রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর সাহিত্যজগতে লিপিকা একটি স্বতন্ত্র ও অভিনব সৃষ্টি। ১৯২২ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি প্রথাগত ছোটগল্প সংকলনের ধারায় পড়ে না; বরং এটি গদ্য ও পদ্যের মিশ্রণে রচিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রচনা—যাকে রবীন্দ্রনাথ নিজেই এক ধরনের কথিকা বা গল্প-প্রবন্ধ হিসেবে নির্মাণ করেছেন। আকারে ছোট হলেও প্রতিটি রচনায় রয়েছে গভীর জীবনবোধ, দার্শনিক প্রশ্ন ও কাব্যিক রস।
লিপিকা-র গল্পগুলোতে বাস্তবের সঙ্গে রূপকের সংযোগ স্পষ্ট। ‘পুরোনো বাড়ি’, ‘কর্তার ভূত’, ‘তোতাকাহিনী’, ‘মেঘদূত’, ‘পায়ে চলার পথ’, ‘একটি চাউনি’ প্রভৃতি রচনায় দেখা যায়—মানুষের অহংকার, ভয়, অভ্যাস, নৈতিকতা ও সময়বোধ কীভাবে প্রতীকের আড়ালে উন্মোচিত হয়েছে। এখানে গল্পের চেয়ে ইঙ্গিত বড়ো, ঘটনার চেয়ে অনুভব গভীর। এই কারণেই লিপিকা পাঠকের কাছে এক ধ্যানমগ্ন পাঠ-অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
সাহিত্যিক গুরুত্বের দিক থেকে লিপিকা বাংলা গদ্যের এক নতুন পথনির্দেশক। রবীন্দ্রনাথ যখন কিছুটা মানসিক অবসাদ ও অন্তর্মুখী চিন্তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, সেই সময়ের সৃজনশীল প্রতিফলন এই গ্রন্থ। এতে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির সূক্ষ্মতা, ভাষার সংযম এবং ভাবনার ঘনীভবন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, লিপিকা রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যিক বৈচিত্র্যের এক অনন্য নিদর্শন—যেখানে গল্প নয়, ভাবই প্রধান; আর পাঠ শেষ হলেও তার রেশ দীর্ঘদিন পাঠকের মনে থেকে যায়।
লিপিকা (গল্প সংকলনসমূহ) সূচি:
অস্পষ্ট
আগমনী
উপসংহার
একটি চাউনি
একাটি দিন
কথিকা
কর্তার ভূত
কৃতঘ্ন শোক
গলি
গল্প
ঘোড়া
তোতা কাহিনী
নতুন পুতুল
নামের খেলা
পট
পরীর পরিচয়
পায়ে চলার পথ
পুনরাবৃত্তি
পুরোনো বাড়ি
প্রথম চিঠি
প্রথম শোক
প্রশ্ন
প্রাণমন
বাঁশি
বাণী
বিদূষক
ভুল স্বর্গ
মীনু
মুক্তি
মেঘদূত
মেঘলা দিনে
রথযাত্রা
রাজপুত্তুর
সওগাত
সতেরো বছর
সন্ধ্যা ও প্রভাত
সিদ্ধি
সুয়োরানীর সাধ
স্বর্গ – মর্ত