আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

মান অভিমান ভাসিয়ে – Maan Obhiman Bhasiye Diye [ প্রেম ১২০ ]

Table of Content

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতবিতান’-এর প্রেম পর্যায়ের (গান নং ১২০) এক অত্যন্ত শ্রুতিমধুর ও ভাবগম্ভীর রবীন্দ্রসংগীত “মান অভিমান ভাসিয়ে দিয়ে”। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) রচিত এই গানটিতে প্রিয়জনের প্রতি ক্ষুদ্র অহংকার, ক্ষোভ ও মান-অভিমান ভুলে ভালোবাসাকে বরণ করে নেওয়ার এক আকুল মিনতি ফুটে উঠেছে। পিলু-বারোঁয়া রাগের করুণ ও মধুর ছোঁয়া এবং খেমটা তালের দ্যোতনায় গানটি শ্রোতার হৃদয়ে এক গভীর সুরের আবেশ তৈরি করে।

গানের তথ্য

শিরোনামতথ্য
গানের নামমান অভিমান ভাসিয়ে দিয়ে
কথা ও সুররবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
পর্যায়প্রেম (গান নং ১২০)
রাগ ও তালপিলু-বারোয়াঁ, খেমটা
রচনাকাল১৩১৬ বঙ্গাব্দ (১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ)
স্বরলিপিকারসুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়

মান অভিমান ভাসিয়ে দিয়ে লিরিক

মান অভিমান ভাসিয়ে দিয়ে এগিয়ে নিয়ে আয়–

তারে    এগিয়ে নিয়ে আয়॥

চোখের জলে মিশিয়ে হাসি ঢেলে দে তার পায়–

ওরে,     ঢেলে দে তার পায়। ।

আসছে পথে ছায়া পড়ে,    আকাশ এল আঁধার করে,

শুষ্ক কুসুম পড়ছে ঝরে, সময় বহে যায়–

ওরে      সময় বহে যায়॥

Maan Obhiman Bhasiye Diye (Romanized Quote)

Maan obhiman bhasiye diye egiye niye ay–
tare egiye niye ay.
Chokher jole mishiye hashi dhele de tar pay–
ore, dhele de tar pay.
Asche pothe chaya pore, akash elo adhar kore,
shushko kushum porche jhore, shomoy bohe jay–
ore shomoy bohe jay.

গানের মূল ভাব ও চরণ বিশ্লেষণ

রবীন্দ্রনাথের এই গানটিতে ভালোবাসার গভীরে পৌঁছানোর জন্য অহংকার ত্যাগের দর্শন প্রকাশ পেয়েছে:
  • মান-অভিমান বিসর্জন: ভালোবাসার সম্পর্কে মান-অভিমান বা ক্ষোভ কখনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। কবি আহ্বান জানিয়েছেন হৃদয়ের ক্ষুদ্র অহংকারকে ভাসিয়ে দিয়ে প্রিয়জনকে সাদরে গ্রহণ করার জন্য।
  • অশ্রু ও হাসির সমর্পণ: আনন্দ ও বেদনার সংমিশ্রণে ভালোবাসার পরম মুহূর্তে প্রিয়জনের পায়ে নিজেকে নিঃশর্তভাবে সঁপে দেওয়ার আকুলতা এখানে ব্যক্ত হয়েছে।
  • সময়ের নশ্বরতা ও সচেতনতা: প্রকৃতিতে সন্ধ্যার ছায়া নেমে আসা এবং ফুল ঝরে পড়ার রূপকে কবি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে জীবনে ভালোবাসার সময়টুকু সীমিত। তাই অভিমান করে মূল্যবান সময় নষ্ট না করে ভালোবাসার মানুষকে দ্রুত বরণ করে নেওয়া প্রয়োজন।

উৎস (Sources)

এই সংকলনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতবিতান’ (প্রেম পর্যায়), রবীন্দ্র-সংগীত স্বরলিপি গ্রন্থাবলী এবং বিশ্বভারতী প্রকাশনা পর্ষদের প্রামাণ্য স্বরলিপি আর্কাইভ থেকে সংগৃহীত ও সুবিন্যস্ত করা হয়েছে।

 

 

Share

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১; ২৫ বৈশাখ ১২৬৮ – ২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) ছিলেন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, সংগীতস্রষ্টা, প্রাবন্ধিক, চিত্রকর, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি ‘গুরুদেব’, ‘কবিগুরু’ ও ‘বিশ্বকবি’ অভিধায় পরিচিত।রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্মের পরিধি ছিল ব্যাপক ও বৈচিত্র্যময়। তাঁর জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর অব্যবহিত পরে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৪টি উপন্যাস এবং ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন প্রকাশিত হয়। তাঁর ৯৫টি ছোটগল্প *গল্পগুচ্ছ* এবং ১,৯১৫টি গান *গীতবিতান* সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাঁর প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনাবলি ৩২ খণ্ডে *রবীন্দ্র রচনাবলী* নামে সংকলিত হয়েছে। তাঁর পত্রসাহিত্যও *চিঠিপত্র* নামে ১৯ খণ্ডে এবং চারটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্য ও সংগীতের পাশাপাশি চিত্রকলাতেও তিনি বিশেষ অবদান রাখেন; তাঁর আঁকা ছবির সংখ্যা প্রায় দুই হাজার বলে উল্লেখ করা হয়।রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্ম বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯১৩ সালে *গীতাঞ্জলি* কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি প্রথম অ-ইউরোপীয় এবং প্রথম এশীয় নোবেলজয়ী সাহিত্যিক হিসেবে বিশ্বসাহিত্যে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

https://amarrabindranath.com/

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত