আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

মনে মনে দেখলুম mone mone dekhlum [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

মনে মনে দেখলুম

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থ : শেষ সপ্তক [ ১৯৩৫  ]

কবিতার শিরনামঃ মনে মনে দেখলুম

মনে মনে দেখলুম mone mone dekhlum [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

মনে মনে দেখলুম

সেই দূর অতীত যুগের নিঃশব্দ সাধনা

যা মুখর ইতিহাসকে নিষিদ্ধ রেখেছে

আপন তপস্যার আসন থেকে।

দেখলেম দুর্গম গিরিব্রজে

কোলাহলী কৌতূহলী দৃষ্টির অন্তরালে

অসূর্যম্পশ্য নিভৃতে

ছবি আঁকছে গুণী

গুহাভিত্তির ‘পরে,

যেমন অন্ধকার পটে

সৃষ্টিকার আঁকছেন বিশ্বছবি।

সেই ছবিতে ওরা আপন আনন্দকেই করেছে সত্য,

আপন পরিচয়কে করেছে উপেক্ষা,

দাম চায়নি বাইরের দিকে হাত পেতে,

নামকে দিয়েছে মুছে।

হে অনামা, হে রূপের তাপস,

প্রণাম করি তোমাদের।

নামের মায়াবন্ধন থেকে মুক্তির স্বাদ পেয়েছি

তোমাদের এই যুগান্তরের কীর্তিতে।

নাম-ক্ষালন যে পবিত্র অন্ধকারে ডুব দিয়ে

তোমাদের সাধনাকে করেছিলে নির্মল,

সেই অন্ধকারের মহিমাকে

আমি আজ বন্দনা করি।

 

 

তোমাদের নিঃশব্দ বাণী

রয়েছে এই গুহায়,

বলছে–নামের পূজার অর্ঘ্য,

ভাবীকালের খ্যাতি,

সে তো প্রেতের অন্ন;

ভোগশক্তিহীন নিরর্থকের কাছে উৎসর্গ-করা।

তার পিছনে ছুটে

সদ্য বর্তমানের অন্নপূর্ণার

পরিবেষণ এড়িয়ে যেয়ো না, মোহান্ধ।

আজ আমার দ্বারের কাছে

শজনে গাছের পাতা গেল ঝ’রে,

ডালে ডালে দেখা দিয়েছে

কচি পাতার রোমাঞ্চ;

এখন প্রৌঢ় বসন্তের পারের খেয়া

চৈত্রমাসের মধ্যস্রোতে;

মধ্যাহ্নের তপ্ত হাওয়ায়

গাছে গাছে দোলাদুলি;

উড়তি ধুলোয় আকাশের নীলিমাতে

ধূসরের আভাস,

নানা পাখির কলকাকলিতে

বাতাসে আঁকছে শব্দের অস্ফুট আলপনা।

এই নিত্য-বহমান অনিত্যের স্রোতে

আত্মবিস্মৃত চলতি প্রাণের হিল্লোল;

তার কাঁপনে আমার মন ঝলমল করছে

কৃষ্ণচূড়ার পাতার মতো।

অঞ্জলি ভরে এই তো পাচ্ছি

সদ্য মুহূর্তের দান,

এর সত্যে নেই কোনো সংশয়, কোনো বিরোধ।

যখন কোনোদিন গান করেছি রচনা,

সেও তো আপন অন্তরে

এইরকম পাতার হিল্লোল,

হাওয়ার চাঞ্চল্য,

রৌদ্রের ঝলক,

প্রকাশের হর্ষবেদনা।

সেও তো এসেছে বিনা নামের অতিথি,

গর-ঠিকানার পথিক।

তার যেটুকু সত্য

তা সেই মুহূর্তেই পূর্ণ হয়েছে,

তার বেশি আর বাড়বে না একটুও,

নামের পিঠে চড়ে।

বর্তমানের দিগন্তপারে

যে-কাল আমার লক্ষ্যের অতীত

সেখানে অজানা অনাত্মীয় অসংখ্যের মাঝখানে

যখন ঠেলাঠেলি চলবে

লক্ষ লক্ষ নামে নামে,

তখন তারি সঙ্গে দৈবক্রমে চলতে থাকবে

বেদনাহীন চেতনাহীন ছায়ামাত্রসার

আমারো নামটা,

ধিক থাক্‌ সেই কাঙাল কল্পনার মরীচিকায়।

জীবনের অল্প কয়দিনে

বিশ্বব্যাপী নামহীন আনন্দ

দিক আমাকে নিরহংকার মুক্তি।

সেই অন্ধকারকে সাধনা করি

যার মধ্যে স্তব্ধ বসে আছেন

বিশ্বচিত্রের রূপকার, যিনি নামের অতীত,

প্রকাশিত যিনি আনন্দে।

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত