রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কণিকা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত “সুখ-দুঃখ” কবিতাটি প্রকৃতি-চিত্রের মাধ্যমে মানবজীবনের দ্বৈত অনুভূতির সূক্ষ্ম সত্যকে তুলে ধরে। একই ঘটনা—একই প্রকৃতির স্পর্শ—একজনের কাছে সুখের, আরেকজনের কাছে দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শ্রাবণের ঝুম বৃষ্টিকে কেউ মৃত্যুআশঙ্কার মতো ভয় পায়, আবার সেই একই বৃষ্টি পৃথিবীতে নেমে আসে কল্যাণ ও সজীবতার বার্তা নিয়ে। কবি এখানে দেখিয়েছেন যে সুখ-দুঃখের উৎস বাইরের জগতে নয়—তার মূলে রয়েছে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, মনের আবেগ ও অভিজ্ঞতার ভিন্নতা। ক্ষুদ্র একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি মানুষের অনুভূতির গভীর দার্শনিক সত্যকে অনুচ্চারিত সরলতায় প্রকাশ করেছেন।
সুখদুঃখ কবিতা [Sukhdukkho Kobita] – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
শ্রাবণের মোটা ফোঁটা বাজিল যূথীরে–
কহিল, মরিনু হায় কার মৃত্যুতীরে!
বৃষ্টি কহে, শুভ আমি নামি মর্তমাঝে,
কারে সুখরূপে লাগে কারে দুঃখ বাজে।