বিদেশী ফুলের গুচ্ছ bideshi fuler guccho [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিদেশী ফুলের গুচ্ছ

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থ : কড়ি ও কোমল

কবিতার শিরনামঃ বিদেশী ফুলের গুচ্ছ

বিদেশী ফুলের গুচ্ছ bideshi fuler guccho [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিদেশী ফুলের গুচ্ছ bideshi fuler guccho [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মধুর স্বর্য্যের আলো, আকাশ বিমল,
সঘনে উঠিছে নাচি তরঙ্গ উজ্জল।
মধ্যাহ্লের স্বচ্ছ করে
সাজিয়াছে থরে থরে
ক্ষুদ্র নীল দ্বীপগুলি, গুঞ্জ-শৈল-শির;
কাননে কুঁড়িরে ঘিরি,
পড়িতেছে ধীরি ধীরি
পৃথিবীর অতি মৃদু নিঃশ্বাস সমীর।
একই আননো যেন গায় শত প্রাণ;
বাতাসের গান আর পার্থীদের গান,
সাগরের জলরব
নগরের কলরব
এসেছে কোমল হ’য়ে স্তব্ধতার সঙ্গীত সমান।

আমি দেখিতেছি চেয়ে সমুদ্রের জলে
শৈবাল বিচিত্র বর্ণ ভাসে দলে দলে।

আমি দেখিতেছি চেয়ে,
উপকুল পানে ধেয়ে
মুঠি মুঠি তারাবৃষ্টি করে ঢেউগুলি!
বিরলে বালুকা তীরে
একা বসে রয়েছি রে,
চারিদিকে চকিছে জলের বিজুলী!
তালে তালে ঢেউগুলি করিছে উত্থান,
তাই হতে উঠিতেছে কি একটি তান!
মধুর ভাবের ভরে
হৃদয় কেমন করে
আমার সে ভাব আজি বুঝিবে কি আর কোন প্রাণ

হায় মাের নাই আশা, নাইক আরাম,
ভিতরে নাইক শান্তি বাহিরে বিরাম।
নাই সে সন্তোষ ধন-
জ্ঞানী ঋষি মােগীগণ,
ধ্যান সাধনায় যাহা পায় করতলে;

আনন্দ মগন মন
করে তারা বিচরণ
বিমল মহিমালােক অন্তরেতে জ্বলে।
নাই যশ, নাই প্রেম, নাই অবসর;
পূর্ণ করে আছে এরা সকলেরি ঘর,
সুখে তারা হাসে খেলে,
সুখের জীবন বলে,
আমার কপালে বিধি লিখিয়াছে আরেক অক্ষর।
8
কিন্তু নিরাশাও শান্ত হয়েছে এমন,
যেমন বাতাস এই, সলিল যেমন।
মনে হয় মাথা থুয়ে
এইখানে থাকি শুয়ে
অতিশয় শ্রান্তকায় শিশুটির মত,
কাঁদিয়া দুঃখের প্রাণ
ক’রে দিই অবসান,
যে দুঃখ বহিতে হবে বহিয়াছি কত!

আসিবে ঘুমের মত মরণের কোল,
ধীরে ধীরে হিম হয়ে আসিবে কপোল।
মুমুর্ষ শ্রবণ তলে
মিশাইবে পলে পলে
সাগরের অবিরাম একতান অন্তিম কল্লোল!

(MRS. BROWNING. )

সারাদিন গিয়েছিনু বনে,
ফুলগুলি তুলেছি যতনে।
প্রাতে মধুপানে রত
মুগ্ধ মধুপের মত
গান গাহিয়াছি আনমনে!

এখন চাহিয়া দেখি, হায়,
ফুলগুলি শুকায় শুকায়!
যত চাপিলাম মুঠি
পাপড়িগুলি গেল টুটি,
কান্না ওঠে, গান থেমে যায়।

কি বলিছ সখা হে আমার,
ফুল নিতে যাব কি আবার!
থাক্ বঁধু, থাক্ থাক্,
আর কেহ যায় যাক্,
আমি ত যাবনা কভু আর!

শান্ত এ হৃদয় অতি দীন,
পরাণ হয়েছে বলহীন।
ফুলগুলি মুঠা ভরি
মুঠায় রহিবে মরি,
আমি না মরিব যত দিন!

ভগ্নহৃদয় তৃতীয় সর্গ bhagno hriday titio sorgo [ কবিতা ]- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

( ERNEST MYERS )

আমায় রেখ না ধ’রে আর,
আর হেথা ফুল নাহি ফুটে ।
হেমন্তের পত্নিছে নীহার,
আমায় রেখন। ধ’রে অরো ৷
যাই হেথা হতে যাই উঠে,
আমার স্বপন গেছে টুটে !
কঠিন পাষাণ পথে
যেতে হবে কোন মতে
পা দিয়েছি যবে !
একটি বসন্ত রাতে
ছিলে তুমি মোর সাথে,
পোহাল ত, চলে যাও তবে !

(AUBREY DE VERE)

প্রভাতে একটি দীর্ঘশ্বাস ;
একটি বিরল অশ্রুবারি
ধীরে ওঠে, ধীরে ঝ’রে যায় ;
শুনিলে তােমার নাম আজ,
কেবল একটুখানি লাজ—
এই শুধু বাকি আছে হায় !
আর সব পেয়েছে বিনাশ!
এককালে ছিল যে আমারি,
গেছে আজ করি পরিহাস!

(AUGUSTA WEBSTER.)

গোলাপ হাসিয়া বলে, “আগে বৃষ্টি যাক্ চ’লে,
দিক্ দেখা তরুণ তপন,
তখন ফুটাব এ যৌবন !”
গেল মেঘ, এল উষা, আকাশের আঁখি হতে
মুছে দিল বৃষ্টি বারি কণা।
সেত রহিল না !
কোকিল ভাবিছে মনে, “শীত যাবে কতক্ষণে,
গাছপালা ছাইবে মুকুলে,
তখন গাহিব মন খুলে !”
কুয়াশা কাটিয়া যায়—বসন্ত হাসিয়া চায়,
কানন কুসুমে ভ’রে গেল।
সে যে ম’রে গেল !

(IBID.)

এত শীঘ্র ফুটলি কেনরে!
ফুটিলে পড়িতে হয় ঝ’রে;
মুকুলের দিন আছে তবু,
ফোটা ফুল ফোটেনাত আর!
বড় শীঘ্র গেলি মধুমাস,
দুদিনেই ফুরাল নিশ্বাস!
বসন্ত আবার আসে বটে,
গেল যে সে ফেরে না আবার!

ভগ্নহৃদয় ষষ্ঠ সর্গ [ কবিতা ]- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর [ Rabindranath Tagore ]

(P. B. MARSTON.)

হাসির সময় বড় নেই,
দুদণ্ডের তরে গান গাওয়া;
নিমেষের মাঝে চুম খেয়ে
মুহূর্তে ফুরাবে চুম খাওয়া!
বেলা নাই শেষ করিবারে
অসম্পূর্ণ প্রেমের মন্ত্রনা;
সুখস্বপ্ন পলকে ফুরায়,
তার পরে,জাগ্রত যন্ত্রণা!
কিছুক্ষণ কথা ক’য়ে লও,
তাড়াতাড়ি দেখে লও মুখ;
দুদণ্ডের খোঁজ দেখাশুনা,
ফুরাইবে খুজিবার সুখ।
বেলা নাই কথা কহিবারে
যে কথা কহিতে ফাটে প্রাণ!
দেবতারে দুট কথা বলে
প্রজার সময় অবসান।

কাঁদিতে রয়েছে দীর্ঘদিন,
জীবন করিতে মরুময়,
ভাবিতে রয়েছে চিরকাল,
ঘুমাইতে অনন্ত সময়।

( VICTOR HUGO.)

বেঁচেছিল, হেসে হেসে,
খেলা করে বেড়াত সে,
হে প্রকৃতি, তারে নিয়ে কি হ’ল’ তােমার !
শত রঙ্-করা পাখী
তাের কাছে ছিল নাকি !
কত তারা, বন, সিন্ধু, আকাশ অপার !
জননীর কোল হতে কেন তবে কেড়ে নিলি !
লুকায়ে ধরার কোলে ফুল দিয়ে ঢেকে দিলি !
শত-তারা-পুষ্পময়ি !
মহতী প্রকৃতি অয়ি,
-না হয় একটি শিশু নিলি চুরি ক’রে-
অসীম ঐশ্বর্য্য তব
তাহে কি বাড়িল নব!
নূতন আনন্দ কণা মিলিল কি ওরে!
অথচ তােমারি মত বিশাল মায়ের হিয়া,
লব শূন্য হয়ে গেল একটি সে শিশু গিয়া ।

ভগ্নহৃদয় প্রথম সর্গ bhagno hriday prothom sorgo [ কবিতা ]- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর [ Rabindranath Tagore ]

(MOORE. )

নিদাঘের শেষ গোলাপ কুসুম
এক বন আলো করিয়া;
রূপসী তাহার সহচরীগণ
শুকায়ে পড়েছে ঝরিয়া।
একাকিনী আহা, চারিদিকে তার
কোন ফুল নাহি বিকাশে,
হাসিতে তাহার মিশাইতে হাসি
নিশাস তাহার নিশাসে।

বোঁটার উপরে শুকাইতে তোরে
রাখিব না একা ফেলিয়া,
সবাই ঘুমায়, তুইও ঘুমা’গে’
তাহাদের সাথে মিলিয়।
ছড়ায়ে দিলাম দলগুলি তোর
কুসুম-সমাধি-শয়নে,
যেথা তোর বন-সখীরা সবাই
ঘুমায় মুদিত নয়নে।

তেমনি আমার সখারা যখন
যেতেছেন মােরে ফেলিয়া,
প্রেমহার হতে একটি একটি
রতন পড়িছে খুলিয়া,
প্রণয়ী হৃদয় গেল গাে শুকায়ে
প্রিয়জন গেল চলিয়া,
তবে এ আঁধার আঁধার জগতে
রহিব বল কি বলিয়া!

(MRS. BROWNING.)

ওই আদরের নামে ডেকো সখা মােরে,
ছেলে বেলা ওই নামে আমায় ডাকিত,
তাড়াতাড়ি খেলাধূলাে সব ত্যাগ করে
অমনি যেতেম ছুটে
কোলে পড়িতাম লুটে,
রাশি-করা ফুলগুলি পড়িয়া থাকিত।
নীরব হইয়া গেছে সে স্নেহের স্বর,
কেবল স্তব্ধতা রাজে।
আজি এ শ্মশান মাঝে,
কেবল ডাকি গাে আমি ঈশ্বর—ঈশ্বর—।
মৃত কণ্ঠে আর যাহা শুনিতে না পাই,
সে নাম তােমারি মুখে শুনিবারে চাই।
হাঁ সখা, ডাকিও তুমি সেই নাম ধোরে,
ডাকিলেই সাড়া পাবে,
;কিছু না বিলম্ব হবে,
তখনি কাছেতে যাব সব ত্যাগ কোরে !

( CHRISTINA ROSSETTI.)

কেমনে কি হল পারিনে বলিতে
এইটুকু শুধু জানি—
নবীন কিরণে ভাসিছে সে দিন
প্রভাতের তনুখানি।
বসন্ত তখনাে কিশাের কুমার,
কুঁড়ি উঠে নাই ফুটি,
শাখায় শাখায় বিহগ বিহগী
বসে আছে দুটি দুটি।

কিযে হয়ে গেল পারিনে বলিতে,
এই টুকু শুধু জানি—
বসন্তও গেল তাও চলে গেল
একটি না করে বাণী।
যা-কিছু মধুর সব ফুরাইল,
সেও হল অবসান,
আমারেই শুধু ফেলে রেখে গেল
সুখহীন ম্রিয়মান।

ভগ্নহৃদয় প্রথম সর্গ bhagno hriday prothom sorgo [ কবিতা ]- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর [ Rabindranath Tagore ]

(SWINBURNE. )

রবির কিরণ হতে আড়াল করিয়া রেখে
মনটি আমার আমি গােলাপে রাখিনু ঢেকে;
সে বিছানা সুকোমল, বিমল নীহার চেয়ে,
তারি মাঝে মন খানি রাখিলাম লুকাইয়ে!
একটি ফুল না নড়ে, একটি পাতা না পড়ে,
তবু কেন ঘুমায় না, চমকি চমকি চায়?
ঘুম কেন পাখা নেড়ে উড়িয়ে পালিয়ে যায়?
আর কিছু নয়, শুধু গােপনে একটি পাখী
কোথা হতে মাঝে মাঝে উঠিতেছে ডাকি ডাকি!

ঘুমা তুই, ওই দেখ বাতাস মুদেছে পাখা,
রবির কিরণ হতে পাতায় আছি ঢাকা;
ঘুমা তুই, ওই দেখ, তাে চেয়ে দুরন্ত বায়
ঘুমেতে সাগর পরে চুলে পড়ে পায় পায়;
দুখের কাঁটায় কিরে বিঁধিতেছে কলেবর?
বিষাদের বিষদাতে কমিছে কি জরজর?
কেন তবে ঘুম তাের ছাড়িয়া গিয়াছে আঁখি?
কে জানে গােপনে কোথা ডাকিছে একটি পাখী।

শ্যামল কানন এই মােহমন্ত্র জালে ঢাকা,
অমৃত-মধুর ফল ভরিয়ে রয়েছে শাখা;
স্বপনের পাখীগুলি চঞ্চল ডানাটি তুলি
উড়িয়া চলিয়া যায় আঁধার প্রান্তর পরে;
গাছের শিখর হতে ঘুমের সঙ্গীত ঝরে।
নিভৃত কানন পর শুনিনা ব্যাধের স্বর
তবে কেন এ হরিণী চমকায় থাকি থাকি!
কে জানে, গােপনে কোথা ডাকিছে একটি পাখী।

(CHRISTINA ROSSETTI.)

দেখিনু যে এক আশার স্বপন
শুধু তা স্বপন, স্বপনময়,
স্বপন বই সে কিছুই নয়!
অবশ হৃদয় অবসাদময়
হারাইয়া সুখ শ্রান্ত অতিশয়
আজিকে উঠি জাগি
কেবল একটি স্বপন লাগি!

বীণাটি আমার নীরব হইয়া
গেছে গীত গান ভূলি,
ছিঁড়িয়া টুটিয়া ফেলেছি তাহার
একে একে তারগুলি।
নীরব হইয়া রয়েছে পড়িয়া
সুদুর শ্মশান পরে,
কেবল একটি স্বপন তরে!

থাম্ থাম্ ওরে হৃদয় আমার,
থাম্ থাম্ একেবারে,
নিতান্তই যদি টুটিয়া পড়িবি
একেবারে ভেঙ্গে যা’রে—
এই তোর কাছে মাগি!
আমার জগৎ, আমার হৃদয়
আগে যাহা ছিল এখন্ তা নয়
কেবল একটি স্বপন লাগি!

(HOOD)

নহে নহে, এ নহে মরণ!
সহসা এ প্রাণপূর্ণ নিশ্বাস বাতাস
নীরবে করে যে পলায়ন,
আলোতে ফুটায় আলো এই আঁখি তারা
নিবে যায় একদা নিশীথে,
বহেনা রুধির নদী,—সুকোমল তনু
ধূলায় মিলায় ধরণীতে,
ভাবনা মিলায় শূন্যে, মৃত্তিকার তলে
রুদ্ধ হয় অমর হৃদয়—
এই মৃত্যু? এ ত মৃত্যু নয়।
কিন্তু রে পবিত্র শোক যায় না যে দিন
পিরিতির স্মিরিতি মন্দিরে,
উপেক্ষিত অতীতের সমাধির পরে
তৃণরাজি দোলে ধীরে ধীরে।
মরণ-অতীত চির-নূতন পরাণ
স্মরণে করে না বিচরণ,
সেই বটে সেই ত মরণ!

(কোন জাপানী কবিতার ইংরাজী অনুবাদ হইতে)

বাতাসে অশথ পাতা পড়িছে খসিয়া,
বাতাসেতে দেবদারু উঠিছে শ্বসিয়া।
দিবসের পরে বসি রাত্রি মুদে আঁখি,
নীড়েতে বসিয়া যেন পাহাড়ের পাখী।
শ্রান্ত পদে ভ্রমি আমি নগরে নগরে,
বিজন অরণ্য,দিয়া পর্ব্বতে সাগরে;
উড়িয়া গিয়াছে সেই পার্থীটি আমার,
খুঁজিয়া বেড়াই তারে সকল সংসার!
দিন রাত্রি চলিয়াছি—শুধু চলিয়াছি—
ভূলে যেতে ভূলিয়া গিয়াছি!

আমি যত চলিতেছি রৌদ্র বৃষ্টি বায়ে
হৃদয় আমার অত পড়িছে পিছায়ে!
হৃদয় রে ছাড়াছাড়ি হল তোর সাথে,
একভাব রহিল না তোমাতে আমাতে।

নীড় বেঁধেছিনু যেথা যা’ রে সেইখানে,
একবার ডাক্‌ গিয়ে আকুল পরাণে।
কে জানে, হতেও পারে, সে নীড়ের কাছে
হয়ত পাখীটি মোর লুকাইয়ে আছে!
কেঁদে কেঁদে বৃষ্টি জলে আমি ভ্রমিতেছি,
ভুলে যেতে ভূলিয়ে গিয়েছি!

ভগ্নহৃদয় ষষ্ঠ সর্গ [ কবিতা ]- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর [ Rabindranath Tagore ]

দেশের সবাই জানে কাহিনী আমার;
বলে তারা “এত প্রেম আছে বা কাহার!
পাখী সে পালায়ে গেছে কথাটি না বলে,
এমন ত সব পাখী উড়ে যায় চলে;
চিরদিন তারা কভু থাকে না সমান,
এমন ত কত শত রয়েছে প্রমাণ।
ডাকে, আর গায়, আর উড়ে যায় পরে,
এ ছাড়া বল ত তা’র আর কিবা করে?
পার্থী গেল যার, তার এক দুঃখ আছে—
ভূলে যেতে ভুলে সৈ গিয়াছে!”

সারাদিন দেখি আমি উড়িতেছে কাক,
সারারাত শুনি আমি পেচকের ডাক।
চন্দ্র উঠে অস্ত যায় পশ্চিম সাগরে;
পূরবে তপন উঠে জলদের স্তরে;
পাতা ঝরে, শুভ্র রেণু উড়ে চারিধার,
বসন্ত মুকুল এ কি? অথবা তুষার?
হৃদয় বিদায় লই এবে তাের কাছে—
বিলম্ব হইয়া গেল—সময় কি আছে?
শান্ত হরে—এক দিন সুখী হবি তবু,
মরণ সে ভূলে যেতে ভােলে না ত কভু!

আরও দেখুনঃ

যোগাযোগ

আশিস-গ্রহণ ashish grohon [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আহ্বান গীত ahobban geet [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বঙ্গবাসীর প্রতি bangabasir prati [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মন্তব্য করুন

error: Content is protected !!