আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

নূতন কাল nutankal [ কবিতা ] – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

নূতন কাল

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থ : পুনশ্চ [ ১৯৩২ ]

কবিতার শিরনামঃ নূতন কাল

নূতন কাল nutankal [ কবিতা ] – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আমাদের কালে গোষ্ঠে যখন সাঙ্গ হল

           সকালবেলার প্রথম দোহন,

        ভোরবেলাকার ব্যাপারীরা

           চুকিয়ে দিয়ে গেল প্রথম কেনা বেচা,

        তখন কাঁচা রৌদ্রে বেরিয়েছি রাস্তায়,

           ঝুড়ি হাতে হেঁকেছি আমার কাঁচা ফল নিয়ে–

        তাতে কিছু হয়তো ধরেছিল রঙ, পাক ধরে নি।

    তার পর প্রহরে প্রহরে ফিরেছি পথে পথে;

কত লোক কত বললে, কত নিলে, কত ফিরিয়ে দিলে,

        ভোগ করলে দাম দিলে না, সেও কত লোক–

               সে কালের দিন হল সারা।

কাল আপন পায়ের চিহ্ন যায় মুছে মুছে,

        স্মৃতির বোঝা আমরাই বা জমাই কেন,

    এক দিনের দায় টানি কেন আর-এক দিনের ‘পরে,

দেনা-পাওনা চুকিয়ে দিয়ে হাতে হাতে

        ছুটি নিয়ে যাই না কেন সামনের দিকে চেয়ে।

সেদিনকার উদ্‌বৃত্ত নিয়ে নূতন কারবার জমবে না

           তা নিলেম মেনে।

        তাতে কী বা আসে যায়।

দিনের পর দিন পৃথিবীর বাসাভাড়া

           দিতে হয় নগদ মিটিয়ে।

তার পর শেষ দিনে দখলের জোর জানিয়ে

           তালা বন্ধ করবার ব্যর্থ প্রয়াস,

                কেন সেই মূঢ়তা।

           তাই প্রথম ঘণ্টা বাজল যেই

        বেরিয়েছিলেম হিসেব চুকিয়ে দিয়ে।

দরজার কাছ পর্যন্ত এসে যখন ফিরে তাকাই,

           তখন দেখি তুমি যে আছ

               এ কালের আঙিনায় দাঁড়িয়ে।

    তোমার সঙ্গীরা একদিন যখন হেঁকে বলবে

        আর আমাকে নেই প্রয়োজন,

           তখন ব্যথা লাগবে তোমারই মনে

               এই আমার ছিল ভয়–

                   এই আমার ছিল আশা।

           যাচাই করতে আস নি তুমি–

    তুমি দিলে গ্রন্থি বেঁধে তোমার কালে আমার কালে হৃদয় দিয়ে।

দেখলেম ওই বড়ো বড়ো চোখের দিকে তাকিয়ে,

    করুণ প্রত্যাশা তো এখনো তার পাতায় আছে লেগে।

 

    তাই ফিরে আসতে হল আর একবার।

           দিনের শেষে নতুন পালা আবার করেছি শুরু

                       তোমারি মুখ চেয়ে,

               ভালোবাসার দোহাই মেনে।

আমার বাণীকে দিলেম সাজ পরিয়ে

        তোমাদের বাণীর অলংকারে–

    তাকে রেখে দিয়ে গেলেম পথের ধারে পান্থশালায়,

        পথিক বন্ধু, তোমারি কথা মনে ক’রে।

    যেন সময় হলে একদিন বলতে পার

        মিটল তোমাদেরও প্রয়োজন,

           লাগল তোমাদেরও মনে।

দশ জনের খ্যাতির দিকে হাত বাড়াবার দিন নেই আমার।

    কিন্তু তুমি আমাকে বিশ্বাস করেছিলে প্রাণের টানে–

        সেই বিশ্বাসকে কিছু পাথেয় দিয়ে যাব এই ইচ্ছা।

           যেন গর্ব করে বলতে পার

                   আমি তোমাদেরও বটে,

        এই বেদনা মনে নিয়ে নেমেছি এই কালে–

           এমন সময় পিছন ফিরে দেখি তুমি নেই।

               তুমি গেলে সেইখানেই

    যেখানে আমার পুরোনো কাল অবগুণ্ঠিত মুখে চলে গেল,

        যেখানে পুরাতনের গান রয়েছে চিরন্তন হয়ে।

আর, একলা আমি আজও এই নতুনের ভিড়ে বেড়াই ধাক্কা খেয়ে,

                   যেখানে আজ আছে কাল নেই।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত