবীন্দ্রসংগীত ও প্রেমপর্বের গানের ভাষা ও ভাবের ভিত্তি গড়ে দেয়

উদাহরণস্বরূপ একটি প্রসিদ্ধ পংক্তি

“এ সখি, হমারি দুঃখের নাহি ওর”

ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলীর পদসমূহের সূচি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বসন্ত আওল রে

শুনলো শুনলো বালিকা

হৃদয়ক সাধ মিশাওল হৃদয়ে

শ্যাম রে, নিপট কঠিন মন তোর

সজনি সজনি রাধিকালো

বঁধুয়া, হিয়াপর আওরে

শুন সখি বাজত বাঁশি

গহন কুসুম কুঞ্জ মাঝে

সতিমির রজনী

বাজাও রে মোহন বাঁশি

আজু সখি মুহু মুহু

গহির নীদমে

সজনি গো, শাঙন গগনে

বাদর বরখন

সখিরে পিরীত বুঝবে কে

হম সখি দারিদ নারী

মাধব, না কহ আদর বাণী

সখিলো, সখিলো, নিকরুণ মাধব

বার বার, সখি, বারণ করনু

দেখলো সজনী চাঁদনি রজনী

মরণ রে, তুঁহু মম শ্যাম সমান

Amar Rabindranath Logo

ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যজীবনের সূচনালগ্নের এক বিস্ময়কর সৃষ্টি—যেখানে কিশোর কবি মধ্যযুগের কণ্ঠে কথা বলে আধুনিক বাংলা প্রেমকাব্যের ভিত নির্মাণ করেছেন।

মন্তব্য করুন