Table of Contents
কবিতার মূল তথ্য:
| বিষয়বিবরণ | তথ্য |
| কবিতার নাম | ভাবিনী |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | মহুয়া |
| প্রকাশের বছর | ১৯২৯ (১৩৩৬ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | রোমান্টিক লিরিক ও মনস্তাত্ত্বিক চিত্রকল্পপ্রধান কবিতা (Romantic Image-Centric Lyric) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:
সম্পূর্ণ কবিতা:
ভাবিছ যে ভাবনা একা-একা
দুয়ারে বসি চুপে চুপে,
সে যদি সম্মুখে দিত দেখা
মূর্তি ধরি কোনো রূপে–
হয়তো দেখিতাম শুকতারা
দিবস পার হয়ে দিশাহারা
এসেছে সন্ধ্যার কিনারাতে
সাঁঝের তারাদের দলে,
উদাস স্মৃতিভরা আঁখিপাতে
উষার হিমকণা জলে।
হয়তো দেখিতাম বাদলে যে
শ্রাবণে এনেছিল বাণী
শরতে জলভার এল ত্যেজে
শুভ্র সেই মেঘখানি।
চলে সে সন্ন্যাসী দিশে দিশে
রবির আলোকের পিয়াসী সে,
আকাশ আপনারি লিপি লিখে
পড়িতে দিল যেন তারে,
সে তাই চেয়ে চেয়ে অনিমিখে
বুঝিতে বুঝি নাহি পারে।
হয়তো দেখিতাম রজনীতে
সে যেন সুরহারা বীণা
বিজন দীপহীন দেহলিতে
মৌন-মাঝে আছে লীনা।
একদা বেজেছিল যে রাগিণী
তারে সে ফিরে যেন নিল চিনি
তারার কিরণের কম্পনে
নীরব আকাশের মাঝে,
সুদূর সুরসভা-অঙ্গনে
সুরের স্মৃতি যেথা বাজে।

সম্পূর্ণ কবিতার Romanized Version:
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
- ভোরের শুকতারা ও অসময়ের বিষাদ:“হয়তো দেখিতাম শুকতারা / দিবস পার হয়ে দিশাহারা / এসেছে সন্ধ্যার কিনারাতে / সাঁঝের তারাদের দলে,”— ভোরের শুকতারা সারা দিন পেরিয়ে পথ হারিয়ে যেন সন্ধ্যার আসরে এসে পৌঁছেছে। নারীর চোখের অশ্রুবিন্দু যেন সেই হারিয়ে যাওয়া উষার শিশিরকণা—যা এক অসময়োচিত বিষাদ ও স্মৃতিকাতরতার প্রতীক।
- শরতের রিক্ত মেঘ ও উদাস সন্ন্যাসী:“শরতে জলভার এল ত্যেজে / শুভ্র সেই মেঘখানি। / চলে সে সন্ন্যাসী দিশে দিশে / রবির আলোকের পিয়াসী সে,”— শ্রাবণের সমস্ত আবেগ ও জলভার বিলিয়ে দিয়ে শরতের সাদা মেঘ যেমন নিঃস্ব সন্ন্যাসীর মতো আলোর সন্ধানে আকাশে ভেসে বেড়ায়, নারীর মনও তেমনি অতীতের ভার নামিয়ে রেখে এক অপার্থিব ও অচেনা তৃষ্ণায় দূর দিগন্তে চেয়ে থাকে।
- নীরব বীণা ও সুরের স্মৃতি:“হয়তো দেখিতাম রজনীতে / সে যেন সুরহারা বীণা / বিজন দীপহীন দেহলিতে / মৌন-মাঝে আছে লীনা।”— আঁধার ঘরের নীরব বীণাটি যেমন এখন সুরহীন হলেও দূর নক্ষত্রলোকের আলোয় তার অতীতের রাগিণীকে চিনে নিতে চায়, নারীর অন্তরও তেমনি বাহ্যিক নিস্তব্ধতার গভীরে একদা বেজে ওঠা ভালোবাসার অমলিন স্মৃতিকে নীরবে ধারণ করে বেঁচে থাকে।