আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

Table of Content

বাসা

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থ : পুনশ্চ [ ১৯৩২ ]

কবিতার শিরনামঃ বাসা 

বাসা basa [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ময়ূরাক্ষী নদীর ধারে

         আমার পোষা হরিণে বাছুরে যেমন ভাব

             তেমনি ভাব শালবনে আর মহুয়ায়।

         ওদের পাতা ঝরছে গাছের তলায়,

             উড়ে পড়ছে আমার জানলাতে।

         তালগাছটা খাড়া দাঁড়িয়ে পুবের দিকে,

             সকালবেলাকার বাঁকা রোদ্‌দুর

তারি চোরাই ছায়া ফেলে আমার দেয়ালে।

      নদীর ধারে ধারে পায়ে-চলা পথ

             রাঙা মাটির উপর দিয়ে,

         কুড়চির ফুল ঝরে তার ধুলোয়;

      বাতাবি-লেবু-ফুলের গন্ধ

         ঘনিয়ে ধরে বাতাসকে;

      জারুল পলাশ মাদারে চলেছে রেষারেষি;

         শজনে ফুলের ঝুরি দুলছে হাওয়ায়;

      চামেলি লতিয়ে গেছে বেড়ার গায়ে গায়ে

             ময়ূরাক্ষী নদীর ধারে।

      নদীতে নেমেছে ছোটো একটি ঘাট

             লাল পাথরে বাঁধানো।

      তারি এক পাশে অনেক কালের চাঁপাগাছ,

             মোটা তার গুঁড়ি।

      নদীর উপরে বেঁধেছি একটি সাঁকো,

         তার দুই পাশে কাঁচের টবে

             জুঁই বেল রজনীগন্ধা শ্বেতকরবী।

                 গভীর জল মাঝে মাঝে,

             নীচে দেখা যায় নুড়িগুলি।

         সেইখানে ভাসে রাজহংস

             আর ঢালুতটে চরে বেড়ায়

আমার পাটল রঙের গাই গোরুটি

      আর মিশোল রঙের বাছুর

             ময়ূরাক্ষী নদীর ধারে।

 

ঘরের মেঝেতে ফিকে নীল রঙের জাজিম পাতা

             খয়েরিরঙের-ফুল-কাটা।

      দেয়াল বাসন্তী রঙের,

             তাতে ঘন কালো রেখার পাড়।

      একটুখানি বারান্দা পুবের দিকে,

             সেইখানে বসি সূর্যোদয়ের আগেই।

      একটি মানুষ পেয়েছি

তার গলায় সুর ওঠে ঝলক দিয়ে,

         নটীর কঙ্কণে আলোর মতো।

             পাশের কুটিরে সে থাকে,

তার চালে উঠেছে ঝুম্‌কোলতা।

        আপন মনে সে গায় যখন

           তখনি পাই শুনতে–

               গাইতে বলি নে তাকে।

স্বামীটি তার লোক ভালো–

           আমার লেখা ভালোবাসে, ঠাট্টা করলে

        যথাস্থানে যথোচিত হাসতে জানে,

খুব সাধারণ কথা সহজেই পারে কইতে,

    আবার হঠাৎ কোনো-একদিন আলাপ করে

        –লোকে যাকে চোখ টিপে বলে কবিত্ব–

           রাত্রি এগারোটার সময় শালবনে

               ময়ূরাক্ষী নদীর ধারে।

বাড়ির পিছন দিকটাতে

         শাক-সবজির খেত।

বিঘে-দুয়েক জমিতে হয় ধান।

      আর আছে আম-কাঁঠালের বাগিচা

         আস্‌শেওড়ার-বেড়া-দেওয়া।

      সকালবেলায় আমার প্রতিবেশিনী

         গুন্‌ গুন্‌ গাইতে গাইতে মাখন তোলে দই থেকে,

      তার স্বামী যায় দেখতে খেতের কাজ

             লাল টাট্টু ঘোড়ায় চ’ড়ে।

      নদীর ও পারে রাস্তা,

             রাস্তা ছাড়িয়ে ঘন বন–

সে দিক থেকে শোনা যায় সাঁওতালের বাঁশি

      আর শীতকালে সেখানে বেদেরা করে বাসা

             ময়ূরাক্ষী নদীর ধারে।

 

      এই পর্যন্ত।

এ বাসা আমার হয় নি বাঁধা, হবেও না।

         ময়ূরাক্ষী নদী দেখিও নি কোনো দিন।

             ওর নামটা শুনি নে কান দিয়ে,

                 নামটা দেখি চোখের উপরে–

             মনে হয় যেন ঘননীল মায়ার অঞ্জন

                     লাগে চোখের পাতায়।

আর মনে হয়

      আমার মন বসবে না আর কোথাও,

         সব কিছু থেকে ছুটি নিয়ে

             চলে যেতে চায় উদাস প্রাণ

                 ময়ূরাক্ষী নদীর ধারে।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত