রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কণিকা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত “অপরিহরণীয়” কবিতাটি মানুষের আত্মমূল্য, মর্যাদা ও অন্তর্গত সম্পদের অখণ্ডতা নিয়ে রচিত এক দার্শনিক চিত্র। কবি এখানে ইঙ্গিত করেছেন—জীবনের প্রকৃত সম্পদ বাহিরে নয়, তা লুকিয়ে থাকে মানুষের চেতনা, সত্যনিষ্ঠা ও আত্মিক শক্তিতে; যা কোনো শক্তিই কাড়তে পারে না, কোনো বিপদই যার ক্ষয় ঘটাতে পারে না। ক্ষুদ্র রূপক ও ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষার ভেতর দিয়ে রবীন্দ্রনাথ মানুষকে আত্মবিশ্বাস, নৈতিক দৃঢ়তা ও আধ্যাত্মিক স্বাধীনতার শিক্ষা দিয়েছেন। ছোট্ট এই রচনার মধ্যেও মানবজীবনের এক গভীর চিরন্তন সত্য উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
অপরিহরণীয় কবিতা [ Oporihoroniyo Kobita] – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মৃত্যু কহে, পুত্র নিব; চোর কহে ধন।
ভাগ্য কহে, সব নিব যা তোর আপন।
নিন্দুক কহিল, লব তব যশোভার।
কবি কহে, কে লইবে আনন্দ আমার?