রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “আমার খেলা যখন ছিল” কবিতাটি তাঁর কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ গীতাঞ্জলি (প্রকাশকাল: ১৯১০)–এর অন্তর্গত একটি গভীর ভাবদর্শনমূলক রচনা। গীতাঞ্জলি গ্রন্থে কবি মানুষের সঙ্গে ঈশ্বরের সম্পর্ককে কখনো বন্ধুত্ব, কখনো প্রণয়, কখনো ভক্তি ও আত্মসমর্পণের রূপে প্রকাশ করেছেন। এই গ্রন্থেই রবীন্দ্রনাথ তাঁর আধ্যাত্মিক ভাবনার সর্বোচ্চ শিল্পরূপ খুঁজে পান, যা পরবর্তীকালে তাঁকে নোবেল পুরস্কার এনে দেয়।
“আমার খেলা যখন ছিল” কবিতায় ঈশ্বরের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের এক রূপান্তর ধরা পড়ে—শৈশবের নির্ভয়, নির্লজ্জ, আনন্দময় খেলাধুলার সম্পর্ক থেকে পরিণত জীবনের গম্ভীর, সচেতন ও বিনয়ী ভক্তির অবস্থানে পৌঁছনো। কবিতাটি স্মৃতি ও উপলব্ধির মেলবন্ধনে দেখায়, একসময় যে সম্পর্ক ছিল অবাধ আনন্দের, সময়ের সাথে তা হয়ে ওঠে গভীর অর্থবাহী আত্মসমর্পণ।
কাব্যগ্রন্থ : গীতাঞ্জলি [ ১৯১০ ]
কবিতার শিরনামঃ আমার-খেলা যখন ছিল
আমার খেলা যখন ছিল কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আমার খেলা-যখন ছিল তোমার সনে
তখনকে তুমি তা কে জানত।
তখন ছিল না ভয় ছিল না লাজ মনে
জীবনবহে যেত অশান্ত।
তুমি ভোরের বেলা ডাক দিয়েছ কত
যেন আমার আপন সখার মতো,
হেসে তোমার সাথে ফিরেছিলেম ছুটে
সেদিন কত না বন-বনান্ত।
ওগো সেদিন তুমি গাইতে যে-সব গান
কোনো অর্থ তাহার কে জানত।
শুধু সঙ্গে তারি গাইত আমার প্রাণ,
সদা নাচত হৃদয় অশান্ত।
হঠাৎ খেলার শেষে আজ কী দেখি ছবি,
স্তব্ধ আকাশ, নীরব শশী রবি,
তোমার চরণপানে নয়ন করি’ নত
ভুবন দাঁড়িয়ে আছে একান্ত।
![গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের আমার খেলা যখন ছিল কবিতা [ Amar khela jokhon chhilo ] 1 Amar Rabindranath Logo](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2021/09/Amar-Rabindranath-Logo-e1649308436976-300x240.jpeg)