আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

Table of Content

বধূ

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থ : আকাশ প্রদীপ [ ১৯৩৯ ]

কবিতার শিরনামঃ বধূ 

বধূ bodhu [ কবিতা ] -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ঠাকুরমা দ্রুততালে ছড়া যেত প’ড়ে–

             ভাবখানা মনে আছে– “বউ আসে চতুর্দোলা চ’ড়ে

                          আম কাঁঠালের ছায়ে,

                     গলায় মোতির মালা, সোনার চরণচক্র পায়ে।”

                          বালকের প্রাণে

                     প্রথম সে নারীমন্ত্র আগমনীগানে

             ছন্দের লাগাল দোল আধোজাগা কল্পনার শিহরদোলায়,

                     আঁধার-আলোর দ্বন্দ্বে যে প্রদোষে মনেরে ভোলায়,

                          সত্য-অসত্যের মাঝে লোপ করি সীমা

                                  দেখা দেয় ছায়ার প্রতিমা।

                     ছড়া-বাঁধা চতুর্দোলা চলেছিল যে-গলি বাহিয়া

                                  চিহ্নিত করেছে মোর হিয়া

                     গভীর নাড়ীর পথে অদৃশ্য রেখায় এঁকেবেঁকে।

                                  তারি প্রান্ত থেকে

                     অশ্রুত সানাই বাজে অনিশ্চিত প্রত্যাশার সুরে

                                  দুর্গম চিন্তার দূরে দূরে।

                     সেদিন সে কল্পলোকে বেহারাগুলোর পদক্ষেপে

                                  বক্ষ উঠেছিল কেঁপে কেঁপে,

                     পলে পলে ছন্দে ছন্দে আসে তারা আসে না তবুও,

                                  পথ শেষ হবে না কভুও।

 

             সেকাল মিলাল। তার পরে, বধূ-আগমনগাথা

                     গেয়েছে মর্মরচ্ছন্দে অশোকের কচি রাঙা পাতা;

                  বেজেছে বর্ষণঘন শ্রাবণের বিনিদ্র নিশীথে;

                          মধ্যাহ্নে করুণ রাগিণীতে

                                  বিদেশী পান্থের শ্রান্ত সুরে।

                          অতিদূর মায়াময়ী বধূর নূপুরে

                     তন্দ্রার প্রত্যন্তদেশে জাগায়েছে ধ্বনি

                                                 মৃদু রণরণি।

                                  ঘুম ভেঙে উঠেছিনু জেগে,

                                          পূর্বাকাশে রক্ত মেঘে

                                                 দিয়েছিল দেখা

                          অনাগত চরণের অলক্তের রেখা।

                                  কানে কানে ডেকেছিল মোরে

                          অপরিচিতার কণ্ঠ স্নিগ্ধ নাম ধ’রে–

                                          সচকিতে

                                  দেখে তবু পাই নি দেখিতে।

 

                          অকস্মাৎ একদিন কাহার পরশ

                     রহস্যের তীব্রতায় দেহে মনে জাগাল হরষ;

                          তাহারে শুধায়েছিনু অভিভূত মুহূর্তেই,

                                  “তুমিই কি সেই,

                          আঁধারের কোন্‌ ঘাট হতে

                                  এসেছ আলোতে!”

                     উত্তরে সে হেনেছিল চকিত বিদ্যুৎ;

             ইঙ্গিতে জানায়েছিল, “আমি তারি দূত,

                     সে রয়েছে সব প্রত্যক্ষের পিছে,

                          নিত্যকাল সে শুধু আসিছে।

                নক্ষত্রলিপির পত্রে তোমার নামের কাছে

                          যার নাম লেখা রহিয়াছে

               অনাদি অজ্ঞাত যুগে সে চড়েছে তার চতুর্দোলা,

                          ফিরিছে সে চির-পথভোলা

                                  জ্যোতিষ্কের আলোছায়ে,

              গলায় মোতির মালা, সোনার চরণচক্র পায়ে।”

Amar Rabindranath Logo

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত