মুক্তি কবিতা | mukhti kobita | বীথিকা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মুক্তি কবিতাটি [ mukhti kobita ] কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর বীথিকা কাব্যগ্রন্থের অংশ।

মুক্তি mukhti বীথিকা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 

কাব্যগ্রন্থের নামঃ বীথিকা

কবিতার নামঃ মুক্তি mukti

মুক্তি mukhti বীথিকা [ কবিতা ] -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর [ Rabindranath Tagore ]

মুক্তি কবিতা | mukhti kobita | বীথিকা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 জয় করেছিনু মন তাহা বুঝে নাই,

                             চলে গেনু তাই

                                  নতশিরে।

মনে ক্ষীণ আশা ছিল ডাকিবে সে ফিরে।

          মানিল না হার,

         আমারে করিল অস্বীকার।

                             বাহিরে রহিনু খাড়া

                           কিছুকাল, না পেলেম সাড়া।

                             তোরণদ্বারের কাছে

                                  চাঁপাগাছে

                             দক্ষিণে বাতাস থরথরি

                       অন্ধকারে পাতাগুলি উঠিল মর্মরি।

                             দাঁড়ালেম পথপাশে,

          ঊর্ধ্বে বাতায়ন-পানে তাকালেম ব্যর্থ কী আশ্বাসে।

                        দেখিনু নিবানো বাতি–

                             আত্মগুপ্ত অহংকৃত রাতি

                        কক্ষ হতে পথিকেরে হানিছে ভ্রূকুটি।

          এ কথা ভাবি নি মনে, অন্ধকারে ভূমিতলে লুটি

               হয়তো সে করিতেছে খান্‌ খান্‌

                   তীব্রঘাতে আপনার অভিমান।

 

মুক্তি mukhti বীথিকা [ কবিতা ] -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
Rabindranath Tagore

                        দূর হতে দূরে গেনু সরে

          প্রত্যাখ্যানলাঞ্ছনার বোঝা বক্ষে ধরে।

                   চরের বালুকা ঠেকা

               পরিত্যক্ত তরীসম রহিল সে একা।

আশ্বিনের ভোরবেলা চেয়ে দেখি পথে যেতে যেতে

          ক্ষীণ কুয়াশায় ঢাকা কচিধানখেতে

                   দাঁড়িয়ে রয়েছে বক,

দিগন্তে মেঘের গুচ্ছে দুলিয়াছে উষার অলক।

     সহসা উঠিল বলি হৃদয় আমার,

          দেখিলাম যাহা দেখিবার

                   নির্মল আলোকে

                             মোহমুক্ত চোখে।

    কামনার যে পিঞ্জরে শান্তিহীন

          অবরুদ্ধ ছিনু এতদিন

                   নিষ্ঠুর আঘাতে তার

                             ভেঙে গেছে দ্বার–

               নিরন্তর আকাঙক্ষার এসেছি বাহিরে

                   সীমাহীন বৈরাগ্যের তীরে।

                        আপনারে শীর্ণ করি

                             দিবসশর্বরী

                                 ছিনু জাগি

                             মুষ্টিভিক্ষা লাগি।

                   উন্মুক্ত বাতাসে

          খাঁচার পাখির গান ছাড়া আজি পেয়েছে আকাশে।

                   সহসা দেখিনু প্রাতে

          যে আমারে মুক্তি দিল আপনার হাতে

                   সে আজও রয়েছে পড়ি

          আমারি সে ভেঙে-পড়া পিঞ্জর আঁকড়ি।

আরও দেখুনঃ 

Amar Rabindranath Logo

মন্তব্য করুন