Table of Contents
বিরহ কবিতার মূল তথ্য:
| বিষয়বিবরণ | তথ্য |
| কবিতার নাম | বিরহ |
| কবির নাম | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | ক্ষণিকা |
| প্রকাশের বছর | ১৯০০ (১৩০৭ বঙ্গাব্দ) |
| কবিতার ধরন | রোমান্টিক বিরহের লিরিক (Romantic Elegiac Lyric) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট:
বিরহ কবিতা (সম্পূর্ণ কবিতা):
তুমি যখন চলে গেলে
তখন দুই-পহর–
সূর্য তখন মাঝ-গগনে,
রৌদ্র খরতর।
ঘরের কর্ম সাঙ্গ করে
ছিলেম তখন একলা ঘরে,
আপন-মনে বসে ছিলেম
বাতায়নের ‘পর।
তুমি যখন চলে গেলে
তখন দুই-পহর।
চৈত্র মাসের নানা খেতের
নানা গন্ধ নিয়ে
আসতেছিল তপ্ত হাওয়া
মুক্ত দুয়ার দিয়ে।
দুটি ঘুঘু সারাটা দিন
ডাকতেছিল শ্রান্তিবিহীন,
একটি ভ্রমর ফিরতেছিল
কেবল গুন্গুনিয়ে
চৈত্র মাসের নানা খেতের
নানা বার্তা নিয়ে।
তখন পথে লোক ছিল না,
ক্লান্ত কাতর গ্রাম।
ঝাউশাখাতে উঠতেছিল
শব্দ অবিশ্রাম।
আমি শুধু একলা প্রাণে
অতি সুদূর বাঁশির তানে
গেঁথেছিলেম আকাশ ভ’রে
একটি কাহার নাম।
তখন পথে লোক ছিল না,
ক্লান্ত কাতর গ্রাম।
ঘরে ঘরে দুয়ার দেওয়া,
আমি ছিলেম জেগে–
আবাঁধা চুল উড়তে ছিল
উদাস হাওয়া লেগে।
তটতরুর ছায়ার তলে
ঢেউ ছিল না নদীর জলে,
তপ্ত আকাশ এলিয়ে ছিল
শুভ্র অলস মেঘে।
ঘরে ঘরে দুয়ার দেওয়া,
আমি ছিলেম জেগে।
তুমি যখন চলে গেলে
তখন দুই-পহর,
শুষ্ক পথে দগ্ধ মাঠে
রৌদ্র খরতর।
নিবিড়-ছায়া বটের শাখে
কপোত দুটি কেবল ডাকে
একলা আমি বাতায়নে–
শূন্য শয়ন-ঘর।
তুমি যখন গেলে তখন
বেলা দুই-পহর।

বিরহ সম্পূর্ণ কবিতার Romanized Version:
![ক্ষণিকা কাব্যগ্রন্থের বিরহ কবিতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 2 বিরহ biroho [ কবিতা ] - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর](https://amarrabindranath.com/wp-content/uploads/2021/12/Rabindranath-Tagore-46.jpg)
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ:
- নিথর নিসর্গে বিরহের রূপ:“তটতরুর ছায়ার তলে / ঢেউ ছিল না নদীর জলে, / তপ্ত আকাশ এলিয়ে ছিল / শুভ্র অলস মেঘে।”— দুপুরের খাঁ খাঁ রোদে নদীর জলে ঢেউ নেই, আকাশে অলস মেঘ থমকে আছে। নিথর এই নিসর্গ বিরহী হৃদয়ের স্থবিরতা ও হাহাকারকেই মূর্ত করে তোলে।
- প্রকৃতির শব্দে নিঃসঙ্গতার তীব্রতা:“দুটি ঘুঘু সারাটা দিন / ডাকতেছিল শ্রান্তিবিহীন, / একটি ভ্রমর ফিরতেছিল / কেবল গুন্গুনিয়ে”— তপ্ত দুপুরে ঘুঘুর ক্লান্তিহীন ডাক আর ভ্রমরের গুনগুন শব্দ জনহীন গ্রামের নির্জনতাকে যেমন গাঢ় করে, তেমনি একাকী হৃদয়ের শূন্যতাবোধকেও বহু গুণে বাড়িয়ে দেয়।
- শূন্য গৃহ ও স্মৃতির বিস্তার:“একলা আমি বাতায়নে– / শূন্য শয়ন-ঘর। / তুমি যখন গেলে তখন / বেলা দুই-পহর।”— চারপাশের সবাই যখন ঘরে দুয়ার দিয়ে বিশ্রামে মগ্ন, তখন বাতায়নে বসে বিরহী সত্তা জেগে থাকে। প্রিয়জনের প্রস্থানে শূন্য হয়ে যাওয়া শয়নঘর আর বুকের ভেতরের হাহাকার মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।