আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

বিচিত্রা কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

বিচিত্রা কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থ : পরিশেষ [ ১৯৩২ ]

কবিতার শিরোনামঃ বিচিত্রা

 

বিচিত্রা কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 ছিলাম যবে মায়ের কোলে,

         বাঁশি বাজানো শিখাবে ব’লে

চোরাই করে এনেছ মোরে তুমি,

                  বি-চিত্রা হে, বি-চিত্রা,

যেখানে তব রঙের রঙ্গভূমি।

          আকাশতলে এলায়ে কেশ

                   বাজালে বাঁশি চুপে,

          সে মায়াসুরে স্বপ্নছবি

                  জাগিল কত রূপে;

 

          লক্ষ্যহারা মিলিল তারা

                  রূপকথার বাটে,

         পারায়ে গেল ধূলির সীমা

                   তেপান্তরী মাঠে।

         নারিকেলের ডালের আগে

         দুপুরবেলা কাঁপন লাগে,

ইশারা তারি লাগিত মোর প্রাণে,

                    বি-চিত্রা হে, বি-চিত্রা,

কী বলে তারা কে বলো তাহা জানে।

          অর্থহারা সুরের দেশে

                    ফিরালে দিনে দিনে,

          ঝলিত মনে অবাক বাণী,

                    শিশির যেন তৃণে।

          প্রভাত-আলো উঠিত কেঁপে

                    পুলকে কাঁপা বুকে,

          বারণহীন নাচিত হিয়া

                     কারণহীন সুখে।

 

          জীবনধারা অকূলে ছোটে,

          দুঃখে সুখে তুফান ওঠে,

আমারে নিয়ে দিয়েছ তাহে খেয়া,

          বি-চিত্রা হে, বি-চিত্রা,

কালো গগনে ডেকেছে ঘন দেয়া।

          প্রাণের সেই ঢেউয়ের তালে

                    বাজালে তুমি বীণ,

          ব্যথায় মোর জাগায়ে নিয়ে

                    তারের রিনিরিন।

          পালের ‘পরে দিয়েছ বেগে

                   সুরের হাওয়া তুলে,

          সহসা বেয়ে নিয়েছ তরী

                   অপূর্বেরি কূলে।

 

          চৈত্রমাসে শুক্ল নিশা

          জুঁহিবেলির গন্ধে মিশা;

জলের ধ্বনি তটের কোলে কোলে

          বি-চিত্রা হে, বি-চিত্রা,

অনিদ্রারে আকুল করি তোলে।

         যৌবনে সে উতল রাতে

         করুণ কার চোখে

সোহিনী রাগে মিলাতে মিড়

      চাঁদের ক্ষীণালোকে।

কাহার ভীরু হাসির ‘পরে

          মধুর দ্বিধা ভরি

শরমে-ছোঁওয়া নয়নজল

         কাঁপাতে থরথরি।

         হঠাৎ কভু জাগিয়া উঠি

         ছিন্ন করি ফেলেছে টুটি

নিশীথিনীর মৌন যবনিকা,

          বি-চিত্রা হে, বি-চিত্রা,

হেনেছ তারে বজ্রানলশিখা।

     গভীর রবে হাঁকিয়া গেছ,

                 “অলস থেকো না গো।’

      নিবিড় রাতে দিয়েছ নাড়া,

                 বলেছ, “জাগো জাগো।’

 

    বাসরঘরে নিবালে দীপ,

           ঘুচালে ফুলহার,

    ধূলি-আঁচল দুলায়ে ধরা

           করিল হাহাকার।

          বুকের শিরা ছিন্ন করে

          ভীষণ পূজা করেছি তোরে,

কখনো পূজা শোভন শতদলে,-

                    বি-চিত্রা হে, বি-চিত্রা,

          হাসিতে কভু, কখনো আঁখিজলে।

          ফসল যত উঠেছে ফলি

                   বক্ষ বিভেদিয়া

          কণাকণায় তোমারি পায়

                   দিয়েছি নিবেদিয়া।

          তবুও কেন এনেছ ডালি

                   দিনের অবসানে;

          নিঃশেষিয়া নিবে কি ভরি

                   নিঃস্ব-করা দানে।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত