Table of Contents
কবিতার মূল তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
| কবিতার নাম | ফুল ফোটানো |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | খেয়া |
| প্রকাশের বছর | ১৯০৬ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | প্রকৃতি-দর্শন ও রূপকধর্মী গীতি-কবিতা (Philosophical Nature and Allegorical Lyrical Poem) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট
ফুল ফোটানো – সম্পূর্ণ কবিতা
তোরা কেউ পারবি নে গো,
পারবি নে ফুল ফোটাতে।
যতই বলিস, যতই করিস,
যতই তারে তুলে ধরিস,
ব্যগ্র হয়ে রজনীদিন
আঘাত করিস বোঁটাতে–
তোরা কেউ পারবি নে গো,
পারবি নে ফুল ফোটাতে।
দৃষ্টি দিয়ে বারে বারে
ম্লান করতে পারিস তারে,
ছিঁড়তে পারিস দলগুলি তার,
ধুলায় পারিস লোটাতে–
তোদের বিষম গণ্ডগোলে
যদিই-বা সে মুখটি খোলে,
ধরবে না রঙ, পারবে না তার
গন্ধটুকু ছোটাতে।
তোরা কেউ পারবি নে গো,
পারবি নে ফুল ফোটাতে।
যে পারে সে আপনি পারে,
পারে সে ফুল ফোটাতে।
সে শুধু চায় নয়ন মেলে
দুটি চোখের কিরণ ফেলে,
অমনি যেন পূর্ণপ্রাণের
মন্ত্র লাগে বোঁটাতে।
যে পারে সে আপনি পারে,
পারে সে ফুল ফোটাতে।
নিশ্বাসে তার নিমেষেতে
ফুল যেন চায় উড়ে যেতে,
পাতার পাখা মেলে দিয়ে
হাওয়ায় থাকে লোটাতে।
রঙ যে ফুটে ওঠে কত
প্রাণের ব্যাকুলতার মতো,
যেন কারে আনতে ডেকে
গন্ধ থাকে ছোটাতে।
যে পারে সে আপনি পারে,
পারে সে ফুল ফোটাতে।
Romanized Version
Parbi ne phul photate.
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ
- কৃত্রিম চেষ্টা ও বলপ্রয়োগের ব্যর্থতা:
“যতই বলিস, যতই করিস, / যতই তারে তুলে ধরিস, / ব্যগ্র হয়ে রজনীদিন / আঘাত করিস বোঁটাতে– / তোরা কেউ পারবি নে গো, / পারবি নে ফুল ফোটাতে।”— মানুষ অধৈর্য হয়ে কুঁড়িকে জোর করে ফোটাতে চায়। সে বোঁটায় আঘাত করে, পাপড়ি টানাটানি করে। কিন্তু এই কৃত্রিম বলপ্রয়োগ বা ব্যস্ততার দ্বারা কখনোই ফুল ফোটানো যায় না। প্রকৃতির সুন্দরতম জিনিসগুলো কখনোই জোর জবরদস্তি করে পাওয়া যায় না।
- জবরদস্তির নেতিবাচক পরিণতি:
“ছিঁড়তে পারিস দলগুলি তার, / ধুলায় পারিস লোটাতে– / তোদের বিষম গণ্ডগোলে / যদিই-বা সে মুখটি খোলে, / ধরবে না রঙ, পারবে না তার / গন্ধটুকু ছোটাতে।”— মানুষের এই বলপ্রয়োগের ফলে ফুলের দল বা পাপড়ি ছিঁড়ে তা ধুলায় লুটিয়ে যায়। জোর করে হয়তো কুঁড়ির মুখ একটু খোলা যায়, কিন্তু তাতে প্রকৃত রং ধরে না বা সুবাস ছড়ায় না। অর্থাৎ, কৃত্রিম সৃষ্টিতে কখনোই প্রাণের স্বতঃস্ফূর্ততা বা প্রকৃত সৌন্দর্য থাকে না।
- ঐশ্বরিক বা প্রাকৃতিক শক্তির স্বতঃস্ফূর্ততা:
“যে পারে সে আপনি পারে, / পারে সে ফুল ফোটাতে। / সে শুধু চায় নয়ন মেলে / দুটি চোখের কিরণ ফেলে, / অমনি যেন পূর্ণপ্রাণের / মন্ত্র লাগে বোঁটাতে।”— ফুল ফোটানোর ক্ষমতা কেবল প্রকৃতি বা পরম স্রষ্টারই আছে। তিনি যখন স্নিগ্ধ দৃষ্টিতে (সূর্যের আলো বা ঐশ্বরিক আশীর্বাদ) কুঁড়ির দিকে তাকান, তখন কোনো আঘাত বা বলপ্রয়োগ ছাড়াই জাদুমন্ত্রের মতো তা প্রস্ফুটিত হয়। প্রকৃতির এই শান্ত, নীরব ও স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশের মাঝেই নিহিত থাকে অপরূপ রং এবং ব্যাকুল করা সুগন্ধ।
