বীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের ভাণ্ডারে এমন বহু সৃষ্টি আছে, যেখানে ব্যক্তিগত অনুভূতি, আত্মসমর্পণ ও নীরব প্রেম এক অনুপম শিল্পরূপ লাভ করেছে। “কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া” তেমনই একটি গভীর আত্মকথামূলক রবীন্দ্রসংগীত। গানটি রচিত হয় বঙ্গাব্দ ১২৯১ (খ্রিষ্টাব্দ ১৮৮৫) সালে—রবীন্দ্রনাথের যৌবনকালীন সৃষ্টিপর্বে, যখন তাঁর গানে প্রেম ও ভক্তির সূক্ষ্ম মেলবন্ধন স্পষ্ট হয়ে উঠছিল।
এই গানটি রচিত হয়েছে বিলাতি ভাঙা রাগে এবং তাল একতাল। বিলাতি ভাঙা রাগের বিষণ্ণ-নরম আবহ এবং একতালের ধীর, স্থির ছন্দ গানটির অন্তর্গত আত্মসংযম ও লাজুক আবেগকে গভীরভাবে প্রকাশ করে। এখানে প্রেম প্রকাশ পায় উচ্চকণ্ঠে নয়, বরং অন্তরের গোপন স্তরে—যেখানে ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে শ্রদ্ধা, ভয় ও আত্মনিবেদনের আবরণে।
রাগ: বিলাতি ভাঙা
তাল: একতাল
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ১২৯১
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): ১৮৮৫
কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া :
কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া
তোমার চরণে দিব হৃদয় খুলিয়া
চরণে ধরিয়া তব কহিব প্রকাশি
গোপনে তোমারে, সখা, কত ভালোবাসি।
ভেবেছিনু কোথা তুমি স্বর্গের দেবতা,
কেমনে তোমারে কব প্রণয়ের কথা।
ভেবেছিনু মনে মনে দূরে দূরে থাকি
চিরজন্ম সঙ্গোপনে পূজিব একাকী–
কেহ জানিবে না মোর গভীর প্রণয়,
কেহ দেখিবে না মোর অশ্রুবারিচয়।
আপনি আজিকে যবে শুধাইছ আসি,
কেমনে প্রকাশি কব কত ভালোবাসি॥
![কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া [ Kotobar vebechinu apna vulia ] 1 কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া | Kotobar vebechinu apna vulia](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/09/কতবার-ভেবেছিনু-আপনা-ভুলিয়া.jpg)