আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

বকুল-বনের পাখি bokul boner pakhi [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

বকুল-বনের পাখি

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থ : পূরবী [ ১৯২৫ ]

কবিতার শিরনামঃ বকুল-বনের পাখি 

বকুল-বনের পাখি bokul boner pakhi [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শোনো শোনো ওগো বকুল বনের পাখি,

দেখো তো, আমায় চিনিতে পারিবে না কি।

      নই আমি কবি, নই জ্ঞান-অভিমানী,

      মান-অপমান কী পেয়েছি নাহি জানি,

      দেখেছ কি মোর দূরে-যাওয়া মনখানি–

               উড়ে-যাওয়া মোর আঁখি?

    আমাতে কি কিছু দেখেছ তোমারি সম,

    অসীম-নীলিমা-তিয়াষি বন্ধু মম?

শোনো শোনো ওগো বকুলবনের পাখি,

কবে দেখেছিলে মনে পড়ে সে কথা কি?

        বালক ছিলাম, কিছু নহে তার বাড়া,

        রবির আলোর কোলেতে ছিলেম ছাড়া,

        চাঁপার গন্ধ বাতাসের-প্রাণ-কাড়া

                 যেত মোরে ডাকি ডাকি।

     সহজ রসের ঝরনা-ধারার ‘পরে

     গান ভাসাতেম সহজ সুখের ভরে।

শোনো শোনো ওগো বকুলবনের পাখি,

কাছে এসেছিনু ভুলিতে পারিবে তা কি।

        নগ্ন পরান লয়ে আমি কোন্‌ সুখে

        সারা আকাশের ছিনু যেন বুকে বুকে,

        বেলা চলে যেত অবিরত কৌতুকে

                 সব কাজে দিয়ে ফাঁকি।

     শ্যামলা ধরার নাড়ীতে যে তাল বাজে

     নাচিত আমার অধীর মনের মাঝে।

 

শোনো শোনো ওগো বকুলবনের পাখি,

দূরে চলে এনু, বাজে তার বেদনা কি?

        আষাঢ়ের মেঘ রহে না কি মোরে চাহি।

        সেই নদী যায় সেই কলতান গাহি–

        তাহার মাঝে কি আমার অভাব নাহি।

                 কিছু কি থাকে না বাকি।

     বালক গিয়েছে হারায়ে, সে কথা লয়ে

     কোনো আঁখিজল যায় নি কোথাও বয়ে?

শোনো শোনো ওগো বকুল-বনের পাখি,

আর-বার তারে ফিরিয়া ডাকিবে না কি।

        যায় নি সেদিন যেদিন আমারে টানে,

        ধরার খুশিতে আছে সে সকলখানে;

        আজ বেঁধে দাও আমার শেষের গানে

                 তোমার গানের রাখী।

  আবার বারেক ফিরে চিনে লও মোরে,

  বিদায়ের আগে লও গো আপন ক’রে।

শোনো শোনো ওগো বকুল-বনের পাখি,

সেদিন চিনেছ আজিও চিনিবে নাকি।

     পারঘাটে যদি যেতে হয় এইবার,

     খেয়াল-খেয়ায় পাড়ি দিয়ে হব পার,

     শেষের পেয়ালা ভরে দাও হে আমার

                 সুরের সুরার সাকী।

  আর কিছু নই, তোমারি গানের সাথি,

  এই কথা জেনে আসুক ঘুমের রাতি।

শোনো শোনো ওগো বকুল-বনের পাখি,

মুক্তির টিকা ললাটে দাও তো আঁকি।

     যাবার বেলায় যাব না ছদ্মবেশে,

     খ্যাতির মুকুট খসে যাক নিঃশেষে,

     কর্মের এই বর্ম যাক-না ফেঁসে,

                 কীর্তি যাক-না ঢাকি।

  ডেকে লও মোরে নামহারাদের দলে

  চিহ্নবিহীন উধাও পথের তলে।

 

শোনো শোনো ওগো বকুলবনের পাখি,

যাই যবে যেন কিছুই না যাই রাখি।

     ফুলের মতন সাঁঝে পড়ি যেন ঝরে,

     তারার মতন যাই যেন রাত-ভোরে,

     হাওয়ার মতন বনের গন্ধ হ’রে

                 চলে যাই গান হাঁকি।

  বেণুপল্লবমর্মররব-সনে

  মিলাই যেন গো সোনার গোধূলিখনে।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত