আকাশপ্রদীপ কবিতা [Akashprodip Kobita] – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছড়ার ছবি (১৯৩৭) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত “আকাশ’প্রদীপ” কবিতাটি এক গভীর মানবিক আবেগে গাঁথা নির্মল শিশুমনের কল্পলোককে স্পর্শ করে। এখানে একটি ছোট মেয়ে রাতের অন্ধকারে আকাশের দিকে চেয়ে একটি আলোর নৌকা ভাসিয়ে দেয়—এই বিশ্বাসে যে তার মৃত মা সেই আলো চিনে ফের ঘরে ফিরে আসবেন। শৈশবের আকুল অপেক্ষা, হারানো মাকে ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন, এবং আকাশের নক্ষত্রলোকের সঙ্গে মাটির ঘরের নিবিড় সম্পর্ক—সব মিলিয়ে কবিতাটি হয়ে উঠেছে এক অনুপম দুঃখমধুর রচনা। আলো এখানে শুধু প্রদীপ নয়, বরং আশা, স্মৃতি এবং অনন্ত ভালোবাসার প্রতীক; যা মৃত্যুর সীমা পেরিয়েও সন্তান–মাতার বন্ধনকে অটুট রাখে।

 

আকাশপ্রদীপ কবিতা [Akashprodip Kobita]

অন্ধকারের সিন্ধুতীরে একলাটি ঐ মেয়ে

আলোর নৌকা ভাসিয়ে দিল আকাশপানে চেয়ে।

মা যে তাহার স্বর্গে গেছে এই কথা সে জানে,

ঐ প্রদীপের খেয়া বেয়ে আসবে ঘরের পানে।

পৃথিবীতে অসংখ্য লোক, অগণ্য তার পথ,

তারই মধ্যে স্বর্গ থেকে ছোট্ট ঘরের কোণ

যায় কি দেখা যেথায় থাকে দুটিতে ভাইবোন।

মা কি তাদের খুঁজে খুঁজে বেড়ায় অন্ধকারে,

তারায় তারায় পথ হারিয়ে যায় শূন্যের পারে।

মেয়ের হাতের একটি আলো জ্বালিয়ে দিল রেখে,

সেই আলো মা নেবে চিনে অসীম দূরের থেকে।

ঘুমের মধ্যে আসবে ওদের চুমো খাবার তরে

রাতে রাতে মা-হারা সেই বিছানাটির ‘পরে।

Amar Rabindranath Logo

মন্তব্য করুন