আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

হরহৃদে কালিকা harhride kalika [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

হরহৃদে কালিকা

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থ : শৈশব সঙ্গীত

কবিতার শিরনামঃ হরহৃদে কালিকা

হরহৃদে কালিকা harhride kalika [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কে তুই লো হরহৃদি অলো করি দাঁড়ায়ে,

                      ভিখারীর সর্ব্বত্যাগী বুকখানি মাড়ায়ে?

                      নাই হোথা সুখ-আশা, বিষয়ের কামনা,

                      নাই হোথা সংসারের– পৃথিবীর ভাবনা!

                      আছে শুধু এই রূপে বুকখানি ভরিয়ে–

                      আছে শুধু ওই রূপে মনে মন মরিয়ে।

                      বুকের জলন্ত শিরে রক্তরাশি নাচায়ে,

                      পাষাণ পরাণখানি এখনও বাঁচায়ে,

                      নাচিছে হৃদয়মাঝে জ্যোতির্ন্ময়ী কামিনী,

                      শোণিততরঙ্গে ছুটে প্রস্ফুরিত দামিনী।

                      ঘুমায়েছে মনখানা, ঘুমায়েছে প্রাণ গো,

                      এক স্বপ্নে ভরা শুধু হৃদয়ের স্থান গো!

                      জগতে থাকিয়া আমি থাকি তার বাহিরে,

                      জগৎ বিদ্রপছলে পাগল ভিখারী বলে–

                      তাই আমি চাই হতে, আর কিবা চাহি রে!

                      ভিখারী করিব ভিক্ষা বাঘাম্বর পরিয়ে,

                      বিমোহন রূপখানি হৃদিমাঝে ধরিয়ে।

                                      …

                      একদা প্রলয়শিঙ্গা বাজিয়া রে উঠিবে!

                      অমনি নিভিবে রবি, অমনি মিশাবে তারা,

                      অমনি এ জগতের রাশরজ্জু টুটিবে।

                      আলোকসর্ব্বম্ব হারা, অন্ধ যত গ্রহ তারা।

                      দারুণ উন্মাদ হয়ে মহাশূন্যে ছুটিবে!

                      ঘুম হ’তে জাগি উঠি রক্ত আঁখি মেলিয়া

                      প্রলয়, জগৎ লয়ে বেড়াইবে খেলিয়া।

                      প্রলয়ের তালে তালে ওই বামা নাচিবে,

                      প্রলয়ের তালে তালে এই হৃদি বাজিবে!

                      আঁধারকুন্তল তোর মহাশূন্য জুড়িয়া

                      প্রলয়ের কালঝড়ে বোড়াইবে উড়িয়া!

                      অন্ধকারে দিশাহারা  কম্পমান গ্রহ তারা

                      চররের তলে আসি পড়িবেক গুঁড়ায়ে,

                      দিবি সেই বিশ্বচূর্ণ নিঃশ্বাসেতে উড়ায়ে!

                      এমনি রহিব স্তব্ধ ওই মুখে চাহিয়া–

                      দেখিব হৃদয়মাঝে   কেমনে ও বামা নাচে

                      উন্মাদিনী, প্রলয়ের ঘোর গীতি গাহিয়া!

                      জগতের হাহাকার যবে স্তব্ধ হইবে–

                      ঘোর স্তব্ধ, মহাস্তব্ধ, মহাশূন্য রহিবে,

                      আঁধারের সিন্দুরবে অনন্তেরে গ্রাসিয়া–

                      সে মহান্‌ জলধির নাই ঊর্ম্মি, নাই তীর–

                      সেই স্তব্ধ সিন্ধু ব্যাপি রব আমি  ভাসিয়া!

                      তখনো র’বি কি তুই এই বুকে দাঁড়ায়ে,

                      ভাবনাবাসনাহীন এই বুক মাড়ায়ে?

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত