Table of Contents
কবিতার মূল তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
| কবিতার নাম | মৃত্যুঞ্জয় |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | পরিশেষ |
| প্রকাশের বছর | ১৯৩২ (১৩৩৯ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | দার্শনিক ও আত্মিক শক্তির কবিতা (Philosophical and Spiritual Poem) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট
মৃত্যুঞ্জয় – সম্পূর্ণ কবিতা
দূর হতে ভেবেছিনু মনে
দুর্জয় নির্দয় তুমি, কাঁপে পৃথ্বী তোমার শাসনে।
তুমি বিভীষিকা,
দুঃখীর বিদীর্ণ বক্ষে জ্বলে তব লেলিহান শিখা।
দক্ষিণ হাতের শেল উঠেছে ঝড়ের মেঘ-পানে,
সেথা হতে বজ্র টেনে আনে।
ভয়ে ভয়ে এসেছিনু দুরুদুরু বুকে
তোমার সম্মুখে
তোমার ভ্রূকুটিভঙ্গে তরঙ্গিল আসন্ন উৎপাত, —
নামিল আঘাত।
পাঁজর উঠিল কেঁপে,
বক্ষে হাত চেপে
শুধালেম, “আরো কিছু আছে নাকি,
আছে বাকি
শেষ বজ্রপাত?’
নামিল আঘাত।
এইমাত্র? আর কিছু নয়?
ভেঙে গেল ভয়।
যখন উদ্যত ছিল তোমার অশনি
তোমারে আমার চেয়ে বড়ো ব’লে নিয়েছিনু গনি।
তোমার আঘাত-সাথে নেমে এলে তুমি
যেথা মোর আপনার ভূমি।
ছোটো হয়ে গেছ আজ।
আমার টুটিল সব লাজ।
যত বড়ো হও,
তুমি তো মৃত্যুর চেয়ে বড়ো নও।
আমি মৃত্যু-চেয়ে বড়ো এই শেষ কথা বলে
যাব আমি চলে।
মৃত্যুঞ্জয় Romanized Version
Panjor uthilo kepe,
Bokshe hat chepe
Shudhalem, “aro kichu ache naki,
Ache baki
Shesh bojropat?’
Namil aghat.
Ei matro? Ar kichu noy?
Bhenge gelo bhoy.
Jokhon uddyoto chhilo tomar oshoni
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ
- ভয়ের কাল্পনিক বিশালতা: জীবনের শুরুতে বা দূর থেকে মানুষ মৃত্যু, দুঃখ বা আঘাতকে এক দুর্জয় ও নির্দয় বিভীষিকা বলে মনে করে, যার ভয়ে পৃথিবী পর্যন্ত কেঁপে ওঠে।
- আঘাতের মুখোমুখি হওয়ার পর মোহভঙ্গ:
“এইমাত্র? আর কিছু নয়? / ভেঙে গেল ভয়।”— চরম আঘাত যখন বাস্তবে নেমে আসে, তখন মানুষ বুঝতে পারে যে ভয় যতটা ভয়ংকর মনে হয়েছিল, আঘাত তার চেয়ে অনেক ছোট। তখনই সমস্ত ভয় ভেঙে চূর্ণ হয়ে যায়।
- মৃত্যুর চেয়ে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব:
“যত বড়ো হও, / তুমি তো মৃত্যুর চেয়ে বড়ো নও। / আমি মৃত্যু-চেয়ে বড়ো এই শেষ কথা বলে / যাব আমি চলে।”— প্রকৃতির নিষ্ঠুরতা বা মৃত্যুর শক্তি যতই বিশাল হোক না কেন, মানুষের আত্মিক শক্তি এবং চেতনা তার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ও মহীয়ান। মৃত্যুঞ্জয়ী মানুষের এই অহংকারহীন অথচ অদম্য ঘোষণা কবিতার শেষাংশে পরম রূপ লাভ করেছে।