আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

সান্ত্বনা কবিতা চিত্রা । Swantona Kobita । চিত্রা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

সান্ত্বনা কবিতা চিত্রা [ Swantona Kobita ] টি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর চিত্রা কাব্যগ্রন্থের অংশ।

কাব্যগ্রন্থের নামঃ চিত্রা 

কবিতার নামঃ সান্ত্বনা

সান্ত্বনা কবিতা চিত্রা । Swantona Kobita । চিত্রা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কোথা হতে দুই চক্ষে ভরে নিয়ে এলে জল

     হে প্রিয় আমার।

হে ব্যথিত, হে অশান্ত, বলো আজি গাব গান

     কোন্‌ সান্ত্বনার।

  হেথায় প্রান্তরপারে

  নগরীর এক ধারে

  সায়াহ্নের অন্ধকারে

     জ্বালি দীপখানি

  শূন্য গৃহে অন্যমনে

  একাকিনী বাতায়নে

  বসে আছি পুষ্পাসনে

     বাসরের রানী–

কোথা বক্ষে বিঁধি কাঁটা ফিরিলে আপন নীড়ে

     হে আমার পাখি।

ওরে ক্লিষ্ট, ওরে ক্লান্ত, কোথা তোর বাজে ব্যথা,

     কোথা তোরে রাখি।

চারি দিকে তমস্বিনী রজনী দিয়েছে টানি

    মায়ামন্ত্র-ঘের–

দুয়ার রেখেছি রুধি, চেয়ে দেখো কিছু হেথা

    নাহি বাহিরের।

  এ যে দুজনের দেশ,

  নিখিলের সব শেষ,

  মিলনের রসাবেশ

    অনন্ত ভবন–

  শুধু এই এক ঘরে

  দুখানি হৃদয় ধরে,

  দুজনে সৃজন করে

    নূতন ভুবন।

একটি প্রদীপ শুধু এ আঁধারে যতটুকু

    আলো করে রাখে

সেই আমাদের বিশ্ব, তাহার বাহিরে আর

    চিনি না কাহাকে।

 

একখানি বীণা আছে, কভু বাজে মোর বুকে

    কভু তব কোরে।

একটি রেখেছি মালা, তোমারে পরায়ে দিলে

    তুমি দিবে মোরে।

  এক শয্যা রাজধানী,

  আধেক আঁচলখানি

  বক্ষ হতে লয়ে টানি

    পাতিব শয়ন।

  একটি চুম্বন গড়ি

  দোঁহে লব ভাগ করি–

  এ রাজত্বে, মরি মরি,

    এত আয়োজন।

একটি গোলাপফুল রেখেছি বক্ষের মাঝে,

    তব ঘ্রাণশেষে

আমারে ফিরায়ে দিলে অধরে পরশি তাহা

    পরি লব কেশে।

আজ করেছিনু মনে তোমারে করিব রাজা

    এই রাজ্যপাটে,

এ অমর বরমাল্য আপনি যতনে তব

    জড়াব ললাটে।

  মঙ্গলপ্রদীপ ধ’রে

  লইব বরণ করে,

  পুষ্পসিংহাসন-‘পরে

      বসাব তোমায়–

  তাই গাঁথিয়াছি হার,

  আনিয়াছি ফুলভার,

  দিয়েছি নূতন তার

      কনকবীণায়।

আকাশে নক্ষত্রসভা নীরবে বসিয়া আছে

      শান্ত কৌতূহলে–

আজি কি এ মালাখানি সিক্ত হবে, হে রাজন্‌,

      নয়নের জলে।

রুদ্ধকণ্ঠ, গীতহারা, কহিয়ো না কোনো কথা,

      কিছু শুধাব না–

নীরবে লইব প্রাণে তোমার হৃদয় হতে

      নীরব বেদনা।

  প্রদীপ নিবায়ে দিব,

  বক্ষে মাথা তুলি নিব,

  স্নিগ্ধ করে পরশিব

      সজল কপোল–

  বেণীমুক্ত কেশজাল

  স্পর্শিবে তাপিত ভাল,

  কোমল বক্ষের তাল

      মৃদুমন্দ দোল।

নিশ্বাসবীজনে মোর কাঁপিবে কুন্তল তব,

      মুদিবে নয়ন–

অর্ধরাতে শান্তবায়ে নিদ্রিত ললাটে দিব

      একটি চুম্বন।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত