Table of Contents
কবিতার মূল তথ্য:
| বিষয়বিবরণ | তথ্য |
| কবিতার নাম | অবিনয় |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | ক্ষণিকা |
| প্রকাশের বছর | ১৯০০ (১৩০৭ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | রোমান্টিক বর্ষার লিরিক কবিতা (Romantic Monsoon Lyric) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:
সম্পূর্ণ কবিতা:
হে নিরুপমা,
চপলতা আজ যদি কিছু ঘটে
করিয়ো ক্ষমা।
এল আষাঢ়ের প্রথম দিবস,
বনরাজি আজি ব্যাকুল বিবশ,
বকুলবীথিকা মুকুলে মত্ত
কানন-‘পরে–
নবকদম্ব মদিরগন্ধে
আকুল করে।
হে নিরুপমা,
আঁখি যদি আজ করে অপরাধ
করিয়ো ক্ষমা।
হেরো আকাশের দূর কোণে কোণে
বিজুলি চমকি উঠে খনে খ&ড়বঁ;ন,
বাতায়নে তব দ্রুত কৌতুকে
মারিছে উঁকি–
বাতাস করিছে দুরন্তপনা
ঘরেতে ঢুকি।
হে নিরুপমা,
গানে যদি লাগে বিহ্বল তান
করিয়ো ক্ষমা।
ঝরঝর ধারা আজি উতরোল,
নদীকূলে-কূলে উঠে কল্লোল,
বনে বনে গাহে মর্মরস্বরে
নবীন পাতা–
সজল পবন দিশে দিশে তুলে
বাদলগাথা।
হে নিরুপমা,
আজিকে আচারে ত্রুটি হতে পারে,
করিয়ো ক্ষমা।
দিবালোকহারা সংসারে আজ
কোনোখানে কারো নাহি কোনো কাজ,
জনহীন পথ ধেনুহীন মাঠ
যেন সে আঁকা–
বর্ষণঘন শীতল আঁধারে
জগৎ ঢাকা।
হে নিরুপমা,
চপলতা আজি যদি ঘটে তবে
করিয়ো ক্ষমা।
তোমার দুখানি কালো আঁখি-‘পরে
শ্যাম আষাঢ়ের ছায়াখানি পড়ে,
ঘন কালো তব কুঞ্চিত কেশে
যূথীর মালা।
তোমারি ললাটে নববরষার
বরণডালা।

সম্পূর্ণ কবিতার Romanized Version:
He nirupoma,
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
- বর্ষার উন্মাদনা ও শিথিল শাসন:“এল আষাঢ়ের প্রথম দিবস, / বনরাজি আজি ব্যাকুল বিবশ, / বকুলবীথিকা মুকুলে মত্ত / কানন-‘পরে–“— আষাঢ়ের প্রথম দিনের বাদল বাতাস ও কদম্বের গন্ধ সমগ্র বনানীকে মাতাল করে তোলে। প্রকৃতির এই উচ্ছৃঙ্খলতার প্রভাব পড়ে প্রেমিকের চিত্তেও, যেখানে নিয়মনিষ্ঠ সামাজিক ভব্যতা ক্ষণিকের জন্য আলগা হয়ে পড়ে।
- প্রকৃতির চপলতা বনাম মানুষের অবিনয়:“হেরো আকাশের দূর কোণে কোণে / বিজুলি চমকি উঠে খনে খনে, … বাতাস করিছে দুরন্তপনা / ঘরেতে ঢুকি।”— বিদ্যুৎ চমকে ওঠা আর দুরন্ত বাতাসের ঘরের ভেতরে প্রবেশ করার দৃশ্যটির মাধ্যমে কবি বুঝিয়ে দেন যে প্রকৃতি নিজেই যখন চপল ও নিয়মভাঙা খেলায় মেতেছে, তখন প্রেমিকের চোখে বা আচরণে সামান্যতম অবিনয় প্রকাশ পেলে তা কোনো অন্যায় নয়।
- প্রিয়তমার মাঝে বর্ষার রূপায়ণ:“তোমার দুখানি কালো আঁখি-‘পরে / শ্যাম আষাঢ়ের ছায়াখানি পড়ে, / ঘন কালো তব কুঞ্চিত কেশে / যূথীর মালা। / তোমারি ললাটে নববরষার / বরণডালা।”— কবিতার সমাপ্তিতে নিসর্গের রূপ এবং প্রেমিকার রূপ একাত্ম হয়ে গেছে। প্রিয়তমার কাজলকালো চোখ, এলোকেশের যূঁই ফুলের সুবাস আর কপালে বর্ষার বরণডালা—সব মিলিয়ে প্রেমিকা নিজেই হয়ে উঠেছে মূর্তিমতী আষাঢ়।