আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

Table of Content

আতঙ্ক

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থের নামঃ পরিশেষ

কবিতার শিরনামঃ আতঙ্ক

 

 

আতঙ্ক atonko [ কবিতা ] -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বটের জটায় বাঁধা ছায়াতলে

                       গোধূলিবেলায়

           বাগানের জীর্ণ পাঁচিলেতে

                       সাদাকালো দাগগুলো

                       দেখা দিত ভয়ংকর মূর্তি ধরে।

           ওইখানে দৈত্যপুরী,

                 অদৃশ্য কুঠুরি থেকে তার

      মনে-মনে শোনা যেত হাঁউমাউখাঁউ।

           লাঠি হাতে কুঁজোপিঠ

      খিলিখিলি হাসত ডাইনিবুড়ী।

 

 

 

                     কাশিরাম দাস

      পয়ারে যা লিখেছিল হিড়িম্বার কথা

           ইট-বের-করা সেই পাঁচিলের ‘পরে

                    ছিল তারি প্রত্যক্ষ কাহিনী।

      তারি সঙ্গে সেইখানে নাককাটা সূর্পণখা

                 কালো কালো দাগে

                       করেছিল কুটুম্বিতা।

      সতেরো বৎসর পরে

           গিয়েছি সে সাবেক বাড়িতে।

                 দাগ বেড়ে গেছে,

      মুগ্ধ নতুনের তুলি পুরোনোকে দিয়েছে প্রশ্রয়।

      ইঁটগুলো মাঝে-মাঝে খসে গিয়ে

                 পড়ে আছে রাশকরা।

           গায়ে গায়ে লেগেছে অনন্তমূল,

                 কালমেঘ লতা,

                 বিছুটির ঝাড়;

           ভাঁটিগাছে হয়েছে জঙ্গল।

                 পুরোনো বটের পাশে

           উঠেছে ভেরেণ্ডাগাছ মস্তবড়ো হয়ে।

      বাইরেতে সূর্পণখা-হিড়িম্বার চিহ্নগুলো আছে,

           মনে তারা কোনোখানে নেই।

 

 

 

      স্টেশনে গেলেম ফিরে একবার খুব হেসে নিয়ে

                 জীবনের ভিত্তিটার গায়ে

                       পড়েছে বিস্তর কালো দাগ,

                 মূঢ় অতীতের মসীলেখা;

                       ভাঙা গাঁথুনিতে

           ভীরু কল্পনার যত জটিল কুটিল চিহ্নগুলো।

                       মাঝে-মাঝে

                 যেদিন বিকেলবেলা

                       বাদলের ছায়া নামে

                 সারি সারি তালগাছে

                       দিঘির পাড়িতে,

                    দূরের আকাশে

                 স্নিগ্ধ সুগম্ভীর

               মেঘের গর্জন ওঠে গুরুগুরু,

           ঝিঁ ঝিঁ ডাকে বুনো খেজুরের ঝোপে,

                 তখন দেশের দিকে চেয়ে

           বাঁকাচোরা আলোহীন পথে

                ভেঙেপড়া দেউলের মূর্তি দেখি;

                 দীর্ণ ছাদে, তার জীর্ণ ভিতে

                 নামহীন অবসাদ,-

           অনির্দিষ্ট শঙ্কাগুলো নিদ্রাহীন পেঁচা,

                 নৈরাশ্যের অলীক অত্যুক্তি যত,

             দুর্বলের স্বরচিত শত্রুর চেহারা।

                 ধিক্‌ রে ভাঙনলাগা মন,

      চিন্তায় চিন্তায় তোর কত মিথ্যা আঁচড় কেটেছে।

           দুষ্টগ্রহ সেজে ভয়

                 কালোচিহ্নে মুখভঙ্গি করে।

           কাঁটা-আগাছার মতো

                 অমঙ্গল নাম নিয়ে

                      আতঙ্কের জঙ্গল উঠেছে।

           চারিদিকে সারি সারি জীর্ণ ভিতে

           ভেঙেপড়া অতীতের বিরূপ বিকৃতি।

                 কাপুরুষে করিছে বিদ্রূপ।

আরও দেখুনঃ

Amar Rabindranath Logo

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত