Table of Contents
কবিতার মূল তথ্য:
| বিষয়বিবরণ | তথ্য |
| কবিতার নাম | বুদ্ধজন্মোৎসব |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | পরিশেষ |
| প্রকাশের বছর | ১৯৩২ (১৩৩৯ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | স্তোত্রধর্মী প্রার্থনা-কবিতা ও সংস্কৃত ছন্দাশ্রিত লিরিক (Hymn of Peace / Spiritual Lyric) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:
সম্পূর্ণ কবিতা:
সংস্কৃত ছন্দের নিয়ম-অনুসারে পঠনীয়
হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বী,
নিত্য নিঠুর দ্বন্দ্ব,
ঘোর কুটিল পন্থ তার,
লোভজটিল বন্ধ।
নূতন তব জন্ম লাগি কাতর যত প্রাণী,
কর ত্রাণ মহাপ্রাণ, আন অমৃতবাণী,
বিকশিত কর প্রেমপদ্ম
চিরমধুনিষ্যন্দ।
শান্ত হে, মুক্ত হে, হে অনন্তপুণ্য,
করুণাঘন, ধরণীতল কর কলঙ্কশূন্য।
এসো দানবীর, দাও
ত্যাগকঠিন দীক্ষা,
মহাভিক্ষু, লও সবার
অহংকার ভিক্ষা।
লোক লোক ভুলুক শোক, খণ্ডন কর মোহ,
উজ্জ্বল কর জ্ঞানসূর্য-উদয়-সমারোহ,
প্রাণ লভুক সকল ভুবন,
নয়ন লভুক অন্ধ।
শান্ত হে, মুক্ত হে, হে অনন্তপুণ্য,
করুণাঘন, ধরণীতল কর কলঙ্কশূন্য।
ক্রন্দনময় নিখিলহৃদয়
তাপদহনদীপ্ত।
বিষয়বিষ-বিকারজীর্ণ
খিন্ন অপরিতৃপ্ত।
দেশ দেশ পরিল তিলক রক্তকলুষগ্লানি,
তব মঙ্গলশঙ্খ আন, তব দক্ষিণ পাণি,
তব শুভ সংগীতরাগ,
তব সুন্দর ছন্দ।
শান্ত হে, মুক্ত হে, হে অনন্তপুণ্য,
করুণাঘন, ধরণীতল কর কলঙ্কশূন্য।

সম্পূর্ণ কবিতার Romanized Version:
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
- হিংসা ও লোভের সংকটকালে পরিত্রাণের ডাক:“হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বী, / নিত্য নিঠুর দ্বন্দ্ব, / … কর ত্রাণ মহাপ্রাণ, আন অমৃতবাণী, / বিকশিত কর প্রেমপদ্ম / চিরমধুনিষ্যন্দ।”— পৃথিবী যখন হানাহানি, শোষণ ও লোভের বিষবাষ্পে শ্বাসরুদ্ধ, তখন মানুষ বাঁচার পথ হারিয়ে ফেলে। এই অন্ধকারের বুক চিরে বুদ্ধের সেই প্রেমপদ্ম প্রস্ফুটিত হোক, যা তার অমৃতরসে মানুষের হিংসা ও ক্রোধের দাহকে নিবারণ করতে পারে।
- অহংকার ভিক্ষা ও আত্মত্যাগের দীক্ষা:“এসো দানবীর, দাও / ত্যাগকঠিন দীক্ষা, / মহাভিক্ষু, লও সবার / অহংকার ভিক্ষা।”— বুদ্ধ হলেন ‘মহাভিক্ষু’, কিন্তু তিনি ধনরত্ন ভিক্ষা করেন না; মানুষের সর্বনাশা অহংকার ও আত্মম্ভরিতাকে তিনি ভিক্ষাপাত্রে তুলে নিতে চান। বৈষয়িক মোহ ও অহংবোধ দূর হলেই কেবল ত্যাগের কঠিন শক্তিতে মানবজাতি আত্মশুদ্ধির সন্ধান পায়।
- রক্তকলুষ গ্লানি মোচন ও শাশ্বত কল্যাণ:“দেশ দেশ পরিল তিলক রক্তকলুষগ্লানি, / তব মঙ্গলশঙ্খ আন, তব দক্ষিণ পাণি, / … শান্ত হে, মুক্ত হে, হে অনন্তপুণ্য, / করুণাঘন, ধরণীতল কর কলঙ্কশূন্য।”— যুদ্ধবাজ রাষ্ট্রশক্তিগুলোর কপালে রক্তের যে কলঙ্কিত তিলক আঁকা হয়েছে, তা মোচনের জন্য প্রয়োজন বুদ্ধের মঙ্গলশঙ্খের পবিত্র ধ্বনি এবং আশীর্বাদের অভয়হস্ত। তাঁর অপরিসীম করুণা ও প্রেমের পরশেই কেবল ধরণী পাপের গ্লানি থেকে মুক্ত হয়ে শান্তিময় হতে পারে।

![ছবি ও গান কাব্যগ্রন্থের ‘বিদায়’ কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদায় bidaay [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/বিদায়-bidaay-কবিতা--1024x536.gif)
![পাষাণী paashhaanee [ কবিতা ]- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পাষাণী paashhaanee [ কবিতা ]- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/পাষাণী-paashhaanee-কবিতা--1024x536.gif)



![উন্নতিলক্ষণ unnotilokkhon [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উন্নতিলক্ষণ unnotilokkhon [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2022/04/উন্নতিলক্ষণ-unnotilokkhon-কবিতা-1-1-1024x536.gif)
