আপনার ভালো লাগতে পারে

রবীন্দ্র রচনাবলী, রবীন্দ্র সঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প, রবীন্দ্রনাথের কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, পত্রসাহিত্য, নাট্যসাহিত্য, চিত্রকলা, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা

রাত্রিরূপিণী কবিতা | ratrirupini kobita | বীথিকা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

Table of Content

রাত্রিরূপিণী কবিতাটি [ ratrirupini kobita ] কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর বীথিকা কাব্যগ্রন্থের অংশ।

রাত্রিরূপিণী ratrirupini

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কাব্যগ্রন্থের নামঃ বীথিকা

কবিতার নামঃ রাত্রিরূপিণী

 

রাত্রিরূপিণী কবিতা | ratrirupini kobita | বীথিকা কাব্যগ্রন্থ | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

হে রাত্রিরূপিণী,

          আলো জ্বালো একবার ভালো করে চিনি।

       দিন যার ক্লান্ত হল তারই লাগি কী এনেছ বর,

                             জানাক তা তব মৃদু স্বর।

                                       তোমার নিশ্বাসে

                   ভাবনা ভরিল মোর সৌরভ-আভাসে।

                             বুঝিব বক্ষের কাছে

                                      ঢাকা আছে

                             রজনীগন্ধার ডালি!

                                      বুঝিবা এনেছ জ্বালি

          প্রসন্ন ললাটনেত্রে সন্ধ্যার সঙ্গিনীহীন তারা–

                   গোপন আলোক তারি, ওগো বাক্যহারা,

                             পড়েছ তোমার মৌন-‘পরে–

                   এনেছ গভীর হাসি করুণ অধরে

                             বিষাদের মতো শান্ত স্থির।

 

                   দিবসে সুতীব্র আলো, বিক্ষিপ্ত সমীর,

                             নিরন্তর আন্দোলন,

                                      অনুক্ষণ

                   দ্বন্দ্ব-আলোড়িত কোলাহল।

                   তুমি এসো অচঞ্চল,

                             এসো স্নিগ্ধ আবির্ভাব,

          তোমারই অঞ্চলতলে লুপ্ত হোক যত ক্ষতি লাভ।

                             তোমার স্তব্ধতাখানি

                                      দাও টানি

                             অধীর উদ্‌ভ্রান্ত মনে।

যে অনাদি নিঃশব্দতা সৃষ্টির প্রাঙ্গণে

          বহ্নিদীপ্ত উদ্দমের মত্ততায় জ্বর

                   শান্ত করি করে তারে সংযত সুন্দর,

সে গম্ভীর শান্তি আনো তব আলিঙ্গনে

                   ক্ষুব্ধ এ জীবনে।

                             তব প্রেমে

          চিত্তে মোর যাক থেমে

অন্তহীন প্রয়াসের লক্ষ্যহীন চাঞ্চল্যের মোহ,

          দুরাশার দুরন্ত বিদ্রোহ।

      সপ্তর্ষির তপোবনে হোমহুতাশন হতে

আনো তব দীপ্ত শিখা। তাহারই আলোতে

          নির্জনের উৎসব-আলোক

পুণ্য হবে, সেইক্ষণে আমাদের শুভদৃষ্টি হোক।

অপ্রমত্ত মিলনের মন্ত্র সুগম্ভীর

          মন্দ্রিত করুক আজি রজনীর তিমিরমন্দির।Amar Rabindranath Logo

Share

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ মে ১৮৬১ – ৭ আগস্ট ১৯৪১; ২৫ বৈশাখ ১২৬৮ – ২২ শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) ছিলেন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, সংগীতস্রষ্টা, প্রাবন্ধিক, চিত্রকর, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি ‘গুরুদেব’, ‘কবিগুরু’ ও ‘বিশ্বকবি’ অভিধায় পরিচিত।রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্মের পরিধি ছিল ব্যাপক ও বৈচিত্র্যময়। তাঁর জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর অব্যবহিত পরে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৪টি উপন্যাস এবং ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন প্রকাশিত হয়। তাঁর ৯৫টি ছোটগল্প *গল্পগুচ্ছ* এবং ১,৯১৫টি গান *গীতবিতান* সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাঁর প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনাবলি ৩২ খণ্ডে *রবীন্দ্র রচনাবলী* নামে সংকলিত হয়েছে। তাঁর পত্রসাহিত্যও *চিঠিপত্র* নামে ১৯ খণ্ডে এবং চারটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্য ও সংগীতের পাশাপাশি চিত্রকলাতেও তিনি বিশেষ অবদান রাখেন; তাঁর আঁকা ছবির সংখ্যা প্রায় দুই হাজার বলে উল্লেখ করা হয়।রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকর্ম বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯১৩ সালে *গীতাঞ্জলি* কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি প্রথম অ-ইউরোপীয় এবং প্রথম এশীয় নোবেলজয়ী সাহিত্যিক হিসেবে বিশ্বসাহিত্যে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

https://amarrabindranath.com/

মন্তব্য করুন

সম্পাদকের পছন্দ

জনপ্রিয়

© ২০২৬ আমার রবীন্দ্রনাথ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত