আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

স্মৃতি-প্রতিমা smriti-pratimaa [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

স্মৃতি-প্রতিমা

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থ : ছবি ও গান 

কবিতার শিরনামঃ স্মৃতি-প্রতিমা

স্মৃতি-প্রতিমা smriti-pratimaa [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আজ কিছু করিব না আর,

সমুখেতে চেয়ে চেয়ে      গুন গুন গেয়ে গেয়ে

          বসে বসে ভাবি এক বার।

আজি বহু দিন পরে          যেন সেই দ্বিপ্রহরে

          সেদিনের বায়ু বহে যায়,

হা রে হা শৈশবমায়া,         অতীত প্রাণের ছায়া,

          এখনো কি আছিস হেথায়?

এখনো কি থেকে থেকে     উঠিস রে ডেকে ডেকে,

          সাড়া দিবে সে কি আর আছে?

যা ছিল তা আছে সেই,       আমি যে সে আমি নেই,

          কেন রে আসিস মোর কাছে?

কেন রে পুরানো স্নেহে      পরানের শূন্য গেহে

          দাঁড়ায়ে মুখের পানে চাস?

অভিমানে ছলছল              নয়নে কী কথা বল,

          কেঁদে ওঠে হৃদয় উদাস।

আছিল যে আপনার সে বুঝি রে নাই আর,

          সে বুঝি রে হয়ে গেছে পর,

তবু সে কেমন আছে,       শুধাতে আসিস কাছে,

          দাঁড়ায়ে কাঁপিস থর্‌ থর্‌।

আয় রে আয় রে অয়ি,      শৈশবের স্মৃতিময়ী,

          আয় তোর আপনার দেশে,

যে প্রাণ আছিল তোরি       তাহারি দুয়ার ধরি

          কেন আজ ভিখারিনী, বেশে।

আগুসরি ধীরি ধীরি        বার বার চাস ফিরি,

          সংশয়েতে চলে না চরণ,

ভয়ে ভয়ে মুখপানে       চাহিস আকুল প্রাণে,

          ম্লান মুখে  না সরে বচন।

দেহে যেন নাহি বল,      চোখে পড়ে-পড়ে জল,

          এলো চুলে, মলিন বসনে–

কথা কেহ বলে পাছে      ভয়ে না আসিস কাছে,

          চেয়ে রোস আকুল নয়নে।

 

 

সেই ঘর সেই দ্বার        মনে পড়ে বার বার

          কত যে করিলি খেলাধূলি,

খেলা ফেলে গেলি চলে,  কথাটি না গেলি বলে,

          অভিমানে নয়ন আকুলি।

যেথা যা গেছিলি রেখে      ধুলায় গিয়েছে ঢেকে,

          দেখ্‌ রে তেমনি আছে পড়ি,

সেই অশ্রু সেই গান           সেই হাসি অভিমান,

          ধুলায় যেতেছে গড়াগড়ি।

তবে রে বারেক আয়     বোস হেথা পুনরায়,

          ধুলিমাখা অতীতের মাঝে–

শূন্য গৃহ জনহীন          পড়ে আছে কত দিন,

          আর হেথা বাঁশি নাহি বাজে।

কেন তবে আসিবি নে    কেন কাছে বসিবি নে

          এখনো বাসিস যদি ভালো!

আয় রে ব্যাকুল প্রাণে     চাই দুঁহু মুখপানে,

          গোধূলিতে নিব-নিব আলো।

নিবিছে সাঁঝের ভাতি,     আসিছে আঁধার রাতি

       এখনি ছাইবে চারি ভিতে–

রজনীর অন্ধকারে           মরণসাগর-পারে

       কেহ কারে নারিব দেখিতে।

আকাশের পানে চাই–    চন্দ্র নাই, তারা নাই,

       একটু না বহিছে বাতাস,

শুধু দীর্ঘ দীর্ঘ নিশি        দুজনে আঁধারে মিশি

       শুনিব দোঁহার দীর্ঘশ্বাস।

এক বার চেয়ে দেখি,      কোন্‌খানে আছে যে কী,

       কোন্‌খানে করেছিনু খেলা,

শুকানো এ মালাগুলি       রাখি রে কণ্ঠেতে তুলি,

       কখন চলিয়া যাবে বেলা।

আয় তবে আয় হেথা,      কোলে তোর রাখি মাথা,

       কেশপাশে মুখ দে রে ঢেকে

বিন্দু বিন্দু ধীরে ধীরে        অশ্রু পড়ে অশ্রুনীরে,

       নিশ্বাস উঠিছে থেকে থেকে।

সেই পুরাতন স্নেহে        হাতটি বুলাও দেহে,

       মাথাটি বুকেতে তুলে রাখি–

কথা কও নাহি কও,        চোখে চোখে চেয়ে রও,

       আঁখিতে ডুবিয়া যাক আঁখি।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত