আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

গীতালি কাব্যগ্রন্থের আবার শ্রাবণ হয়ে এলে ফিরে কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতালি’ (১৯১৪) কাব্যগ্রন্থের একটি অন্যতম মরমী, বর্ষা-চেতনানির্ভর ও ভাবালু গীতি-কবিতা হলো ‘আবার শ্রাবণ হয়ে এলে ফিরে’। এই কবিতায় বর্ষার মেঘ ও বৃষ্টির আবহে পরম প্রিয়ের আগমন, প্রকৃতির সর্বগ্রাসী আবডালে সবকিছু হারিয়ে যাওয়ার ব্যাকুলতা এবং কবির রক্তে-শিরে সেই বর্ষার ধারার একাত্ম হয়ে যাওয়ার অপূর্ব রূপ প্রকাশ পেয়েছে।

কবিতার মূল তথ্য:

বিষয়বিবরণ
কবিতার নামআবার শ্রাবণ হয়ে এলে ফিরে
কবির নামরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মূল কাব্যগ্রন্থগীতালি
প্রকাশের বছর১৯১৪ (১৩২১ বঙ্গাব্দ)
কবিতার ধরনআধ্যাত্মিক ও প্রকৃতি-চেতনানির্ভর গীতি-কবিতা (Spiritual and Nature-conscious Lyrical Poem)

কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:

১৯১৪ সালে প্রকাশিত ‘গীতালি’ কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভক্তিবাদী চেতনার পাশাপাশি প্রকৃতির রূপ ও অন্তরাত্মার সম্পর্কের এক গভীর প্রকাশ দেখা যায়। বর্ষার রূপ রবীন্দ্রনাথের কাছে চিরকালই পরম প্রিয় ও রহস্যময়। ‘আবার শ্রাবণ হয়ে এলে ফিরে’ কবিতায় কবি দেখিয়েছেন যে শ্রাবণের ধারা যখন চারিদিক মেঘের আঁচলে ঘিরে ফেলে, তখন সূর্য ও তারা হারিয়ে যায় এবং বাইরের পথ যেমন অন্ধকার হয়ে যায়, তেমনই কবির ভেতরের সত্তাও সেই বর্ষার ঝরঝর ধারায় মজে গিয়ে সম্পূর্ণভাবে প্লাবিত হয়।

আবার শ্রাবণ হয়ে এলে ফিরে কবিতা (সম্পূর্ণ)

আ-বার   শ্রাবণ হয়ে এলে ফিরে,

          মেঘ-আঁচলে নিলে ঘিরে।

                   সূর্য হারায়, হারায় তারা,

                   আঁধারে পথ হয় যে হারা,

                             ঢেউ দিয়েছে নদীর নীরে।

    সকল আকাশ, সকল ধরা,

    বর্ষণেরি বাণী-ভরা।

            ঝরঝর ধারায় মাতি

            বাজে আমার আঁধার রাতি,

                   বাজে আমার শিরে শিরে।

Amar Rabindranath Logo

আবার শ্রাবণ হয়ে এলে ফিরে কবিতার Romanized Version:

Abar shrabon haye ele phire,
Megh-achole nile ghere.
Shurjo haray, haray tara,
Andhare poth hoy je hara,
Dheu diyechhe nodir nire.
Shokol akash, shokol dhoro,
Borshoneri bani-vhora.
Jhorjhor dharay mati
Baje amar andhar rati,
Baje amar shire shire.
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
শ্রাবণের মেঘ ও ঘিরে ধরার রূপ:
“আবার শ্রাবণ হয়ে এলে ফিরে, / মেঘ-আঁচলে নিলে ঘিরে।”
— শ্রাবণের মেঘ যেন এক পরিচিত ও পরম প্রিয় সত্তার মতো ফিরে এসে চারপাশকে তার মেঘের আঁচলে জড়িয়ে ধরে।
আলোর বিলুপ্তি ও অন্ধকারের যাত্রা:
“সূর্য হারায়, হারায় তারা, / আঁধারে পথ হয় যে হারা, / ঢেউ দিয়েছে নদীর নীরে।”
— শ্রাবণের অবিরাম বর্ষণে সূর্য ও তারা দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়। চারপাশের চেনা পথ হারিয়ে যায় এবং নদীর নীরে নতুন ঢেউ ও চাঞ্চল্য জাগে।
প্রকৃতির সাথে প্রাণের একাত্মতা:
“সকল আকাশ, সকল ধরা, / বর্ষণেরি বাণী-ভরা। / ঝরঝর ধারায় মাতি / বাজে আমার আঁধার রাতি, / বাজে আমার শিরে শিরে।”
— বাইরের আকাশ ও পৃথিবী যেমন বর্ষার বাণীতে মুখর, তেমনই কবির নিজের অন্ধকার রাত্রেও সেই ঝরঝর ধারার উন্মাদনা বেজে ওঠে। প্রকৃতির বৃষ্টি যেন কবির রক্তে ও শিরে শিরে স্পন্দন তুলে একাকার হয়ে যায়।

উৎস:

কবিতাটির মূল পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রামাণ্য ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ (গীতালি কাব্যগ্রন্থ) থেকে সতর্কতার সাথে সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করা হয়েছে।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত