আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

আকাশ প্রদীপ কাব্যগ্রন্থের যাত্রাপথ কবিতা [ Jatrapoth Kobita ]

Table of Content

“যাত্রাপথ” কবিতা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর–এর অন্ত্যপর্বের কাব্যগ্রন্থ আকাশ প্রদীপ (১৯৩৯)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা। আকাশ প্রদীপ গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের জীবনের শেষ পর্বের চিন্তা, অভিজ্ঞতা ও আত্মসমালোচনার এক গভীর দলিল। এই পর্যায়ের কবিতাগুলিতে তিনি শৈশবস্মৃতি, জ্ঞানার্জনের পথ, জীবনের অনিশ্চয়তা এবং বোঝা–না–বোঝার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা মানবচেতনার কথা বলেছেন। “যাত্রাপথ” কবিতায় শৈশবে বই পড়ার অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে জীবনের বৃহৎ যাত্রার রূপক নির্মিত হয়েছে। এখানে জ্ঞান কোনো স্থির হিসাব নয়—বরং প্রবাহমান নদীর মতো, যেখানে অর্থের চেয়ে গতি ও অভিজ্ঞতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কৃত্তিবাসী রামায়ণ, রাজপুত্র, সদাগরের পুত্র, কোটালপুত্র—এই সব উপমা ও কাহিনির মাধ্যমে কবি দেখিয়েছেন, মানুষের জীবন আসলে এক চিরন্তন অনুসন্ধান, যার শেষ নেই, কিন্তু পথচলা থামে না।

যাত্রাপথ কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মনে পড়ে, ছেলেবেলায় যে বই পেতুম হাতে

ঝুঁকে পড়ে যেতুম পড়ে তাহার পাতে পাতে।

কিছু বুঝি, নাই বা কিছু বুঝি,

কিছু না হোক পুঁজি,

হিসাব কিছু না থাক্‌ নিয়ে লাভ অথবা ক্ষতি,

অল্প তাহার অর্থ ছিল, বাকি তাহার গতি।

মনের উপর ঝরনা যেন চলেছে পথ খুঁড়ি,

কতক জলের ধারা আবার কতক পাথর নুড়ি।

সব জড়িয়ে ক্রমে ক্রমে আপন চলার বেগে

পূর্ণ হয়ে নদী ওঠে জেগে।

শক্ত সহজ এ সংসারটা যাহার লেখা বই

হালকা ক’রে বুঝিয়ে সে দেয় কই।

বুঝছি যত খুজছি তত, বুঝছি নে আর ততই–

কিছু বা হাঁ, কিছু বা না, চলছে জীবন স্বতই।

 

কৃত্তিবাসী রামায়ণ সে বটতলাতে ছাপা,

দিদিমায়ের বালিশ-তলায় চাপা।

আলগা মলিন পাতাগুলি, দাগি তাহার মলাট

দিদিমায়ের মতোই যেন বলি-পড়া ললাট।

মায়ের ঘরের চৌকাঠেতে বারান্দার এক কোণে

দিন-ফুরানো ক্ষীণ আলোতে পড়েছি একমনে।

অনেক কথা হয় নি তখন বোঝা,

যেটুকু তার বুঝেছিলাম মোট কথাটা সোজা–

ভালোমন্দে লড়াই অনিঃশেষ,

প্রকাণ্ড তার ভালোবাসা, প্রচণ্ড তার দ্বেষ।

বিপরীতের মল্লযুদ্ধ ইতিহাসের রূপ

সামনে এল, রইনু বসে চুপ।

শুরু হতে এইটে গেল বোঝা,

হয়তো বা এক বাঁধা রাস্তা কোথাও আছে সোজা,

যখন-তখন হঠাৎ সে যায় ঠেকে,

আন্দাজে যায় ঠিকানাটা বিষম এঁকেবেঁকে।

সব-জানা দেশ এ নয় কভু, তাই তো তেপান্তরে

রাজপুত্তুর ছোটায় ঘোড়া না-জানা কার তরে।

সদাগরের পুত্র সেও যায় অজানার পার

খোঁজ নিতে কোন্‌ সাত-রাজা-ধন গোপন মানিকটার।

কোটালপুত্র খোঁজে এমন গুহায়-থাকা চোর

যাকে ধরলে সকল চুরির কাটবে বাঁধন-ডোর।

Amar Rabindranath Logo

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত