সন্ধ্যা কবিতা চিত্রা। sandha kobita | চিত্রা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সন্ধ্যা কবিতা চিত্রা [ sandha kobita ] টি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর চিত্রা কাব্যগ্রন্থের অংশ।

কাব্যগ্রন্থের নামঃ চিত্রা

কবিতার নামঃ সন্ধ্যা

সন্ধ্যা কবিতা চিত্রা। sandha kobita | চিত্রা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর [ Rabindranath Tagore ]

সন্ধ্যা কবিতা চিত্রা । sandha kobita | চিত্রা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ক্ষান্ত হও, ধীরে কও কথা। ওরে মন,

নত করো শির। দিবা হল সমাপন,

সন্ধ্যা আসে শান্তিময়ী। তিমিরের তীরে

অসংখ্য-প্রদীপ-জ্বালা এ বিশ্বমন্দিরে

এল আরতির বেলা। ওই শুন বাজে

নিঃশব্দ গম্ভীর মন্দ্রে অনন্তের মাঝে

শঙ্খঘণ্টাধ্বনি। ধীরে নামাইয়া আনো

বিদ্রোহের উচ্চ কণ্ঠ পূরবীর ম্লান-

মন্দ স্বরে। রাখো রাখো অভিযোগ তব,

মৌন করো বাসনার নিত্য নব নব

নিষ্ফল বিলাপ। হেরো মৌন নভস্তল,

ছায়াচ্ছন্ন মৌন বন, মৌন জলস্থল

স্তম্ভিত বিষাদে নম্র। নির্বাক্‌ নীরব

দাঁড়াইয়া সন্ধ্যাসতী– নয়নপল্লব

নত হয়ে ঢাকে তার নয়নযুগল,

অনন্ত আকাশপূর্ণ অশ্রু-ছলছল

করিয়া গোপন। বিষাদের মহাশান্তি

ক্লান্ত ভুবনের ভালে করিছে একান্তে

সান্ত্বনা-পরশ। আজি এই শুভক্ষণে,

শান্ত মনে, সন্ধি করো অনন্তের সনে

সন্ধ্যার আলোকে। বিন্দু দুই অশ্রুজলে

দাও উপহার– অসীমের পদতলে

জীবনের স্মৃতি। অন্তরের যত কথা

শান্ত হয়ে গিয়ে, মর্মান্তিক নীরবতা

করুক বিস্তার।

সন্ধ্যা কবিতা চিত্রা। sandha kobita | চিত্রা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর [ Rabindranath Tagore ]

        হেরো ক্ষুদ্র নদীতীরে

সুপ্তপ্রায় গ্রাম। পক্ষীরা গিয়েছে নীড়ে,

শিশুরা খেলে না; শূন্য মাঠ জনহীন;

ঘরে-ফেরা শ্রান্ত গাভী গুটি দুই-তিন

কুটির-অঙ্গনে বাঁধা, ছবির মতন

স্তব্ধপ্রায়। গৃহকার্য হল সমাপন–

কে ওই গ্রামের বধূ ধরি বেড়াখানি

সম্মুখে দেখিছে চাহি, ভাবিছে কী জানি

ধূসর সন্ধ্যায়।

           অমনি নিস্তব্ধপ্রাণে

বসুন্ধরা, দিবসের কর্ম-অবসানে,

দিনান্তের বেড়াটি ধরিয়া আছে চাহি

দিগন্তের পানে। ধীরে যেতেছে প্রবাহি

সম্মুখে আলোকস্রোত অনন্ত অম্বরে

নিঃশব্দ চরণে; আকাশের দূরান্তরে

একে একে অন্ধকারে হতেছে বাহির

একেকটি দীপ্ত তারা, সুদূর পল্লীর

প্রদীপের মতো। ধীরে যেন উঠে ভেসে

ম্লানচ্ছবি ধরণীর নয়ননিমেষে

কত যুগ-যুগান্তের অতীত আভাস,

কত জীবজীবনের জীর্ণ ইতিহাস।

যেন মনে পড়ে সেই বাল্যনীহারিকা;

তার পরে প্রজ্বলন্ত যৌবনের শিখা;

তার পরে স্নিগ্ধশ্যাম অন্নপূর্ণালয়ে

জীবধাত্রী জননীর কাজ বক্ষে লয়ে

লক্ষ কোটি জীব– কত দুঃখ, কত ক্লেশ,

কত যুদ্ধ, কত মৃত্যু, নাহি তার শেষ।

ক্রমে ঘনতর হয়ে নামে অন্ধকার,

গাঢ়তর নীরবতা– বিশ্বপরিবার

সুপ্ত নিশ্চেতন। নিঃসঙ্গিনী ধরণীর

বিশাল অন্তর হতে উঠে সুগম্ভীর

একটি ব্যথিত প্রশ্ন, ক্লিষ্ট ক্লান্ত সুর,

শূন্যপানে– “আরো কোথা? আরো কত দূর?”

আরও দেখুনঃ

যোগাযোগ

খ্যাতি আছে সুন্দরী বলে তার কবিতা | khyati achhe sundari bole tar kobita | খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

নাম তার ডাক্তার ময়জন কবিতা | nam tar daktar moyjon kobita | খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বেণীর মোটরখানা কবিতা | benir motorkhana kobita | খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গুপ্তিপাড়ায় জন্ম তাহার কবিতা | guptiparay jonmo tahar kobita | খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আধা রাতে গলা ছেড়ে কবিতা | adha rate gola chhere kobita | খাপছাড়া কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

“সন্ধ্যা কবিতা চিত্রা। sandha kobita | চিত্রা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন