আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

Table of Content

মুর্খু

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থ : শিশু ভোলানাথ [ ১৯২২ ]

কবিতার শিরনামঃ মুর্খু 

মুর্খু murkhu [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

নেই বা হলেম যেমন তোমার

          অম্বিকে গোঁসাই।

আমি তো, মা, চাই নে হতে

          পণ্ডিতমশাই।

নাই যদি হই ভালো ছেলে,

কেবল যদি বেড়াই খেলে,

তুঁতের ডালে খুঁজে বেড়াই

          গুটিপোকার গুটি,

মু’র্খু হয়ে রইব তবে?

আমার তাতে কীই বা হবে,

মুর্খু যারা তাদেরি তো

          সমস্তখন ছুটি।

তারাই তো সব রাখাল ছেলে

          গোরু চরায় মাঠে।

নদীর ধারে বনে বনে

          তাদের বেলা কাটে।

ডিঙির ‘পরে পাল তুলে দেয়,

ঢেউয়ের মুখে নাও খুলে দেয়,

ঝাউ কাটতে যায় চলে সব

          নদীপারের চরে।

তারাই মাঠে মাচা পেতে

পাখি তাড়ায় ফসল-খেতে,

বাঁকে করে দই নিয়ে যায়

          পাড়ার ঘরে ঘরে।

কাস্তে হাতে চুবড়ি মাথায়,

          সন্ধ্যে হলে পরে

ফেরে গাঁয়ে কৃষাণ ছেলে,

          মন যে কেমন করে।

যখন গিয়ে পাঠশালাতে

দাগা বুলোই খাতার পাতে,

গুরুমশাই দুপুরবেলায়

          বসে বসে ঢোলে,

হাঁকিয়ে গাড়ি কোন গাড়োয়ান

মাঠের পথে যায় গেয়ে গান,

শুনে আমি পণ করি যে

          মু’র্খু হব বলে।

 

 

দুপুরবেলায় চিল ডেকে যায়;

          হঠাৎ হাওয়া আসি

বাঁশবাগানে বাজায় যেন

          সাপ খেলাবার বাঁশি।

পুবের দিকে বনের কোলে

বাদল-বেলার আঁচল দোলে,

ডালে ডালে উছলে ওঠে

          শিরীষফুলের ঢেউ।

এরা যে পাঠ-ভোলার দলে

পাঠশালা সব ছাড়তে বলে,

আমি জানি এরা তো, মা,

          পণ্ডিত নয় কেউ।

যাঁরা অনেক পুঁথি পড়েন

          তাঁদের অনেক মান।

ঘরে ঘরে সবার কাছে

          তাঁরা আদর পান।

সঙ্গে তাঁদের ফেরে চেলা,

ধুমধামে যায় সারাবেলা,

আমি তো, মা, চাই নে আদর

          তোমার আদর ছাড়া।

তুমি যদি, মু’র্খু বলে

আমাকে মা না নাও কোলে

তবে আমি পালিয়ে যাব

          বাদলা মেঘের পাড়া।

সেখান থেকে বৃষ্টি হয়ে

          ভিজিয়ে দেব চুল।

ঘাটে যখন যাবে, আমি

          করব হুলুস্থূল।

রাত থাকতে অনেক ভোরে

আসব নেমে আঁধার করে,

ঝড়ের হাওয়ায় ঢুকব ঘরে

          দুয়ার ঠেলে ফেলে,

তুমি বলবে মেলে আঁখি,

“দুষ্টু দেয়া খেপল না কি?”

আমি বলব, “খেপেছে আজ

          তোমার মু’র্খু ছেলে।”

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত