আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

নবজাতক কাব্যগ্রন্থের ‘হিন্দুস্থান’ কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

কবিতার মূল তথ্য:

বিষয়বিবরণ
কবিতার নামহিন্দুস্থান
কবির নামরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মূল কাব্যগ্রন্থনবজাতক
প্রকাশের বছর১৯৪০ (১৩৪৭ বঙ্গাব্দ)
কবিতার ধরনঐতিহাসিক ও দার্শনিক লিরিক কবিতা (Historical / Philosophical Poem)

কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:

১৯৪০ সালে প্রকাশিত ‘নবজাতক’ কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের শেষভাগের এক অত্যন্ত আধুনিক, মননশীল ও বিশ্ববীক্ষায় সমৃদ্ধ সৃষ্টি। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোতে ইতিহাস, সময় এবং মানবতার এক সুগভীর মূল্যায়ন দেখা যায়। ‘হিন্দুস্থান’ কবিতায় কবি ভারতবর্ষের উত্তর ও পশ্চিম দিগন্তের সেই ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরেছেন, যেখানে শত শত বছর ধরে রাজবংশের উত্থান-পতন, দস্যুদলের আক্রমণ, বিজয় ও পরাজয়ের রক্তক্ষয়ী খেলা চলেছে। দিল্লি ও আগ্রার প্রাসাদে মঞ্জীরঝংকার এবং দূর শকুনির ধ্বনির সাথে মিশে রয়েছে কালের মন্থনদণ্ডাঘাত। কিন্তু কালের আবর্তে সেই জয়ী ও পরাজিত, পীড়িত ও পীড়নকারী সবাই আজ একাকার হয়ে গেছে এবং যমুনার তীরে তাদের সেই দম্ভ ও প্রতাপ কেবল জীর্ণ যুগান্তের ছায়া হয়ে বয়ে চলেছে।

হিন্দুস্থান কবিতা (সম্পূর্ণ)

      মোরে হিন্দুস্থান

           বারবার করেছে আহ্বান

     কোন্‌ শিশুকাল হতে পশ্চিমদিগন্ত-পানে

ভারতের ভাগ্য যেথা নৃত্যলীলা করেছে শ্মশানে,

                   কালে কালে

              তাণ্ডবের তালে তালে,

                   দিল্লিতে আগ্রাতে

         মঞ্জীরঝংকার আর দূর শকুনির ধ্বনি-সাথে;

                   কালের মন্থনদণ্ডঘাতে

              উচ্ছলি উঠেছে যেথা পাথরের ফেনস্তূপে

         অদৃষ্টের অট্টহাস্য অভ্রভেদী প্রাসাদের রূপে।

         লক্ষ্মী-অলক্ষ্মীর দুই বিপরীত পথে

                   রথে প্রতিরথে

     ধূলিতে ধূলিতে যেথা পাকে পাকে করেছে রচনা

        জটিল রেখার জালে শুভ-অশুভের আল্‌পনা।

         নব নব ধ্বজা হাতে নব নব সৈনিকবাহিনী

     এক কাহিনীর সূত্র ছিন্ন করি আরেক কাহিনী

         বারংবার গ্রন্থি দিয়ে করেছে যোজন।

     প্রাঙ্গণপ্রাচীর যার অকস্মাৎ করেছে লঙ্ঘন

                   দস্যুদল,

        অর্ধরাত্রে দ্বার ভেঙে জাগিয়েছে আর্ত কোলাহল,

                   করেছে আসন-কাড়াকাড়ি,

         ক্ষুধিতের অন্নথালি নিয়েছে উজাড়ি।

     রাত্রিরে ভুলিল তারা ঐশ্বর্যের মশাল-আলোয়–

         পীড়িত পীড়নকারী দোঁহে মিলি সাদায় কালোয়

                   যেখানে রচিয়াছিল দ্যূতখেলাঘর,

     অবশেষে সেথা আজ একমাত্র বিরাট কবর

                   প্রান্ত হতে প্রান্তে প্রসারিত;

         সেথা জয়ী আর পরাজিত

                   একত্রে করেছে অবসান

              বহু শতাব্দীর যত মান অসম্মান।

     ভগ্নজানু প্রতাপের ছায়া সেথা শীর্ণ যমুনায়

                   প্রেতের আহ্বান বহি চলে যায়,

                            বলে যায়–

         আরো ছায়া ঘনাইছে অস্তদিগন্তের

                             জীর্ণ যুগান্তের।

Amar Rabindranath Logo

হিন্দুস্থান কবিতার Romanized Version:

More hindusthan
Barbar koreche ahban
Kon shishukal hote poshchimdigonto-pane
Bharoter bhagyo jetha nritylila koreche shoshane,
Kale kale
Tandober tale tale,
Delhi te agrate
Monjirjhongkar ar dur shokunir dhoni-shathe;
Kaler monthondondoghate
Uchhli utheche jetha patherer phenostupe
Odrishter ottohasho ovhrovedi prashader rupe.
    Lokshmi-olokshmir dui biporit pothe
                Rothe protirothe
    Dhulite dhulite jetha pake pake koreche rochona
    Jotil rekhar jale shubho-oshubher alpana.
    Nobo nobo dhoja hate nobo nobo shoinikbahini
    Ek kahinir sutro chhino kori arek kahini
    Barongbar gronthi diye koreche jojon.
    Prangonprachir jar okoshmat koreche longhon
                Doshydol,
    Odhrotrate dwar bhenge jagiyeche arto kolohol,
                Koreche ashon-karakari,
    Kshudhirer onnothali niyeche ujari.
    Ratrire vulilo tara oishworer moshal-aloy--
    Pirito pironkari donhe mili shaday kaloy
                Jekhane rochihilo dyutkhelaghor,
    Obosheshe setha aj ekmatro birat kobor
                Pronto hote pronte prosarito;
                Setha joyi ar porajito
                Ekotre koreche oboshan
    Bohu shotabdir joto man oshomman.
    Vhognojanu protaper chhaya setha shirno jomunay
                Preter ahban bohi chole jay,
                        Bole jay--
    Aro chhaya ghonaiche ostodigonter
                Jirno juganter.

কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:

  • ভারতের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব ও সংঘাত: ভারতের ইতিহাসে বারবার আসা সাম্রাজ্যলোভী শক্তি, যুদ্ধ, তাণ্ডব এবং বৈভবের চরম প্রকাশ ও তার অন্তিম পরিণতির এক কাব্যিক দলিল হলো এই কবিতা।
  • কালের নির্মম পরিণতি: জয়ী ও পরাজিত, রাজা ও প্রজা—সবাই কালস্রোতে এক মহাবিস্মৃতি ও কবরের মাঝে সমান হয়ে মিশে যায়, যা ইতিহাসের চিরন্তন সত্য।

উৎস:

কবিতাটির মূল পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রামাণ্য ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ (নবজাতক কাব্যগ্রন্থ) থেকে সতর্কতার সাথে সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করা হয়েছে।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত