ভরা ভাদরে ভরা কবিতা । bhora bhadore bhora kobita | সোনার তরী কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভরা ভাদরে ভরা কবিতাটি [ bhora bhadore bhora kobita ] কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর সোনার তরী-কাব্যগ্রন্থের অংশ। এটি ১৮৯৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। এটি রবীন্দ্রনাথের কাব্য রচনার “মানসী-সোনার তরী পর্ব”-এর অন্তর্গত একটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি।
কাব্যগ্রন্থের নামঃ সোনার তরী
কবিতার নামঃ ভরা ভাদরে ভরা
ভরা ভাদরে ভরা কবিতা । bhora bhadore bhora kobita | সোনার তরী কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর [ Rabindranath Tagore ]

ভরা ভাদরে ভরা কবিতা । bhora bhadore bhora kobita | সোনার তরী কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভরা ভাদরে

নদী ভরা কূলে কূলে, খেতে ভরা ধান।

আমি ভাবিতেছি বসে কী গাহিব গান।
       কেতকী জলের ধারে
       ফুটিয়াছে ঝোপে ঝাড়ে,
       নিরাকুল ফুলভারে
                বকুল-বাগান।
কানায় কানায় পূর্ণ আমার পরান।
ঝিলিমিলি করে পাতা, ঝিকিমিকি আলো
আমি ভাবিতেছি কার আঁখিদুটি কালো।
       কদম্ব গাছের সার,
       চিকন পল্লবে তার
       গন্ধে-ভরা অন্ধকার
                হয়েছে ঘোরালো।
কারে বলিবারে চাহি কারে বাসি ভালো।
অম্লান উজ্জ্বল দিন, বৃষ্টি অবসান।
আমি ভাবিতেছি আজি কী করিব দান।
       মেঘখণ্ড থরে থরে
       উদাস বাতাস-ভরে
       নানা ঠাঁই ঘুরে মরে
               হতাশ-সমান।
ভরা ভাদরে ভরা কবিতা । bhora bhadore bhora kobita | সোনার তরী কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর [ Rabindranath Tagore ]
সাধ যায় আপনারে করি শতখান।
দিবস অবশ যেন হয়েছে আলসে।
আমি ভাবি আর কেহ কী ভাবিছে বসে।
       তরুশাখে হেলাফেলা
       কামিনীফুলের মেলা,
       থেকে থেকে সারাবেলা
               পড়ে খ’সে খ’সে।
কী বাঁশি বাজিছে সদা প্রভাতে প্রদোষে।
পাখির প্রমোদগানে পূর্ণ বনস্থল।
আমি ভাবিতেছি চোখে কেন আসে জল।
       দোয়েল দুলায়ে শাখা
       গাহিছে অমৃতমাখা,
       নিভৃত পাতায় ঢাকা
                 কপোতযুগল।
আমারে সকলে মিলে করেছে বিকল।
ভরা ভাদরে ভরা কবিতা । bhora bhadore bhora kobita | সোনার তরী কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর [ Rabindranath Tagore ]
আরও পড়ুনঃ

মন্তব্য করুন