আর নহে আর নয় [ পূজা ৩৮৩ ] Ar nohe ar noy

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “আর নহে আর নয়” গানটি তাঁর পূজা পর্যায়ের এক শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী রচনা। এটি পূজা ৩৮৩ সংখ্যক গান, যেখানে ভয়, সংশয় ও বন্ধন ছিন্ন করে মুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার দৃপ্ত ঘোষণা শোনা যায়। গানটি রচিত হয় ১৩১৮ বঙ্গাব্দে, এমন এক সময় যখন কবির চিন্তায় আত্মজাগরণ, মানবমুক্তি ও অন্তর্দৃঢ়তার সুর প্রবল হয়ে উঠেছিল।

এই গানের রাগ শঙ্করা, যা গম্ভীরতা ও বীরত্ববোধকে গভীরভাবে প্রকাশ করে; আর তাল কাহারবা, যা গানের ছন্দকে সহজ, গতিময় ও দৃঢ় করে তোলে। ঈশ্বর বা সর্বব্যাপী সত্যের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কবি এখানে ভয়হীন অভিযাত্রার কথা বলেছেন—যেখানে ব্যক্তিগত দুঃখ, মায়ার বন্ধন ও সংকীর্ণ গৃহকোণ পেরিয়ে সর্বজনীনতার দিকে যাত্রা শুরু হয়। এটি কেবল ভক্তির গান নয়, বরং আত্মশক্তি ও মানবিক সাহসের সংগীতরূপ।

 

আর নহে আর নয় [ পূজা ৩৮৩ ] Ar nohe ar noy

রাগ: শঙ্করা

তাল: কাহারবা

রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ১৩১৮

 

আর নহে আর নয়:

আর নহে, আর নয়,

আমি করি নে আর ভয়।

আমার ঘুচল-কাঁদন, ফলল সাধন, হল বাঁধন ক্ষয় ॥

ওই আকাশে ওই ডাকে,

আমায় আর কে ধ’রে রাখে–

আমি সকল দুয়ার খুলেছি, আজ যাব সকলময় ॥

ওরা ব’সে ব’সে মিছে

শুধু মায়াজাল গাঁথিছে–

ওরা কী-যে গোনে ঘরের কোণে আমায় ডাকে পিছে।

আমার অস্ত্র হল গড়া,

আমার বর্ম হল পরা–

এবার ছুটবে ঘোড়া পবনবেগে, করবে ভুবন জয় ॥

মন্তব্য করুন