আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

রঙরেজিনী rongrejini [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

রঙরেজিনী

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থ : পুনশ্চ [ ১৯৩২ ]

কবিতার শিরনামঃ রঙরেজিনী

রঙরেজিনী rongrejini [ কবিতা ] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শঙ্করলাল দিগ্‌বিজয়ী পণ্ডিত।

           শাণিত তাঁর বুদ্ধি

                   শ্যেনপাখির চঞ্চুর মতো,

    বিপক্ষের যুক্তির উপর পড়ে বিদ্যুদ্‌বেগে–

                   তার পক্ষ দেয় ছিন্ন করে,

                       ফেলে তাকে ধুলোয়।

রাজবাড়িতে নৈয়ায়িক এসেছে দ্রাবিড় থেকে।

    বিচারে যার জয় হবে সে পাবে রাজার জয়পত্রী।

        আহ্বান স্বীকার করেছেন শঙ্কর,

এমন সময় চোখে পড়ল পাগড়ি তাঁর মলিন।

           গেলেন রঙরেজির ঘরে।

কুসুমফুলের খেত, মেহেদিবেড়ায় ঘেরা।

        প্রান্তে থাকে জসীম রঙরেজি।

মেয়ে তার আমিনা, বয়স তার সতেরো।

        সে গান গায় আর রঙ বাঁটে,

               রঙের সঙ্গে রঙ মেলায়।

বেণীতে তার লাল সুতোর ঝালর,

        চোলি তার বাদামি রঙের,

           শাড়ি তার আশমানি।

বাপ কাপড় রাঙায়,

        রঙের বাটি জুগিয়ে দেয় আমিনা।

 

শঙ্কর বললেন, জসীম,

        পাগড়ি রাঙিয়ে দাও জাফরানি রঙে,

               রাজসভায় ডাক পড়েছে।

কুল্‌ কুল্‌ করে জল আসে নালা বেয়ে কুসুমফুলের খেতে;

আমিনা পাগড়ি ধুতে গেল নালার ধারে তুঁত গাছের ছায়ায় বসে।

ফাগুনের রৌদ্র ঝলক দেয় জলে,

        ঘুঘু ডাকে দূরের আমবাগানে।

    ধোওয়ার কাজ হল, প্রহর গেল কেটে।

পাগড়ি যখন বিছিয়ে দিল ঘাসের ‘পরে

    রঙরেজিনী দেখল তারি কোণে

        লেখা আছে একটি শ্লোকের একটি চরণ–

           “তোমার শ্রীপদ মোর ললাটে বিরাজে’।

        বসে বসে ভাবল অনেক ক্ষণ,

    ঘুঘু ডাকতে লাগল আমের ডালে।

রঙিন সুতো ঘরের থেকে এনে

    আরেক চরণ লিখে দিল–

        “পরশ পাই নে তাই হৃদয়ের মাঝে’।

 

        দুদিন গেল কেটে।

    শঙ্কর এল রঙরেজির ঘরে।

শুধালো, পাগড়িতে কার হাতের লেখা?

           জসীমের ভয় লাগল মনে।

        সেলাম করে বললে, “পণ্ডিতজি,

               অবুঝ আমার মেয়ে,

                   মাপ করো ছেলেমানুষি।

           চলে যাও রাজসভায়–

সেখানে এ লেখা কেউ দেখবে না, কেউ বুঝবে না।’

    শঙ্কর আমিনার দিকে চেয়ে বললে,

           “রঙরেজিনী,

অহংকারের-পাকে-ঘেরা ললাট থেকে নামিয়ে এনেছ

    শ্রীচরণের স্পর্শখানি হৃদয়তলে

        তোমার হাতের রাঙা রেখার পথে।

           রাজবাড়ির পথ আমার হারিয়ে গেল,

                   আর পাব না খুঁজে।’

Share

সাহিত্য ডেস্ক, আমার রবীন্দ্রনাথ, GOLN

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্তৃত সাহিত্যভুবনের একটি নিবেদিত আয়োজন—‘আমার রবীন্দ্রনাথ’-এর সাহিত্য ডেস্ক। এখানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ ও অন্যান্য সাহিত্যকর্ম নিয়ে প্রকাশিত হবে পাঠ, বিশ্লেষণ, আলোচনা ও গবেষণাভিত্তিক লেখা।তাঁর সাহিত্যকর্মের বিষয়, ভাষা, শিল্পরীতি, ভাবনা ও সময়ের প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হবে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা। পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যচিন্তা, চরিত্র নির্মাণ, প্রকৃতি ও মানবজীবনের উপস্থাপন এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়েও থাকবে বিশেষ আয়োজন।রবীন্দ্রসাহিত্যের পাঠ, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যভুবনকে আরও গভীরভাবে জানাই এই ডেস্কের উদ্দেশ্য।

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত