আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

খেয়া কাব্যগ্রন্থের ‘বালিকা বধূ’ কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

কবিতার মূল তথ্য:

বিষয়বিবরণ
কবিতার নামবালিকা বধূ
কবির নামরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মূল কাব্যগ্রন্থখেয়া
প্রকাশের বছর১৯০৬ (১৩১৩ বঙ্গাব্দ)
কবিতার ধরনমনস্তাত্ত্বিক ও লিরিক কবিতা (Psychological / Domestic Lyric)

কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:

১৯০৬ সালে প্রকাশিত ‘খেয়া’ কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিজীবনের এক গভীর আধ্যাত্মিক ও মানবিক উপলব্ধির যুগকে নির্দেশ করে। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোতে গ্রামীণ জীবনযাত্রা, নারীর মনের সুক্ষ্ম অনুভূতি এবং ভালোবাসার নানা রূপ অত্যন্ত সুচারুভাবে প্রকাশিত হয়েছে। ‘বালিকা বধূ’ কবিতায় কবি এমন এক বালিকার চিত্র এঁকেছেন যাকে অপরিণত বয়সে বড়ো প্রাসাদে বধূ হিসেবে নিয়ে আসা হয়েছে। সে খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, ধুলো দিয়ে ঘর বানিয়ে ঘরকরণের কাজ সারে এবং চুল ঠিকমতো বাঁধতে জানে না। গুরুজনের মুখে পতির কথা শুনে সে ভয় পায়, আবার বাসকশয্যায় স্বামীর বাহুতে জড়িয়ে থেকেও সে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে। কিন্তু বাইরের কোনো দুর্দিন বা ঝড়ের রাতে তার সমস্ত খেলাধুলা দূরে সরে যায় এবং সে সবলে তার স্বামীকে আঁকড়ে ধরে। কবি জানেন যে একদিন এই বালিকার খেলা ঘুচে যাবে এবং সে পরিপূর্ণ মহিমায় স্বামীর মন জয় করে নেবে—এই স্নিগ্ধ রূপটিই কবিতার মূল প্রাণ।

বালিকা বধূ কবিতা (সম্পূর্ণ)

ওগো বর, ওগো বঁধু,

            এই-যে নবীনা বুদ্ধিবিহীনা

                এ তব বালিকা বধূ।

            তোমার উদার প্রাসাদে একেলা

            কত খেলা নিয়ে কাটায় যে বেলা,

   তুমি কাছে এলে ভাবে তুমি তার খেলিবার ধন শুধু,

                ওগো বর, ওগো বঁধু।

জানে না করিতে সাজ

            কেশ বেশ তার হলে একাকার

                 মনে নাহি মানে লাজ।

            দিনে শতবার ভাঙিয়া গড়িয়া

            ধুলা দিয়ে ঘর রচনা করিয়া

   ভাবে মনে মনে সাধিছে আপন ঘরকরণের কাজ–

                 জানে না করিতে সাজ।

                 কহে এরে গুরুজনে,

            “ও যে তোর পতি, ও তোর দেবতা’–

                 ভীত হয়ে তাহা শোনে।

            কেমন করিয়া পূজিবে তোমায়

            কোনোমতে তাহা ভাবিয়া না পায়,

   খেলা ফেলি কভু মনে পড়ে তার “পালিব পরানপণে

                 যাহা কহে গুরুজনে’।

                 বাসকশয়ন’পরে

            তোমার বাহুতে বাঁধা রহিলেও

                 অচেতন ঘুমভরে।

            সাড়া নাহি দেয় তোমার কথায়,

            কত শুভখণ বৃথা চলি যায়,

   যে হার তাহারে পরালে সে হার কোথায় খসিয়া পড়ে

                 বাসকশয়ন’পরে।

                 শুধু দুর্দিনে ঝড়ে–

            দশ দিক ত্রাসে আঁধারিয়া আসে

                 ধরাতলে অম্বরে–

            তখন নয়নে ঘুম নাই আর,

            খেলাধুলা কোথা পড়ে থাকে তার,

   তোমারে সবলে রহে আঁকড়িয়া–হিয়া কাঁপে থরথরে

                দুঃখদিনের ঝড়ে।

                 মোরা মনে করি ভয়

            তোমার চরণে অবোধজনের

                 অপরাধ পাছে হয়।

            তুমি আপনার মনে মনে হাস,

            এই দেখিতেই বুঝি ভালোবাস,

   খেলাঘর-দ্বারে দাঁড়াইয়া আড়ে কী যে পাও পরিচয়।

                 মোরা মিছে করি ভয়।

                 তুমি বুঝিয়াছ মনে,

            একদিন এর খেলা ঘুচে যাবে

                 ওই তব শ্রীচরণে।

            সাজিয়া যতনে তোমারি লাগিয়া

            বাতায়নতলে রহিবে জাগিয়া,

   শতযুগ করি মানিবে তখন ক্ষণেক অদর্শনে,

                 তুমি বুঝিয়াছ মনে।

                 ওগো বর, ওগো বঁধু,

            জান জান তুমি–ধুলায় বসিয়া

                 এ বালা তোমারি বধূ।

            রতন-আসন তুমি এরি তরে

            রেখেছ সাজায়ে নির্জন ঘরে,

   সোনার পাত্রে ভরিয়া রেখেছ নন্দনবনমধু–

                 ওগো বর, ওগো বঁধু।

Amar Rabindranath Logo

বালিকা বধূ কবিতার Romanized Version:

Ogo boro, ogo bodhu,
Ei-je nobina buddhi-bihina
E tobo balika bodhu.
Tomar udar prashade ekela
Koto khela niye katay je bela,
Tumi kache ele bhabe tumi tar khelibar dhon shudhu,
Ogo boro, ogo bodhu.
Jane na korite shaj
Kesh besh tar hole ekakar
Mone nahi mane laj.
Dine shotobar bhangiya goriya
Dhula diye ghor rochona koriya
Bhabe mone mone sadhiche apon ghor-koroner kaj–
Jane na korite shaj.
            Kohe ere gurujone,
        "O je tor poti, o tor debota'--
            Bhit hoiye taha shone.
        Kemon koriya pujibe tomay
        Kono-mote taha bhabiya na pay,
Khela feli kobu mone pore tar "palib poran-pone
            Jaha kohe gurujone'.
            Bashok-shoyon 'pore
        Tomar bahute bandha rohiley-o
            Chetano ghum-bhore.
        Shara nahi dey tomar kothay,
        Koto shubhokhon britha choli jay,
Je har tahare parale se har kothay khoshiya pore
            Bashok-shoyon 'pore.
            Shudhu durdine jhore--
        Dosh dik trashe andhariya ashe
            Dhoratale ambore--
        Tokhon noyone ghum nai ar,
        Kheladhula kotha pore thake tar,
Tomare shobole rohe akruriya--hiya kape thor-thore
            Dukkho-diner jhore.
            Mora mone kori voy
        Tomar chorone obodhjoner
            Oporadh pache hoy.
        Tumi aponar mone mone hashe,
        Ei dekhetei bujhi bhalobashe,
Khelaghor-dware dariye are ki je pao porichoy.
            Mora mishe kori voy.

            Tumi bujhiyechho mone,
        Ek-din er khela ghuche jabe
            Oi tobo shrichorone.
        Shajiya jotone tomari lagiya
        Batayon-tole rohibe jagiya,
Shotoyug kori manibe tokhon khonek odorshone,
            Tumi bujhiyechho mone.
            Ogo boro, ogo bოდhu,
        Jan jan tumi--dhulay boshiya
            E bala tomari bodhu.
        Roton-ashon tumi eri tore
            Rekhechho shajiya nirjon ghore,
Shonar patre bhoriya rekhechho nondonbonmodhu--
            Ogo boro, ogo bodhu.

কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:

  • অবুঝ বালিকার সরল প্রেম: অপরিণত বয়সের বধূর শিশুসুলভ খেলাধুলা ও চপলতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা স্বামীর প্রতি নিবিড় নির্ভরতা ও ভালোবাসার প্রকাশ এই কবিতার মূল বিষয়বস্তু।
  • বিপদের দিনে আশ্রয়: সাধারণ সময়ে খেলায় মগ্ন থাকলেও জীবনের ঝড়ে বা বিপদে বালিকা বধূ কীভাবে সমস্ত ভয় ভুলে তার একমাত্র আশ্রয় স্বামীর চরণ আঁকড়ে ধরে, তা অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

উৎস:

কবিতাটির মূল পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রামাণ্য ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ (খেয়া কাব্যগ্রন্থ) থেকে সতর্কতার সাথে সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করা হয়েছে।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত