বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কণিকা’ কাব্যগ্রন্থের একটি অন্যতম সুন্দর, নীতিমূলক ও প্রতীকধর্মী ক্ষুদ্র কবিতা হলো ‘হার-জিত’। ১৮৯৯ সালে প্রকাশিত এই কবিতায় ভিমরুল ও মৌমাছির এক কাল্পনিক তর্কের মাধ্যমে বাহ্যিক শক্তি বা হিংস্রতার চেয়ে সৃজনশীলতা ও কল্যাণকামী গুণের শ্রেষ্ঠত্ব অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
Table of Contents
কবিতার মূল তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
| কবিতার নাম | হার-জিত |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | কণিকা |
| প্রকাশের বছর | ১৮৯৯ (১৩৬ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | নীতিমূলক ও রূপকধর্মী ক্ষুদ্র কবিতা (Epigrammatic and Moral Poem) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট
‘কণিকা’ কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এক বিশেষ ধারার সৃষ্টি, যেখানে মূলত ছোট ছোট দুই বা চার পঙ্ক্তির দ্বিপদী কিংবা চতুর্দপদী কবিতার মাধ্যমে জীবনের গভীর নৈতিক শিক্ষা, দর্শন ও রসবোধ প্রকাশ পেয়েছে। ‘হার-জিত’ কবিতায় ভিমরুল ও মৌমাছির পারস্পরিক তুলনার মধ্য দিয়ে কবি এক চিরন্তন সত্য তুলে ধরেছেন। ভিমরুল তার বিষাক্ত দংশনের শক্তি নিয়ে গর্ব করে, আর মৌমাছি মিষ্টি মধু তৈরি করেও প্রথমে নিরুত্তর থাকে। কিন্তু বনদেবীর রায়ে প্রমাণিত হয় যে, ধ্বংসাত্মক ক্ষমতায় হার মানলেও সৃষ্টির আলোয় ও গুণের দিক থেকে মৌমাছির জয়ই চূড়ান্ত।
হার-জিত – সম্পূর্ণ কবিতা
ভিমরুলে মৌমাছিতে হল রেষারেষি,
দুজনায় মহাতর্ক শক্তি কার বেশি।
ভিমরুল কহে, আছে সহস্র প্রমাণ
তোমার দংশন নহে আমার সমান।
মধুকর নিরুত্তর ছলছল-আঁখি–
বনদেবী কহে তারে কানে কানে ডাকি,
কেন বাছা, নতশির! এ কথা নিশ্চিত
বিষে তুমি হার মানো, মধুতে যে জিত।
হার-জিত Romanized Version
Bhimrule moumachhite holo reshareshi,
Dujonay mohatorko shokti kar beshi.
Bhimrul kohe, ache shohostro proman
Tomar dongshon nohe amar soman.
Modhukor nirouttor cholchhol-ankhi–
Bondebi kohe tare kane kane daki,
Keno bacha, notoshir! E kotha nishchit
Bishe tumi har mano, modhute je jit.
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ
- শক্তি বনাম গুণের অহংকার: ভিমরুল তার হুল বা বিষাক্ত দংশনের ক্ষমতাকে বড় করে দেখে এবং মৌমাছির সাথে শক্তি নিয়ে তর্কে নামে।
- মৌমাছির নিরবতা: মৌমাছি পরের উপকারের জন্য মিষ্টি মধু সঞ্চয় করে, ভিমরুলের মতো হুল ফুটিয়ে আঘাত করা তার স্বভাব নয়। তাই ভিমরুলের দম্ভের সামনে সে প্রথমে নতশির ও নিরুত্তর থাকে।
- চূড়ান্ত সত্য ও বনদেবীর রায়:
“কেন বাছা, নতশির! এ কথা নিশ্চিত / বিষে তুমি হার মানো, মধুতে যে জিত।”— বনদেবী এসে মৌমাছিকে সান্ত্বনা দিয়ে জানান যে, হিংস্রতা বা বিষের শক্তিতে সে হয়তো ভিমরুলের কাছে হার মানে, কিন্তু মানুষের কল্যাণে ও প্রকৃতির মিষ্টি দানে মৌমাছির জয়ই সর্বশ্রেষ্ঠ। ধ্বংস নয়, সৃষ্টিই যে জীবনের আসল জয়—এই নীতিশিক্ষা এখানে প্রকাশিত হয়েছে।
উৎস
কবিতাটির মূল পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রামাণ্য ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ (কণিকা কাব্যগ্রন্থ) থেকে সতর্কতার সাথে সংগৃহীত ও যাচাই করা হয়েছে।
![কণিকা কাব্যগ্রন্থের হার-জিত কবিতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 1 হার-জিত harjit [ কবিতা ]- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/হার-জিত-harjit-কবিতা-.gif)