আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

কথা কাব্যগ্রন্থের মূল্যপ্রাপ্তি কবিতা । Mulyoprapti Kobita

Table of Content

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর কাব্যজগতে কথা কাব্যগ্রন্থটি একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। এই গ্রন্থে কবি মূলত কাহিনিনির্ভর কবিতার মাধ্যমে নৈতিকতা, মানবিকতা, ত্যাগ ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের গভীর প্রশ্নগুলো উত্থাপন করেছেন। রূপক ও কাহিনির আশ্রয়ে রচিত এই কবিতাগুলো পাঠকের সামনে জীবনের সত্যকে সহজ অথচ গভীরভাবে তুলে ধরে। কথা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত “মূল্যপ্রাপ্তি” কবিতাটি এমনই এক অনন্য সৃষ্টি, যেখানে বস্তুগত মূল্য ও আত্মিক মূল্যের পার্থক্য অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী কাব্যভাষায় প্রকাশ পেয়েছে।

কাব্যগ্রন্থের নামঃ কথা

কবিতার নামঃ মূল্যপ্রাপ্তি

মূল্যপ্রাপ্তি কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

      অবদানশতক

অঘ্রাণে শীতের রাতে              নিষ্ঠুর শিশিরঘাতে

           পদ্মগুলি গিয়াছে মরিয়া–

সুদাস মালীর ঘরে                 কাননের সরোবরে

          একটি ফুটেছে কী করিয়া।

তুলি লয়ে বেচিবারে               গেল সে প্রাসাদদ্বারে,

          মাগিল রাজার দরশন–

হেনকালে হেরি ফুল               আনন্দে পুলকাকুল

          পথিক কহিল একজন,

“অকালের পদ্ম তব                আমি এটি কিনি লব,

          কত মূল্য লইবে ইহার?

বুদ্ধ ভগবান আজ                  এসেছেন পুরমাঝ

          তাঁর পায়ে দিব উপহার।’

          পথিক চাহিল তাহা দিতে–

হেনকালে সমারোহে              বহু পূজা-অর্ঘ্য বহে

          নৃপতি বাহিরে আচম্বিতে।

 

রাজেন্দ্র প্রসেনজিৎ                উচ্চারি মঙ্গলগীত

          চলেছেন বুদ্ধদরশনে–

হেরি অকালের ফুল               শুধালেন, “কত মূল?

          কিনি দিব প্রভুর চরণে।’

মালী কহে, “হে রাজন্‌,           স্বর্ণমাষা দিয়ে পণ

          কিনিছেন এই মহাশয়।’

“দশ মাষা দিব আমি’                কহিলা ধরণীস্বামী,

          “বিশ মাষা দিব’ পান্থকয়।

দোঁহে কহে “দেহো দেহো’,      হার নাহি মানে কেহ–

          মূল্য বেড়ে ওঠে ক্রমাগত।

মালী ভাবে যাঁর তরে              এ দোঁহে বিবাদ করে

          তাঁরে দিলে আরো পাব কত!

কহিল সে করজোড়ে,   “দয়া করে ক্ষম মোরে–

          এ ফুল বেচিতে নাহি মন।’

এত বলি ছুটিল সে                যেথা রয়েছেন বসে

          বুদ্ধদেব উজলি কানন।

বসেছেন পদ্মাসনে                 প্রসন্ন প্রশান্ত মনে,

          নিরঞ্জন আনন্দমূরতি।

দৃষ্টি হতে শান্তি ঝরে,    স্ফুরিছে অধর-‘পরে

          করুণার সুধাহাস্যজ্যোতি।

সুদাস রহিল চাহি–               নয়নে নিমেষ নাহি,

          মুখে তার বাক্য নাহি সরে।

সহসা ভূতলে পড়ি                পদ্মটি রাখিল ধরি

          প্রভুর চরণপদ্ম-‘পরে।

বরষি অমৃতরাশি                   বুদ্ধ শুধালেন হাসি,

          ‘কহো বৎস, কী তব প্রার্থনা।’

ব্যাকুল সুদাস কহে,               “প্রভু, আর কিছু নহে,

          চরণের ধূলি এক কণা।’

যোগাযোগ

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত