Table of Contents
কবিতার মূল তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
| কবিতার নাম | ভীরু |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | পরিশেষ |
| কবিতার ধরন | আত্মস্মরণমূলক প্রেমের কবিতা (Reflective Romantic Lyric) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট
পরিশেষ কাব্যগ্রন্থের ভীরু কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
তাকিয়ে দেখি পিছে
সেদিন ভালোবেসেছিলেম,
দিন না যেতেই হয়ে গেল মিছে।
বলার কথা পাই নি আমি খুঁজে,
আপনা হতে নেয় নি কেন বুঝে,
দেবার মতন এনেছিলেম কিছু,
ডালির থেকে পড়ে গেল নিচে।
ভরসা ছিল না যে,
তাই তো ভেবে দেখি নি হায়
কী ছিল তার হাসির দ্বিধা-মাঝে।
গোপন বীণা সুরেই ছিল বাঁধা,
ঝংকার তায় দিয়েছিল আধা,
সংশয়ে আজ তলিয়ে গেল কোথা,
পাব কি তায় দুঃখসাগর সিঁচে।
হায় রে গরবিনী,
বারেক তব করুণ চাহনিতে
ভী’রুতা মোর লও নি কেন জিনি।
যে-মণিটি ছিল বুকের হারে
ফেলে দিলে কোন্ খেদে হায় তারে,
ব্যর্থ রাতের অশ্রুফোঁটার মালা
আজ তোমার ওই বক্ষে ঝলকিছে।

ভীরু Romanized Version
Gopon bina shurei chhilo badha,
Jhongkar tay diyechhilo adha,
Shongshoye aj toliye gelo kotha,
Pabo ki tay dukkhoshagor sinche.
Hay re gorobini,
Bareko tobo koruno chahonite
Bhiruta mor lo-o ni keno zhini.
Je-moniti chhilo buker hare
Fele dile kon khede hay tare,
Byartho rater oshru-fotar mala
Aj tomar oi bokkhe jholkiche.
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ
- সংকোচ ও হারানো সুযোগ:
“বলার কথা পাই নি আমি খুঁজে, / আপনা হতে নেয় নি কেন বুঝে…”— সম্পর্কের গভীরে না-বলা কথাগুলো যে সময়ে প্রকাশ করা প্রয়োজন ছিল, ভীরুতা ও সংকোচের কারণে তা সম্ভব হয়নি। এই না-বলা ভালোবাসার যন্ত্রণা নিয়েই কবি অতীত হাতড়ে বেড়াচ্ছেন।
- সংশয়ের বিষাদ:
“সংশয়ে আজ তলিয়ে গেল কোথা, / পাব কি তায় দুঃখসাগর সিঁচে।”— মনের মধ্যে যে গোপন সংগীত বা ভালোবাসার সুর ছিল, তা সংশয়ের কারণে হারিয়ে গেছে। সেই হারানো মণি বা প্রেম এখন দুঃখসাগরের তলদেশে তলিয়ে গেছে, যা আর ফিরে পাওয়ার আশা নেই।
- অশ্রুর মালা:
“ব্যর্থ রাতের অশ্রুফোঁটার মালা / আজ তোমার ওই বক্ষে ঝলকিছে।”— শেষাংশে কবি বিরহের যে রূপটি ফুটিয়েছেন, তা অত্যন্ত মর্মস্পর্শী। তাদের ভালোবাসার ব্যর্থতা বা বিরহের চিহ্নটিই আজ করুণ এক অলঙ্কার হয়ে ওই রমণীর বক্ষে ঝলমল করছে।